Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৯ আষাঢ় ১৪২৮, ১১ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

যে তুরস্ককে একপেশে করে দেবে সে মূল্যবান একটা বন্ধু হারাবে

উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চান এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তুরস্ককে একপেশে করে ফেলে তাহলে তারা এক মূল্যবান বন্ধুকে হারাবে। আগামী ১৪ই জুন ব্রাসেলসে ন্যাটো সামিটের এক ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত হওয়ার কথা রয়েছে এরদোগানের। তার আগেই বাইডেনকে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। একই সঙ্গে আর্মেনিয়ায় গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেয়ায় বাইডেনের সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিত্রতা ছিল এরদোগানের। কিন্তু জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার হাতবদল হয়। প্রেসিডেন্ট হয়ে আসেন জো বাইডেন। তিনি আগে থেকেই তুরস্ক, সউদী আরবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে আঙ্কারা-ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করলে এরদোগান বলেন, যে তুরস্ককে একপেশে করে দেবে, সে মূল্যবান একটা বন্ধু হারাবে। মঙ্গলবার এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের উত্তেজনার কারণ কি? সেটা হলো তথাকথিত আর্মেনিয়া গণহত্যা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আর্মেনিয়াকে উপদেশ, পরামর্শ দেয়া ছাড়া আপনাদের সামনে কি আর কোনো সমস্যা নেই? এরদোগান-বাইডেন সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর ইচ্ছা আছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এরদোগান। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, তাদের সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন যুগের অগ্রদ‚ত হয়ে আসবে। ২০০৩ সাল থেকে তুরস্কের ক্ষমতায় থাকা এরদোগান বলেন, হোয়াইট হাউজে রিপাবলিক বা ডেমোক্রেট যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন তাদের সাথে সবসময়ই ভারসাম্যপ‚র্ণভাবে কাজ করেছি। অপরদিকে, দীর্ঘদিনের বিবাদ মিটিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। মঙ্গলবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় স¤প্রচারমাধ্যম টিআরটি হাবের-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এমন মনোভাবের কথা জানান তিনি। এরদোগান বলেন, মিসর ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় তুরস্ক। এখানে কেউ হারবে না। বরং নিজ নিজ জায়গা থেকে সবারই জয় হবে। বছরের পর বছর ধরে মিসর ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০১২ সালের ৩০ জুন মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি। এর এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল সিসি। প্রতিবাদে মুরসি সমর্থকরা রাস্তায় নামলে ব্রাদারহুডের প্রায় হাজারখানেক নেতাকর্মীকে হত্যা করে সরকারি বাহিনী। অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয় ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জেনারেল সিসি-র প্রতি সমর্থন জানায় সউদী আরব। অন্যদিকে মোহাম্মদ মুরসি-র পক্ষে জোরালো ভ‚মিকা নেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। এ ঘটনায়ক্ষুব্ধ হয় মিসরের জান্তা সরকার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে মিসরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ২০১৭ সালের ৫ জুন কথিত সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সউদী আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর। পরে ওই অবরোধ প্রত্যাহারে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে সউদী জোট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া, কাতার থেকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা। তবে সউদী জোটের দাবি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো তুরস্কের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ে কাতার। তুরস্কও কাতারের সমর্থনে এগিয়ে আসে। বলা চলে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান একাই সউদী আরবের কাতারবিরোধী অবরোধ ব্যর্থ করে দেন। এ ঘটনা তুরস্কের প্রতি রিয়াদের ক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলের সউদী কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যকান্ডের পর দুই দেশের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বর্বরোচিত ওই হত্যকান্ডের জন্য এমবিএস নামে পরিচিত সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করা হয়। অন্যদিকে সউদী প্রভাব বলয়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র শাসিত অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সউদী আরবে তুর্কি পণ্য বর্জনেরও ডাক দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোয়নে আগ্রহী হয়ে উঠে তুরস্ক। মঙ্গলবার টিআরটি হাবের-কে দেওয়া এরদোগানের সাক্ষাৎকারে সে বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো। আনাদোলু এজেন্সি, দ্য গার্ডিয়ান।



 

Show all comments
  • Nahid Akter Jui Shah ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৫ এএম says : 0
    Mashallaha strong powerful president of the Muslim country
    Total Reply(0) Reply
  • Smah Bablu ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৫ এএম says : 0
    Great leaders approach indeed. We proud of him, all time salute to my Leader !
    Total Reply(0) Reply
  • M A Rashid ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৫ এএম says : 0
    Imandar kono bekti ba rasto voy kore na. Voy kore sudhuei tar Allah k insaallah muslimder bijoy ekdin asbei. Hoyto sedin aponi ami thakbo na.
    Total Reply(0) Reply
  • Md Sajoel Shakh Job ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৬ এএম says : 0
    রক্তে ভাসছে তার জন্যে সম্পূর্ণ দায় মুসলমানের। মুসলমান ইচ্ছা করলে এখনই সারা পৃথিবী শাসন করার ক্ষমতা রাখে।কিন্তু আমরা চলছি উল্টো পথে। আরো রক্ত ঝরবে মুসলমানের
    Total Reply(0) Reply
  • B M Munna ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৬ এএম says : 0
    এমন নেতৃত্বই চায় মুসলিম বিশ্ব
    Total Reply(0) Reply
  • Faruque Hossain ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৬ এএম says : 0
    যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল একই মুদ্রার দুই পিট ।এরা নিপাত যাক ।
    Total Reply(0) Reply
  • পান্না মোল্লা ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৬ এএম says : 0
    আমরা মুসলিম আমরা চির রন বীর এক আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে নত নাহি করিব শির
    Total Reply(0) Reply
  • Mizanur Rahman ৩ জুন, ২০২১, ৪:৪৭ এএম says : 0
    যাহারা খমতার অপ বেভোহার করে তাদের অধপতন নিশ্চিত হবেই,
    Total Reply(0) Reply
  • Dadhack ৩ জুন, ২০২১, ১২:৪৫ পিএম says : 0
    Muslim world should unite one banner of Islam like the Past, One Caliph: Allah mentioned in The Our'an: সূরা: আল-আনফাল:আয়াত:73: “এবং যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তারা একে অপরের মিত্র, [এবং] যদি আপনি [সমগ্র বিশ্বের মুসলমানগণ সম্মিলিতভাবে] তা না করেন [যেমন: মিত্র হয়ে যান, যেমন ঐক্যবদ্ধভাবে এক খলিফা] (সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রধান মুসলিম শাসক) ইসলামী একেশ্বরবাদের ধর্মকে বিজয়ী করার জন্য, পৃথিবীতে ফিতনা [যুদ্ধ, ধর্ষণ, ব্যভিচার, খুন, শিরক] এবং নিপীড়ন থাকবে এবং একটি মহান দুষ্টামি এবং দুর্নীতি বিশ্বের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়বে।” We muslim are most hated and oppressed in the world because they ruled by Kafir law and they are the friend of Kafir, these muslim ruler kill their own people, commit genocide. people disappear forever and they never come back to their family, it happening in Bangladesh frequently, the Government become 100% নরপিচাশ ও পাষণ্ড ওদের মনের মধ্যে সরিষা দানার মত মানবিক গুণাবলী নাই .
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এরদোগান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ