Inqilab Logo

সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮, ২২ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের অবস্থান এখন আরো দৃঢ়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২১, ১২:০১ এএম

ভারতকে শুধু কোভিডের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিই বহন করতে হয়নি, কৌশলগত দিক থেকেও এর পরিণতি ছিল খারাপ। দক্ষিণ এশিয়াকে নেতৃত্ব দিতে ভারতের সীমাবদ্ধতা কোভিডের কারণে স্পষ্ট হয়ে গেছে। দেশটির প্রতিবেশি দেশগুলোতে চীনের অবস্থান এখন আরো দৃঢ়। দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতেও দেখা গেছে রোগিদের জন্য যথেষ্ট চিকিৎসা সুবিধা নেই। এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে যে সংকট তা এরমধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে, এ অঞ্চলের সবথেকে বড় রাষ্ট্র ভারতকে সংকট মোকাবেলায় সবথেকে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ভুটানের থেকেও সাহায্য নিতে হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জোট সার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেখা গেছে, পাকিস্তান এখানে আঞ্চলিক সমস্যার তুলনায় ভারতের সঙ্গে নিজেদের সমস্যা সমাধানেই বেশি আগ্রহী। অপরদিকে ভারত এখানে শুধু নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হিসেবে দেখে এসেছে। কোভিডে ভারত ও পাকিস্তান উভয় রাষ্ট্রই খারাপভাবে ভুগেছে। দুই দেশেরই শহুরে এলাকাগুলোতে কোভিডে হাসপাতালগুলো উপচে পড়েছে। কোভিড ছড়িয়ে পরার দেড় বছর পার হয়েছে। বিশ্বে যত মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন তার ১১ শতাংশের বেশি দক্ষিণ এশিয়ার। মৃতের ৬ শতাংশও এ অঞ্চলের। এ অঞ্চলের মানুষকে কোভিডের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পড়তে হয়েছে। দেশগুলোর স্বাস্থ্যখাতও এই মহামারি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে চীন এই পরিস্থিতির সুযোগে দেশগুলোকে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। ঋণ দিয়ে সাহায্যের চেষ্টা করেছে। প্রথম দিকে ভারত ভ্যাকসিন রপ্তানির মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থা শক্তিশালী করতে পেরেছিল। কিন্তু মার্চ মাসে এসে দেশটির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে ভ্যাকসিনের আভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মে মাস নাগাদ ভারত মাত্র এর মোট জনসংখ্যার ৩.১ শতাংশকে পুরোপুরি ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আনতে পেরেছে। এই হারে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলতে থাকলে দেশের বেশিরভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। অপরদিকে কোভিড মোকাবেলায় পাকিস্তানের সরকারের তরফ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপই দেখা যায়নি। অন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মতো পাকিস্তান মসজিদে নামার পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। ফলাফলে দেখা গেছে, মে মাস পর্যন্ত পাকিস্তানে ৮ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষের কোভিড শনাক্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২০ হাজার। দেশটি তার জনসংখ্যার মাত্র ০.৬ শতাংশকে ভ্যাকসিন দিতে পেরেছে। দেশটি এ জন্য নির্ভর করেছে চীনের দেয়া উপহারের ভ্যাকসিনের ওপরে। দ্যা প্রিন্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীন


আরও
আরও পড়ুন

কাশ্মীর লীগকে স্বীকৃতি না দিতে আইসিসিকে ভারতের চিঠি!

img_img-1627920789

আগামী ৬ আগস্ট থেকে কাশ্মীরে শুরু হতে যাওয়া ক্রিকেট লীগ নিয়ে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। তবে এই লীগ নিয়ে এবারো কড়া অবস্থান নিলো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিসিসিআই। কাশ্মীর ক্রিকেট লীগকে স্বীকৃতি না দিতে এবার আইসিসিকে চিঠি দিলো ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। চিঠিতে বলা হয়, কোনোভাবেই যেন কাশ্মীর প্রিমিয়ার লীগকে (কেপিএল) স্বীকৃতি দেয়া না হয়। -সংবাদ প্রতিদিন কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান-ভারত বিবাদ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে বরাবরই সোচ্চার হয়েছে নয়াদিল্লি। অঞ্চলটিতে নির্বাচন আয়োজনের পর এবার সেখানে ক্রিকেট লীগেরও আয়োজন করতে চলেছে পাকিস্তান। আর সেকারণেই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি বিসিসিআই। পাকিস্তান সুপার লীগ আয়োজন করা নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলেও জাতীয় সুরক্ষার খাতিরে কাশ্মীর প্রিমিয়ার লীগকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না বিসিসিআই। ইতোমধ্যে বিশ্বের সমস্ত ক্রিকেট বোর্ডকে মৌখিকভাবে সেকথাও জানিয়ে দিয়েছেন সৌরভরা। শুধু তাই নয়, এই লীগে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের ভারতে ক্রিকেট সম্পর্কিত সমস্ত কার্যকলাপে নিষিদ্ধ করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। সেই কথাও স্পষ্ট করে ঘোষণা দেয়া হয়। আর এবার এ ব্যাপারে সরাসরি আইসিসিকে চিঠি দিলো ভারতীয় বোর্ড। একটি ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে ভারতীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে বলা হয়েছে, কাশ্মীর নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক বিবাদ রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে। তাই ওই অঞ্চলে আয়োজিত এই ক্রিকেট লীগকে যেন কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেয়া না হয়। এদিকে এই লীগ আয়োজনে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে বিসিসিআইয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।কাশ্মীরে আয়োজিত ক্রিকেট লীগে না খেলার জন্য তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে বিসিসিআই। এমনকি ভারতে প্রবেশের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। এর আগে টুইটে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার হার্শেল গিবস। শুধু গিবস নন, আরেক প্রাক্তন ক্রিকেটার পাকিস্তানের রশিদ লতিফও একই অভিযোগ করেছেন। আর এই নিয়েই উত্তাল ক্রিকেট দুনিয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ