Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আ’লীগেও মানা হয় না গঠনতন্ত্র

প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিরোধীদল বিএনপির ভেতরে কোনো গণতন্ত্রের চর্চা বা দলটির গঠনতন্ত্র মানা হয় না বলে প্রায় সময়ই দাবি করে আসছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা। গতকাল সোমবারও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মাসিক ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সেতু ও সড়ক যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তাদের (বিএনপি) ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করার জন্য বঙ্গবন্ধু কনভেনশন সেন্টার লাগবে। অবশ্য সম্মেলন করার পর দলটির ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হওয়ার খুব একটা নজিরও নেই। কমিটির সংখ্যা তারা বাড়াচ্ছেই। গণতন্ত্র যদি দলে না থাকে দেশে কিভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন? গণতন্ত্র যদি দেশে চান আপনাদের দলে আগে গণতন্ত্র লাগবে।
আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করতে গিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলের চেয়ে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। আমাদের সম্মেলন একটা নিয়মের মধ্যে হয়। কমিটি হওয়ার পর শেখ হাসিনা ইচ্ছা করলে কমিটির সংখ্যা বাড়াতে পারে না, কমাতেও পারে না। অথচ বিএনপি যাকে ইচ্ছে নিচ্ছে। আবার ইচ্ছে হলে বাদও দিচ্ছে। এই ছোট করছে। আবার জাম্বো জেট সাইজের কমিটি করছে।
অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দলের গঠনতন্ত্রে ৬ মাস পর পর বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিগত আড়াই বছরেও একবার হয়নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের কোনো বৈঠক। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় চার বছরে একবারও হয়নি জাতীয় কমিটির বৈঠক। অথচ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ‘প্রেসিডিয়াম ও জাতীয় কমিটি’। দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগে যেসব দলীয় সিদ্ধান্ত প্রেসিডিয়াম বৈঠকে গ্রহণ করা হত বর্তমানে সাংগঠনিক সব সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা হয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। যে কারণে অন্য ফোরামের বৈঠকের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না বলে দলের নীতি-নির্ধারকরা জানিয়েছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফোরামগুলো ‘কিছুটা অকার্যকর’ হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। একই অবস্থা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের ক্ষেত্রেও। এ পরিষদেরও নিয়মিত বা পৃথক বৈঠক ডাকা হয় না। মাঝে মধ্যে কার্যনির্বাহী সংসদের সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা ডাকা হলেও কার্যত গুরুত্বহীন ফোরামটি।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ এর খ-ধারা অনুযায়ী কার্যনির্বাহী সংসদ বা কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে জরুরি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। দলের একাধিক নীতি-নির্ধারক জানিয়েছেন, একসময় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে প্রেসিডিয়াম ফোরাম। তবে গত ২০০৯ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের পর প্রেসিডিয়ামের গুরুত্ব ও কার্যক্রম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় কাউন্সিলের পর গঠিত বর্তমান প্রেসিডিয়াম অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। দু,একটি সভার পর গত প্রায় আড়াই বছরে এই ফোরামের আর কোনো সভা হয়নি। সর্বশেষ সভা কবে হয়েছে তা প্রেসিডিয়ামের অনেক সদস্য বলতেই পারেন না। তবে দলের দফতর সূত্রে জানা যায়, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই ফোরামের সর্বশেষ সভা হয়েছে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার জাতীয় কমিটির। প্রতি ছয় মাস পর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৪ বছরে এ ফোরামের কোনো বৈঠক হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর। দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না হওয়ায় বিগত দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করছেন দলের নেতারা।
দলের গঠনতন্ত্রের ১৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির মোট সদস্যসংখ্যা হবে ১৬৬ জন। এর মধ্যে প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন করে মোট ৭৩ জন, দলীয় সভানেত্রীর মনোনীত ২১ জন, অন্যান্য ৬ জন। ১৭(খ) অনুযায়ী, জাতীয় কমিটি দলের কাউন্সিল ও কার্যনির্বাহী সংসদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। অনুচ্ছেদ ১৭(ঝ) অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর জাতীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্রের ১৭(ঙ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের হিসাব-নিকাশ ও বাজেটের অনুমোদন দেবেন জাতীয় কমিটির সদস্যরা। কিন্তু ২০১২ সালের পর আর কোনো বৈঠক ডাকা হয়নি।
আওয়ামী লীগের আরেক একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম উপদেষ্টা পরিষদ। দলের থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত এ পরিষদও নিষ্ক্রিয়। গঠনতন্ত্রের ২৬ ধারার (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের একটি কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা থাকবে ৪১ জন। তবে সভাপতি প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে পারবেন। আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, এ পরিষদ এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সেখানে প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা উপস্থিত থাকেন যে কারণে আলাদাভাবে আর প্রেসিডিয়ামের বৈঠক ডাকা হয় না। তিনি জানান, ক্রাইসিস মুহূর্তে প্রেসিডিয়াম বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে তেমন সংকট সৃষ্টি হয়নি তাই সভাও হয়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন