Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

আদালতকে জানায়নি দুদক মামলা হয়েছে কি-না

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০২১, ১২:০৮ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তৎকালিন ১৭ সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্ত চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিটের আদেশ ২১ জুন। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে এ তারিখ ধার্য করেন। এর আগে হাইকোর্ট রুল জারি করলেও রুলের জবাব দেয়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমনকি ১৭ সিবিএ নেতার দুর্নীতির ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়েছে কি-না সেটিও জানানো হয়নি।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়া এডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, বিমানের তৎকালিন সিবিএ নেতা মো. মশিকুর রহমানসহ তৎকালীন বিমানের ১৭ জন সিবিএ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে করা রিটের রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষযে আদেশের জন্য আগামী সোমবার তারিখ ধার্য করা হয়েছে। রিটে সরকারপক্ষে রুলের শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
এর আগে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে ওই ১৭ নেতার বিরুদ্ধে দুদকের পদক্ষেপ জানতে চান। আমিন উদ্দিন মানিক জানান, গত ২৮ জানুয়ারি একই আদালত ২০১৪ সালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭ সিবিএ নেতাকে পাঠানো দুদকের দেয়া নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা দুদকের কাছে জানতে চান। নোটিশের পর নেয়া পদক্ষেপ ৭ দিনের মধ্যে দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষের কাছে জানতে চেয়ে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তারই আলোকে শুনানির নির্ধারিত দিনে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অগ্রগতি দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মো. মশিকুর রহমানসহ বিমানের ১৭ জন সিবিএ নেতার দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের আদেশ দেন। ২০১৪ সালে করা একটি রিটের জারিকৃত রুলের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, বিমানের সিবিএ নেতা মো. মশিকুর রহমান, আজাহারুল ইমাম মজুমদার, আনোয়ার হোসেন, মো. ইউনুস খান, মো. মনতাসার রহমান, মো. রুবেল চৌধুরী, মো. রফিকুল আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. হারুনর রশিদ, আবদুল বারী, মো. ফিরোজুল ইসলাম, মো. আবদুস সোবহান, গোলাম কায়সার আহমেদ, মো. আবদুল জব্বার, মো. আবুল কালাম, আসমা খানম ও মো. আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের জন্য ২০১৪ সালে দুদক নোটিশ দেয়। তবে তারা হাজির হতে অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এইচআরপিবি’র পক্ষে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন।


রুলে দুদকের পদক্ষেপ গ্রহণে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- জানতে চাওয়া হয়। এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ওই রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল আদালতে। কোনো ব্যক্তিকে দুদক থেকে নোটিশ দেয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সে বিষয়ে সাড়া না দিলে দুদক আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে পারে। অথচ ১৭ সিবিএ নেতার ক্ষেত্রে কোনো মামলা হয়েছে কি-না, তা আদালতকে জানানো হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে আদালত এ আদেশ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দুদক

২৫ জুলাই, ২০২১
১৫ জুন, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ