Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

ম্যারাডোনাকে অবহেলায় ‘হত্যা’ করেছেন চিকিৎসকরা!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০২১, ১২:০৮ এএম

ডিয়েগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন গত বছরের ২৫ নভেম্বর। এরপর তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা যেন থামার নাম নেই! আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তির মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের আওতাধীন রয়েছেন এক সেবিকা (নার্স)। এই সেবিকার আইনজীবীর দাবি, অবহেলায় ম্যারাডোনাকে হত্যা করেছেন চিকিৎসকেরা। তদন্তে কৌঁসুলিরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন সেবিকা দাহিয়ানা গিজেলা মাদ্রিদকে। তার আইনজীবী রডোলফো বাকু সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘তারা (চিকিৎসক) ম্যারাডোনাকে হত্যা করেছেন।’
মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার ও নানাবিধ শারীরিক জটিলতা নিয়ে গত বছর নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মারা যান ৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তি। এর আগে বিশেষজ্ঞদের বোর্ড ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে নেমে তার প্রতি অবহেলার নজির খুঁজে পান। পর্যাপ্ত সেবা তাঁকে দেওয়া হয়নি এবং ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য’ তাঁকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, এমন নজির খুঁজে পায় বিশেষজ্ঞ বোর্ড। এরপর সাতজনকে তদন্তের আওতায় আনা হয়। গিজেলা মাদ্রিদ তাঁদের একজন। রডোলফো বাকুর দাবি, মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা ম্যারাডোনার দেখাশোনা করছিলেন, তার মক্কেল গিজেলা মাদ্রিদ নন। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে এই সেবিকাকেও দোষারোপ করা হয়েছে। এই আইনজীবি বলেন, ম্যারাডোনার হৃৎপিন্ডের চিকিৎসা করা হচ্ছিল।
একই সময়ে তিনি মনোরোগের ওষুধও খাচ্ছিলেন, যে কারণে তার হৃদন্ত্রের গতি বেড়ে যায়। ম্যারাডোনা নাকি হাসপাতালে একবার পড়েও গিয়েছিলেন। তখন সেবিকা গিজেলা মাদ্রিদ তাঁকে স্ক্যান করানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ম্যারাডোনা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সংবাদমাধ্যম জানলে বিষয়টি ভালো দেখাবে না। প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গিজেলা মাদ্রিদকে। এই জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমকে বাকু বলেন, ‘ম্যারাডোনার ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার অনেক সতর্কবার্তা ছিল। চিকিৎসকেরা প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা করেননি।’
দিনের বেলায় ম্যারাডোনার দেখাশোনা করতেন গিজেলা মাদ্রিদ এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে জীবিত অবস্থায় দেখা শেষ ব্যক্তিদের একজন তিনি। ম্যারাডোনার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচারের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন নিউরোসার্জন লিওপোল্ড লুকু। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন তার দুই মেয়ে। মামলাটি আদালতে ওঠার পর ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিলে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে ৮ থেকে ২৫ বছরের সাজা হতে পারে। এর আগে সাক্ষ্য দিতে দিয়ে তিনি জানান, ম্যারাডোনাকে মৃত অবস্থায় দেখার পর তিনি তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। ম্যারাডোনার রাতের সেবিকা রিকার্ডো আলমিরনকেও এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ম্যারাডোনা


আরও
আরও পড়ুন