Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ওষুধ শিল্পে অপার সম্ভাবনা

প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:৪০ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

হাসান সোহেল : বিশ্বের ১৩৩টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি করছে। গার্মেন্টস শিল্পের মতোই এ শিল্পের অগ্রগতি উল্লেখ করার মতোই। এতোদিন বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের প্রায় ৯৫ শতাংশ ১২শ’ কোটি টাকার কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন মুন্সিগঞ্জের ওষুধ শিল্পনগরের প্লট বরাদ্দের কাজ শেষ পর্যায়ে। বরাদ্দ শেষ হলেই এ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালও দেশেই উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। এতে ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত দেশের পর্যায়ে চলে যাবে। অথচ বিশ্বের অনেক দেশ ওষুধ শিল্পে পিছিয়েই রয়েছে।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন বলেন, শুধু ওষুধের স্যাম্পল রফতানি করেই এই শিল্প এতোদূর এসেছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। কাঁচামাল দেশেই উৎপাদন করা গেলে বড় একটি খরচ থেকে দেশ বাঁচবে। ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার আরও খুলে যাবে। এটা করতে পারলে পোশাক শিল্পের পরই ওষুধ রফতানি থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবে।
দেশের অন্যতম উদীয়মান শিল্প ওষুধ। অভ্যন্তরীণ ৯৭ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৩৩টি দেশে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ওষুধ উৎপাদনের জন্য ডব্লিউটিও থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্তু মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) আইন মানার বাধ্য-বাধকতা থেকে ছাড় পেয়েছে। অথচ অধিকাংশ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল এখনো দেশে উৎপাদন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশই বিদেশ থেকেই আমদানি করতে হয়। তাই সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্পের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ধরা হচ্ছেÑ ‘কাঁচামাল উৎপাদন’। আর এ কারণে ওষুধ শিল্পের অপার সম্ভাবনার সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলো না বাংলাদেশ। তবে সে দুয়ারও খুলে যাচ্ছে। আগামী মাসেই (অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থিত ওষুধ শিল্পনগরি প্রকল্পের (এপিআই শিল্প পার্ক) প্লট বরাদ্দ শেষ হচ্ছে। এই পার্কে কাঁচামাল উৎপাদনের সব ধরনের সুবিধা সরকার প্রণয়ন করে দিবে। এরপরই সেখানে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনের কারখানা স্থাপন শুরু হবে। ফলে এ খাতে প্রতিবছর ব্যয় হওয়া প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা দেশেই থাকবে। আমদানি খরচ শতকরা ৭০ ভাগ কমে আসবে বলে মনে করছেন বিষেজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডব্লিউটিও ওষুধ শিল্পকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। দেশের ওষুধের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রফতানির মাধ্যমে বিশ্ববাজার থেকে হাজার হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে। তাদের মতে, উচ্চমানের ওষুধ প্রস্তুতকরণ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রেও এ শিল্প বিশ্বের কাছে নিজেদের সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে। তাই বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা, কাঁচামাল উৎপাদনের সুযোগ এবং বিশ্ব বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ওষুধ রফতানিতে এশিয়ার তথা বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি দেশের তালিকায় উঠে আসার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ দেশের ওষুধ খাতের রফতানি বাজার ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তাই এখন কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। তবে ওষুধ শিল্পের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার তাগিদ দেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গত রোববার বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির প্রতিনিধিদলের সাথে এক বৈঠকে অক্টোবরের মধ্যেই এপিআই শিল্পপার্কে প্লট বরাদ্দ হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পেটেন্টেড ওষুধ উৎপাদনের জন্য ডব্লিউটিও থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে তা কাজে লাগাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দ্রুত এপিআই শিল্পপার্ক বাস্তবায়নের এগিয়ে আসতে উদ্যোক্তাদের সহায়তা কামনা করেন। আমির হোসেন আমু বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে, ওষুধ শিল্পখাতে আমদানি ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়বে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও দেশের অধিকাংশ ওষুধের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে ওষুধের কাঁচামালের বাজার ১ হাজার থেকে ১২শ’ কোটি টাকার। প্রতিদিন কয়েক হাজার টন মালামাল আমদানি করতে হচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে আনতে পারলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বর্তমানে কাঁচামাল উৎপাদন করছে। এ পর্যন্ত ৪১টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছে। আরও দুটি আবেদন করেছে। দেশেই ইতোমধ্যে বেক্সিমকো, স্কয়ার, অপসোনিন, ইনসেপ্টা, এক্মিসহ ৩৫টি প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল উৎপাদন করছে।
সূত্র মতে, বিদেশে রফতানির পাশাপাশি দেশের বাজারে এখন বছরে ১৬ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়। বর্তমানে ক্যান্সারের মতো রোগের কিছু ওষুধ ছাড়া অন্য কোন ওষুধ খুব বেশি আমদানি করতে হয় না। কাঁচামাল আমদানি করতে না হলে দেশের প্রয়োজনীয় ওষুধের শতভাগ চাহিদা পূরণ যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি স্বল্পমূল্যে ওষুধের সরবরাহেরও সুযোগ মিলবে। যদিও ক্যান্সারের দুর্লভ ও ব্যয়বহুল ওষুধ এখন দেশেই তৈরি হয়। ক্যান্সার ওষুধের বাজার বেশ বড়। বিশ্ববাজারের তুলনায় কম দাম, উৎপাদন, গুণগতমান, উচ্চমানের ওষুধ প্রস্তুতকরণ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে এ শিল্প নিজেদের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৭ বছর ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের মেধাস্বত্ব আইন মানার বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকছে না। ডব্লিউটিও’র এ সিদ্ধান্তের প্রাণ ফিরে পাবে দেশের ওষুধ শিল্প। ওষুধের উৎপাদন এবং রফতানী বাড়বে; আরো কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার নারী-পুরুষের।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় ৪৬ কোম্পানির প্রায় ৩০০ ধরনের ওষুধ যাচ্ছে বিদেশে। ২০১১-১২ অর্থবছরে রফতানি আয় হয়েছিল চার কোটি ৮২ লাখ ডলার। গত (২০১৫-১৬) অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ২১ লাখ ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় সাড়ে ৬৫০ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় ছয় কোটি ডলারের, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রায় সাত কোটি ডলারের ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত কোটি ২৬ লাখ ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে বাংলাদেশ। ওষুধ শিল্পের এমন অগ্রগতির ফলে গত পাঁচ বছরে রফতানি আয় দ্বিগুণ হয়েছে। আশার খবর হচ্ছে- রফতানি আয়ে বাংলাদেশ এখন শুধু পোশাক শিল্পের ওপরই নির্ভরশীল নয়, ওষুধ শিল্প পরিপূরক হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। অথচ ১৯৯২ সালে ইরান, হংকং, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পেনিসিলিন তৈরির কাঁচামাল রফতানি করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরবর্তী বছরে প্যারাসিটামল গ্রুপের নাপাসহ ১৮ আইটেমের ওষুধ রাশিয়ার বাজারে রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে প্রতিবছরই রফতানির তালিকায় যুক্ত হচ্ছেÑ বাংলাদেশের নতুন নতুন কোম্পানির ওষুধ। সম্প্রতি বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণের নতুন মাইলফলকে পা দিয়েছে দেশ এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানটি হাইপারটেনশনের (কার্ভোডিলল) ওষুধের রফতানি শুরু করেছে। আমেরিকার বাজারে ওষুধ রফতানি শুরু করার মাধ্যমে দেশের ওষুধ শিল্পে নতুন যুগের শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সূত্র মতে, এক সময়ে দেশের চাহিদার ৭০ ভাগ ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। দুই একটি কঠিন রোগের ওষুধ ছাড়া বর্তমানে সেই আমদানি নির্ভরতা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে বর্তমানে ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজার ১৩ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ বাজারকে ছাড়িয়ে প্রতিবছর বিশ্বের ১৩৭টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে দেশের তৈরি ওষুধ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছর বাংলাদেশ ৭২ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রফতানি করেছে। চলতি বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৮০ মিলিয়ন ডলারে। আগামী ১০ বছর এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের ওষুধ খাতের রফতানি বাজার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬৯টি ছোট-বড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪টি ওষুধ কারখানা সচল রয়েছে। এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫ হাজার ব্র্যান্ডের ৮ হাজারের বেশি ওষুধ উৎপাদন করছে। যার মধ্যে বড় ১০টি কোম্পানি দেশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ মিটিয়ে থাকে। বড় ২০টি কোম্পানি বিবেচনায় নিলে তারা মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ সরবরাহ করছে। আর ৪০টি কোম্পানি ১৮২টি ব্র্যান্ডের সহস্রাধিক রকমের ওষুধ রফতানি করে। এই শিল্প প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
ওষুধ শিল্পের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার আগে এখানকার ওষুধ শিল্পগুলো স্থানীয় পর্যায়ের মাত্র ২০ শতাংশ চাহিদা মেটাত। বাকি ৮০ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হতো।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২৫ ধরনের ওষুধ আমদানির জন্য গত বছরের ২৩ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বেলারুশ ওষুধ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া এ বছরের গত ২৪ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা-বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যে সকল পণ্য রপ্তানিতে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে, ওষুধ তার মধ্যে অন্যতম।
গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, মেধাস্বত্ব আইন মানার বাধ্যবাধকতা না থাকায় ডব্লিউটিও আমাদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর দেশেই কাঁচামাল উৎপাদন বিশ্ব বাজারে আমাদের জন্য বড় সুযোগ। ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের বাইরে ওষুধ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনকারী দেশ নেই। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সুবিধা গত ১৪ বছর ধরেও বাংলাদেশের জন্য ছিলো। কিন্তু গুরুত্ব না দেয়ায় আমরা সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। তাই এ শিল্পে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোক্তাদির বলেন, গার্মেন্টস বা অন্য কারো সঙ্গে তুলনা নয়, তবে ডব্লিউটিও’র এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সুযোগ। এটাকে কাজে লাগিয়ে যতদূর এগিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এসএম শফিউজ্জামান বলেন, ওষুধ শিল্প একটি টেকনিক্যাল শিল্প। এর কাঁচামাল আমদানিতে সকল পর্যায় নিয়ে অনেক সময় চলে যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে ওষুধ রপ্তানিতে এশিয়ায় আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। তারা নানা ধরনের এক্সপোর্ট বেনিফিট পেয়ে থাকে। আমাদের এ ধরনের সুবিধা দিলে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে সময় লাগবে না।
এদিকে ডব্লিউটিও’র মেধাস্বত্ব আইন মানার বাধ্যবাধকতা না থাকায় বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। যে কারণে গত ১৪ বছর এই সুবিধা ভোগ করেও ওষুধ শিল্প যে স্থানে যাওয়া দরকার ছিলো, তা পারেনি। এখনো দেশে উৎপাদিত অধিকাংশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। সূত্র মতে, উৎপাদিত ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশই আমদানি করতে হচ্ছে। তাই সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্পের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ধরা হচ্ছে- কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নির্মিত শিল্পপার্কের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়াকে।
ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে এই শিল্প পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এ শিল্প পার্ক স্থাপনের পর কাঁচামাল উৎপাদনে উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ শিল্পপার্কের কাজ শেষ করতে ইতোমধ্যে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। গত জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এর অনেক কাজ বাকি বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা এপিআই শিল্প পার্ক স্থাপন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০৮ সালে। প্রায় ২০০ একর জমিতে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক)।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

Show all comments
  • শাহে আলম ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৪৩ পিএম says : 0
    ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনে এই শিল্প পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
    Total Reply(0) Reply
  • সজিব ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৪৯ পিএম says : 0
    এই সম্ভাবনাকে অবশ্যই ভালো ভাবে কাজে লাগাতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • সালাউদ্দিন ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৫০ পিএম says : 0
    সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্পের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • Anower ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৫১ পিএম says : 0
    very good news for our country
    Total Reply(0) Reply
  • আমজাদ ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৫২ পিএম says : 0
    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নির্মিত শিল্পপার্কের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হচ্ছে না কেন?
    Total Reply(0) Reply
  • Tanvir ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৫৫ পিএম says : 0
    বিশ্ববাজারের তুলনায় কম দাম, উৎপাদন, গুণগতমান, উচ্চমানের ওষুধ প্রস্তুতকরণ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে এ শিল্প নিজেদের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Sorif ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:৫৬ পিএম says : 0
    oek din pore akta valo khabor sunlam
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ