Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সার্চ কমিটি গঠনে কাজ শুরু করেছে সরকার

ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ

প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সার্চ কমিটির মাধ্যমে সিইসি ও ইসি নিয়োগ দিবেন। এ লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আসছে ফেব্রুয়ারিতে গঠন হবে নতুন নির্বাচন কমিশন। কমিশন পুনর্গঠনে তাই নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিচ্ছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফেরাতে শক্তিশালী কমিশন প্রয়োজন। সরকার না চাইলে তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পায় কাজী রকিবউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী- এই কমিশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। বাকী মাত্র পাঁচ মাস। রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুর রহমান। যদিও তাতে আপত্তি ছিল সে সময়কার প্রধান বিরোধী দল বিএনপির। এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন পুনর্গঠন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। সংবিধানের নির্দেশনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে আইন প্রণয়নের। কিন্তু চার দশকেও তা করেনি কোনো সরকার। এমনকি নির্বাচন কমিশনারদের নিযোগে এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন বেশ কিছু প্রস্তাবনা রেখে গেলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আস্থা অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই গঠন হতে পারে নতুন কমিশন। তবে যে প্রক্রিয়াতেই হোক না কেন কমিশনে নিয়োগ পেতে পারেন এমন যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আবারও ‘সার্চ কমিটি’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট যথাসময়ে সংবিধান অনুসারে ইসি নিয়োগ দেবেন। সংবিধানের আলোকে প্রেসিডেন্ট সবসময় সিইসি ও ইসি নিয়োগ দিলেও ২০১২ সালে সর্বশেষ কমিশন হয় সার্চ কমিটির মাধ্যমে। সে সময় প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুুর রহমান। যদিও কোন দলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে নামের সুপারিশ তৈরি করতে চার সদস্যের সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুর রহমান। প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপীল বিভাগের একজন বিচারককে সভাপতি করে গঠিত কমিটিতে সদস্য ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। ওই কমিটি বিদায়ী সিইসি শামসুল হুদাকে রাখার সুপারিশ করে। এবারও প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সাথে সংলাপে বসে অধিকাংশ দলই সার্চ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল। ইসি গঠন নিয়ে ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ২৩টি দলের মতামত নেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোঃ জিল্লুর রহমান। ওই সংলাপে অধিকাংশ দলই সংবিধান অনুসারে সিইসি ও ইসি নিয়োগে আলাদা আইন করা বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনের পক্ষে মত দেয়।
সংবিধানের ১১৮(১) এ বলা হয়েছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া এবং রাষ্ট্রপতি সময়ে সময়ে যে রূপ নির্দেশ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দান করিবেন।’
সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এ এখতিয়ার প্রয়োগে প্রেসিডেন্ট স্বাধীন নন। ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে এ নিয়োগ দিতে হয়। যোগ্যতার শর্তাবলী না থাকায় যে কোনও ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ফাইল উত্তোলন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ