Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮ আষাঢ় ১৪২৮, ১০ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

আমলাদের খুশি করা হচ্ছে কৃষক-মধ্যবিত্ত অনুপস্থিত

‘সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টিতে বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ জুন, ২০২১, ১২:০২ এএম

বাজেটে আমলাদের খাতির এবং বড় ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের সুবিধা দেয়া হলেও কৃষক, মধ্যবিত্ত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুই করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, সরকার চুইয়ে পড়া ক্ষমতাসীন দলের অর্থনীতির কৌশল চুইয়ে পড়া অর্থনীতির দিকে। অর্থমন্ত্রী এটার উপরেই গুরুত্ব দিয়েছেন। শিল্পকারখানা, ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতি হলে সকল স্তরের মানুষের দিকে তাকাননি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের বীর উত্তম মেজর হায়দার মিলনায়তনে ‘সচেতন নাগরিকদের দৃষ্টিতে ২০২১-২২ জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা প্রস্তাবিত বাজেটের এভাবে মূল্যায়ন করেন। তারা আরো বলেন, সরকার জনগণের না হওয়ায় ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট সাধারণ মানুষের জন্য দেয়া হয়নি। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কিংবা জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার পাবো তারা জনগণের কাঙ্খিত বাজেট দেবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নানা পর্যায়ে আলোচনা হওয়া উচিৎ। প্রথম কথা বাজেটের তিনটি দিক। বরাদ্দ, ক্ষমতাসীন দলের অর্থনৈতিক কৌশল ও চলমান বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন। কৌশলের পেছনে অর্থনৈতিক দর্শনও কাজ করে। ক্ষমতাসীন দলের অর্থনীতির কৌশল থাকে চুইয়ে পড়া অর্থনীতির দিকে। অর্থমন্ত্রী এটার উপরেই গুরুত্ব দিয়েছেন। শিল্পকারখানা, ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতি হলে সকল স্তরের মানুষ আস্তে আস্তে সুবিধা পাবে। এটাই এই নীতির মূল দর্শন। জিডিপির বৃদ্ধি চুইয়ে পড়া অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটার অসাড়তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে বড় শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক ওনার শ্রেণির খুব বেশি মানুষ নেই। ক্যাপাসিটির তুলনায় আমরা ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিকে ৯ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়। শিক্ষা খাতের অবস্থা আপনারা জানেন। ছেলে মেয়েদের যে ঘাটতি হয়ে গেছে। এটা লাঘবে বরাদ্দ দেয়া উচিৎ ছিল। চায়না থেকে আমরা ১০ ডলারে ভ্যাকসিন কিনেছি। ভ্যাক্সিনেশনের জন্য অনেক পরিমাণ বরাদ্দ দরকার। কিন্তু তা দেয়া হয়নি। বিনা ভোটের সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আমলাদের খুশি করা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাজেট হওয়া উচিৎ নাগরিকদের জন্য। আমি বাজেটটি দেখার চেষ্টা করেছি অর্থমন্ত্রীর শ্রেণি চরিত্রের আলোকে। বাজেটের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার পেশা ও শ্রেণির প্রভাব পড়েছে। বাজেটে দুর্নীতিকে বহাল রাখার ফাঁক রয়ে গেছে। এটার উল্টোটা হওয়া উচিৎ ছিলো। তাদের সংসদে আসার আগে সবার সাথে আলোচনা করা উচিৎ ছিল। বাজেটের ব্যাপারে আমলাদের খাতির করা হয়েছে। কারণ হলো ওনার পেশা। চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হিসেবে উনি একটি শ্রেণিকে অনেক সুবিধা দিয়েছেন। আমলাদের বেতন অনেক বাড়ানো হয়েছে। গাড়ি কেনার জন্য ত্রিশ লাখ টাকা দেয়া হয়। পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়া হয় তা মেন্টেন করার জন্য। উপকার পেয়েছে উচ্চ শ্রেণি। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ কিন্তু মনোবৃত্তিটা পরিবর্তন হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, তথা কথিত সংসদ আমি মনে করি এটা বৈধ কোনো সংসদ নয়। তারা রাষ্ট্র চালাচ্ছে, বাজেট দিয়েছি সে কারণে আমরা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি। এই তথা কথিত সংসদেও আলোচনা হয়েছে যে, মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ডিপো হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সেই দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি যারা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেছে তাদের গলা চেপে ধরছে কারা? আমলারা যারা এই বিনা ভোটের সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছে। যখন আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব সেটা হোক গণ-আন্দোলনের মধ্যদিয়ে কিংবা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কিংবা জাতিসংঘের অধীনে। সে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আমরা যে সরকার পাব তখন আমরা জনগণের কাঙ্খিত বাজেট নিয়ে হয়তো আলোচনা করতে পারবো।

জোনায়েদ সাকি বলেন, বাজেট হচ্ছে সরকারের আর্থিক নীতি। শুধু বরাদ্দ দিয়ে এটা বোঝা যায় না। যদি নীতিটাই ভুল হয় তাহলে বরাদ্দ বেড়ে লাভ নেই, বরং ক্ষতি। এখন সরকার স্বীকারই করতে চায় না যে আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যে তথ্য দিচ্ছে সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। কারণ তাহলে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।



 

Show all comments
  • Dadhack ১১ জুন, ২০২১, ৬:৩০ পিএম says : 0
    আল্লাহর আইন থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ,চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবনের সুরক্ষা মানুষ হিসাবে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা সবি হত, যেহেতু আল্লাহর আইন নাই সেহেতু তারা নিজের ইচ্ছামত আমাদের টাকাগুলো ব্যবহার করবে আর আমরা সবসময় কষ্ট করেই মরবো.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আমলা

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ