Inqilab Logo

বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

অবিলম্বে সকল বিদেশগামী কর্মীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনুন সংবাদ সম্মেলনে- ফোরাব নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ জুন, ২০২১, ২:০১ পিএম

অনতিবিলম্বে সকল বিদেশগামী কর্মীকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ফিমেল ওয়ার্কার রিক্রুটিং এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফোরাব)। বিমানের উচ্চ মূল্যে টিকিট ক্রয় এবং সউদীতে ব্যয়বহুল হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকায় ব্যয়ভার বহন করে কর্মীদের বিদেশের কর্মস্থলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিদেশগামী কর্মীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। আজ সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি হলে ফিমেল ওয়ার্কার রিক্রুটিং এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফোরাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরাব মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ফোরাব সভাপতি আব্দুল আলিম। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ফোরাবের সিনিয়র সহসভাপতি কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ আবুল বাশার, বায়রার সাবেক শীর্ষ নেতা নূরুল আমিন, নাসির উদ্দিন মজুমদার (সিরাজ), অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন, এমডি সোলাইমান, মতিউর রহমান,আহসান হাবিব রাজু, রাওয়াব এর মহাসচিব মাহফুজুর রহমান, মিয়া মোহাম্মদ উল্লাহ,শাহ আলম চৌধুরী, জাহিদ হোসেন, আব্দুস সালাম বাবু,ওয়ামিউল কবির, মো. আলী আজম জালাল, এমডি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও দেলোয়ার হোসেন জসিম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর এই মহাদুর্যোগের সময়ে রাষ্ট্রের প্রধানত অর্থনৈতিকনির্ভরতা দিয়েছে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্সের এই ধারা ক্রমান্বয়ে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করছে। প্রবাসীদের এই অর্জন আমাদের নতুন করে আশা জাগায় এবং গৌরবান্বিতকরে। দেশের এই অর্জনকে দীর্ঘ স্থায়ী করতে হলে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এখনই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শ্রমিক প্রেরণকারী দেশগুলো যেভাবে তাদের বিদেশগামী কর্মীদের আভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কোভিড-১৯ প্রতিরোধটিকা দিচ্ছে। বাংলাদেশেও রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কল্যাণে এরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ টিকার অপ্রাপ্যতা থাকার কারণে কেবলমাত্র ৪০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিদের টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে বিদেশগামী কর্মীদের বয়সসীমা সাধারণত ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেই হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সউদী আরবে যাওয়ার জন্য বিদেশগামী কর্মীদের একদিকে উচ্চমূল্যে বিনিময়ে বিমানের টিকেট ক্রয় করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যয় বহুল হোটেলে ৭ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে একজন বিদেশগামী কর্মীকে টিকিটসহ লক্ষাধিক টাকা জোগার করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিদেশগামী কর্মীর করোনা টিকা দেয়া হলে তাদের সউদীতে হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতো না। এই ব্যয়ের মাত্র ২৫ হাজার টাকা একজন বিদেশগামী কর্মীকে সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে। অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে জনশক্তি রফতানির খাত ক্রমান্বয়ে বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।

করোনার প্রথম ধাক্কার পর ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, মিশর প্রভৃতি দেশ থেকে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে এখনও কর্মী প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে। অভিবাসন প্রত্যাশি কর্মীদের টিকা প্রদানের বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নিয়োগকারী দেশসমূহ বাংলাদেশ থেকে কর্মী গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন অনীহা প্রকাশ করবে না ।

কোভিট-১৯ প্রতিরোধ টিকার প্রথম ডোজ হতে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের মধ্যবর্তী এক মাস সময় অতিবাহিত হয়, যা একজন অভিবাসী কর্মীর জন্য সময় সাপেক্ষ ও বিরম্বনামূলক। নেদারল্যান্ডভিত্তিকঔষুধ কোম্পানী জনসন এন্ড জনসন কোভিড-১৯ টিকা বিদেশগামী কর্মীদের দেয়া হলে জনশক্তি রফতানির খাত বাধাগ্রস্ত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসী কর্মীদের জন্য অনতিবিলম্বে জনসন কোভিড-১৯ টিকা বা এরূপ যেকোন প্রতিরোধমূলক টিকা আমদানি করে বিদেশগামী কর্মীদের প্রদানের জন্য জোর দাবি জানানো হয়। বর্তমানে আমদানিকৃত ফাইজার প্রতিরোধমূলক টিকাটি অন্তত: ৫০ হাজার ডোজ অভিবাসীকর্মীদের জন্য জরুরিভিত্তিতে বরাদ্দকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংবাদ সম্মেলন


আরও
আরও পড়ুন