Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ০৬ আষাঢ় ১৪২৮, ০৮ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

ফিলিস্তিনের নবী রাসুলগণ-১

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৩০ মে, ২০২১, ১১:৫৯ পিএম

হযরত ঈসা (আ.) এর দুই আড়াই হাজার বছর পূর্বে পশ্চিম ইরাকের বাবেল শহরে (বাগদাদের নিকটবর্তী) আগমন করেন নবীগণের পিতা ইবরাহীম (আ.)। পরে তিনি কিনআন (বর্তমান ফিলিস্তিন)-এ হিজরত করেন। ইবরাহীম (আ.)-এর এক স্ত্রী হাজেরা (আ.)-এর ঘরে জন্ম নেন নবী ইসমাইল (আ.)। আল্লাহর হুকুমে তাদের তিনি মক্কায় রেখে আসেন এবং তারা সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। ইসমাইল (আ.)-এর বংশ থেকে জন্ম নেন শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

অন্য স্ত্রী সারা (আ.)-এর ঘরে জন্ম নেন নবী ইসহাক (আ.) যিনি পিতার সাথে কিনানেই থাকেন। তার পুত্র নবী ইয়াকুব (আ.)। তার অপর নাম হলো ইসরাইল, যার অর্থ আল্লাহর বান্দা। অর্থাৎ ইবরাহীম (আ.)-এর নাতি ইয়াকুবই (আ.) হলেন ইসরাইল, যার নামে বনি ইসরাইলের নামকরণ। বনি ইসরাইল মানে ইসরাইলের বংশধর। ইসহাক (আ.)-এর অন্য পুত্র ইছ এর বংশ থেকে আসেন নবী আয়্যুব (আ.)। ইছ এবং ইয়াকুব জমজ ছিলেন।
ইয়াকুব (আ.)-এর দুই স্ত্রী ছিলেন লাইয়া ও রাহীল। দ্বিতীয় স্ত্রীর পুত্র নবী ইউসুফ (আ.) ও বেনিয়ামিন। প্রথম স্ত্রীর পুত্র লাভী এর পঞ্চম অধস্তন পুরুষ মুসা ও হারুন (আ.) নবী হন। অর্থাৎ ইউসুফ (আ.)-এর সৎ ভাই লাভীর বংশ থেকে মুসা ও হারুন (আ.) নবী হন।

ছোটবেলায় ইউসুফ (আ.) কুয়ায় নিক্ষিপ্ত হন। পরে তাকে মিশরের শাসক কিনে নেয়। এরপর এক সময় তিনি মিশরের অর্থমন্ত্রী ও পরে বাদশাহ হন। বিস্তারিত আল কোরআনের সুরা ইউসুফে বর্ণিত হয়েছে। এক সময়ে ইয়াকুব (আ.) মিশরে চলে আসেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। ইয়াকুব (আ.) বাতুল মুকাদ্দাস পুননির্মাণ করেন। আদম (আ.)-এর সন্তান কর্তৃক ইতোপূর্বে বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মিত হয়েছিল যা ইয়াকুব (আ.)-এর সময় জীর্ণ হয়ে গেলে তিনি তা পুনর্নির্মাণ করেন। এর পরে সুলাইমান (আ.) আবার বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন।

ইউসুফ (আ.) মিশরে মৃত্যুবরণ করেন এবং ফিলিস্তিনের হেবরনে সমাধিস্থ হন। তার সময়ে মিশরে কিবতি ফেরাউনরা ক্ষমতায় ছিল না বরং তখন ক্ষমতায় ছিল হাকসুস বংশ। হাকসুস বংশের দুই শত বছর শাসনের পর আসে কিবতি বংশের ফেরাউন যারা হাকসুসের পূর্বেও মিশর শাসন করেছিল। মুসা ইবনে ইমরান (আ.) ছিলেন ইব্রাহীম এর অষ্টম অধস্তন পুরুষ। একটু উপরেই আমরা বলেছি যে, ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র লাভী এর পঞ্চম অধস্তন পুরুষ মুসা ও হারুন (আ.)।

বনু ইসরাইলরা ইউসুফ (আ.) এর সময় থেকে মিশরে বসবাস করে যখন ইয়াকুব (আ.) তার পুত্র ইউসুফ (আ.) এর আহ্বানে সপরিবারে মিশরে যান। ইয়াকুবই (আ.) হলেন ইসরাইল।
মুসা (আ.)-এর জীবদ্দশায় দুইজন ফেরাউনের মোকাবিলা করেন। ছোটবেলা থেকে বিশ বছর পর্যন্ত রামসেস-২ এবং নবুয়তের পরে তার ছেলে মারনেপথা। আসলে ফেরাউন কোনো রাজার নাম নয় বরং রাজার উপাধি। মাদায়েনে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি রামসেস এর ঘরে লালিত হন। তার পালক মা ছিলেন বিবি আছিয়া। পরে মাদায়েন থেকে গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই পুত্রসহ ফেরার পথে তোয়া উপত্যকায় নবুয়ত পান এবং মিশরে মারনেপথা ফেরাউনের মোকাবিলা করেন। এই মারনেপথাকেই লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মারা হয়।



 

Show all comments
  • Matiur Rahman ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৫ এএম says : 0
    ধন্যবাদ এত সুন্দর উপস্থাপন করার জন্য।
    Total Reply(0) Reply
  • Marazul Kazi ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৫ এএম says : 0
    আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের রক্ষা করো
    Total Reply(0) Reply
  • MD Hasan ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৫ এএম says : 0
    খুব সুন্দর প্রতিবেদন আল্লাহ তায়ালা এই মসজিদকে দাজ্জালী বাহিনী ইয়াহুদীদের হাত থেকে রক্ষা করুক - আমিন
    Total Reply(0) Reply
  • Asaduzzaman Rasel ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৫ এএম says : 0
    আল্লাহ আমাদের প্রথম কেবলা রক্ষা করুন।
    Total Reply(0) Reply
  • Currenncy Exchanger Mahamud ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৬ এএম says : 0
    মনে রাখতে হবে। এটা কোন বিশেষ দেশ বা গোষ্ঠীর মসজিদ না সরা পৃথিবীর মুসলমানদের পবিত্র স্থান। জান মাল সবকিছু দিয়ে এই পবিত্র স্থান রক্ষা করতে হবে।এই নিয়ে মতবিরোধ করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।
    Total Reply(0) Reply
  • Hafij MD Najim ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৭ এএম says : 0
    আল আকসা মসজিদ শুধু ফিলিস্তিনিদের নয় বরং বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহর। তাই আল আকসা রক্ষায় বিশ্বের সকল মুসলিম নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইহুদিবাদি ইসরাইলকে উচিত শিক্ষা দেওয়া ঈমানি দায়ীত্ব ও এখনি সময়ের দাবি।
    Total Reply(0) Reply
  • মুহাম্মদ সাজ্জাদ ৩১ মে, ২০২১, ২:৫৭ এএম says : 0
    প্রিয় আল আক্বসা মুক্তির সংগ্রামী চেতনা বুকে নিয়ে যাদের অবিরাম ছুটে চলা, শাহাদাৎ যাদের একমাত্র ️কাম্য
    Total Reply(0) Reply
  • Al-Amin Miah ৩১ মে, ২০২১, ৭:২৯ এএম says : 0
    যে মসজিদের মর্যাদা স্বয়ং মহান আল্লাহই দিয়েছেন এবং আল্লাহর রাসুল যেখানে সালাতও আদায় করেছেন এবং যেটা মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিলো সেই মসজিদকে ছিনিয়ে নেওয়া এতো সহজ নয়। বায়তুল মোকাদ্দাস(আল-আকসা) আমাদের ছিলো আমাদেরই থাকবে ইন'শা আল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply
  • সাজ্জাদ হোসেন রাজু ৩১ মে, ২০২১, ৭:২৯ এএম says : 0
    মুসলিম রা তাদের অধিকার ছেড়ে কখনো যাবে না। কারণ যুদ্ধের ময়দানে মুসলিমরা শাহাদাত বরণ করে, তুবও যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করে না। বিজয় আসবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Siddiqur Rahman ৩১ মে, ২০২১, ৭:৩০ এএম says : 0
    আল্লাহু আকবর।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Anwar Ahmed ৩১ মে, ২০২১, ৪:৪৪ পিএম says : 0
    Unity of Muslim Umah is highly required . All Muslim Majority should play a active role in this regards. allahumma ameen
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

১৯ জুন, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন