Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৩ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা থানায় নথিভুক্ত

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ জুন, ২০২১, ১:১৯ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ'লীগ নেতাসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বাবা। আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে অবহিত করার জন্য ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। সোমবার সেই মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি স্বপন মিয়া একই ইউনিয়নের আমোদপুর গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে আছমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান নিয়ে উচাখিলা বাজারে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু ওই বাসায় তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক প্রায়ই আসা যাওয়া করতেন।

বিষয়টি নজরে আসে স্বামী স্বপনের এই অবস্থায় স্বপন তার স্ত্রীকে চেয়ারম্যান শফিক বাসায় আসার জন্যে নিষেধ করায় শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের পরামর্শে ২০১৭ সালে স্ত্রী আছমা স্বামী স্বপনকে তালাক দেয়। পরে চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তালাকপ্রাপ্তা আছমা ছেলেকে বাবার কাছে রেখে তিন কন্যাকে নিয়ে উচাখিলা বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যানের বড় ভাইয়ের বাসার সাথে একটি কৃষি বিভাগের সরকারি পরিত্যক্ত ভবন সিড স্টোরে বসবাস শুরু করেন।

কিন্তু এ বাসায় চেয়ারম্যান শফিক নিয়মিত যাতায়াত করার সুযোগে মিথ্যা প্রলোভনে ওই মিস্ত্রির মেয়ের (১৬) সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজি ওষুধ সেবন করান চেয়ারম্যান।

অন্তঃসত্ত্বা থাকায় এমন ঔষধ সেবনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় গত ৯ মে ওই কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে পরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ভর্তির একদিন পর ওই কিশোরী মারা যায়।

এদিকে কিশোরীর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই ঢাকা থেকে এনে বাবাকে না জানিয়ে এলাকায় দাফন না করে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে জামিয়া গাফুরিয়া মাদ্রাসার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

পরে নিহতের বাবা বিষয়টি জানতে পেরে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার বড় ভাই ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হকসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে অবহিত করার জন্য ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরে সোমবার সেই মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, আদালতের আদেশ পেয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে, তদন্ত চলছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন