Inqilab Logo

শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সিলেটে এক দিনমজুরের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০২১, ৪:২০ পিএম

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটে এক দিনমজুরের স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আশংকাজনক অবস্থায় দিনমজুর হিফজুরকে ভর্তি করা হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতের কোনও এক সময় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে আজ বুধবার (১৬ জুন) সকালে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের লাশ ময়নাতদেন্তর জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হিফজুর রহমানকে (৩৫)। এদিকে হৃদয়বিদারক এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ডিআইজিসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন ঘটনাস্থল। সেই সাথে পুলিশের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে হিফজুরের মামা ও কয়েকজন আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে জায়গা সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমানের জ্ঞান এখনও ফিরিনি। তবে তার চিকিৎসা চলছে পুলিশ পাহারায়।


পরিদর্শনকালে ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক ইউনিট সক্রিয়। কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারবো বলে আশাবাদী আমরা। এছাড়া তিনি বলেন,
ভিকটিম হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত। আর পাশের আরও দুটি ঘরে তার মামারা থাকতেন। হিফজুর দিনমজুরের কাজ কওে সংসার চালাতেন। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের মামা সহ আত্মীয়দের। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ। পরিবারের কর্তা হিফজুরের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। জ্ঞান ফিরেনি এখনও। জ্ঞান ফিরার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাকে। হামলাকারীরা শিশু দুটি গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে। আর শিশুদের মা আলেয়া বেগমের বুকে, পিঠ সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত রয়েছে ধারালো অস্ত্রের। সেই সাথে রয়েছে হিফজুরের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মামার বাড়ির সাথে ঝামেলার কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। কারণ হিফজুর রহমান দীর্ঘদিন থেকেই মামার বাড়িতে থাকছেন। এটি হয়তো মামার বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেননি। তবে হত্যা ঘটনায় সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ নয়, হিফজুর রহমানকেও। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আমরা যে বটি দা উদ্ধার করেছি তা কুমড়া পাতা দিয়ে মোড়ানো ছিল।


ঘটনাস্থল পরিবর্দশনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ (অপরাধ) আশিশুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ প্রবাস কুমার সিংহ, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ, জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর, ইন্সপেক্টর জৈন্তাপুর ফারুক আহমেদ, ইন্সপেক্টর তদন্ত দীলিপ কান্ত নাথ, ওসি ডিবি মোঃ সাইফুল ইসলাম।
প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্র মতে, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। ভেতর থেকে ঘুঙ্গানির শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা। এসময় খোলা ছিল ঘরের দরজা। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে ৩ জনের জবাই করা ও কুপানো মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত দেখে খবর দেন পুলিশে তারা। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মহসিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) আবদুল আহাদ বলেন, বটি দা দিয়ে কুপিয়ে কে বা করা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঘটনার কারণ খুঁজে দেখছে পুলিশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হত্যা


আরও
আরও পড়ুন