Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৩ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

সুরমার ভাঙনে দিশেহারা

মো. হাসান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে | প্রকাশের সময় : ৩১ মে, ২০২১, ১২:০৪ এএম

ভাঙছে নদীর তীর। ভাঙছে জনপদ। ভাঙছে শত বছরের বাপ-দাদার বসতবাড়ি। হারাচ্ছেন আপন ঠিকানা।
সুনামগঞ্জে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়ন নুরপুর গ্রাম সুরমা নদীর তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক পরিবার তাদের ফসলি জমি বসতবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আতস্কে রয়েছেন আর শতাধিক পরিবার। যে কোনো মুহূর্তে সুরমার পেটে তলিয়ে যাবে তাদের ফসলিজমি বসতবাড়ি। এতে অনেকেই দুচিন্তায় নির্ঘুম রাত যাপন করছেন।

নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাওয়ানুল আহমদ, আলম মজুমদার পাটান, রইছ মিয়া, তহুর মিয়া, ছায়েদ মিয়া, আব্দুল হামিদ মিয়া, আলাউর রহমান, হাবি রহমান, উমর আলী, শাহাবুদ্দিন, কাওসার আহমেদ, আব্দুল বারিকসহ অনেকে জানান, সুরমা নদীর তীব্র ভাঙনে নিজের জমি হারিয়ে পরের জমিতে ঘর বানিয়ে থাকছি। আমরাও তো এদেশের বাসিন্দা। কেউ আমাদের খোঁজ খবর রাখেনি, তারা তাদের অতীত বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর কথা ইনকিলাবকে জানান। জানান নিজেদের অসহায়ত্বের কথা। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ওপর উদাসীনতার অভিযোগ এনে অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করে বলেন বার বার বিভিন্ন মহলে ভাঙনের ব্যাপারে দাবি জানালেও কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বছর পর বছর নদীর তীব্র ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে এখন উদ্বাবাস্তদের জীবন বেছে নিয়েছি অনেকেই। নদী ভাঙনে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আজও সরকারিভাবে কোনো ধরণের সহায়তার কিংবা পূর্ণবাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর ভাঙন এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন কবলিত অংশ থেকে নিজেদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। দিনদিন ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দা।
জামালগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব এ বিষয়ে বলেন, ভাঙন স্থান দেখেছি। নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের খোঁজ খবর নিয়েছি। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহনান বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ উপজেলার নুরপুর গ্রামের নদীর ভাঙন স্থান সরেজমিনে দেখে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাটিয়েছি। বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুরমার ভাঙন
আরও পড়ুন