Inqilab Logo

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৯ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভক্ত জাবি শিক্ষক সমিতি

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ জুন, ২০২১, ৭:১৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য প্রকাশ করেছে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গত ৮ই জুন শিক্ষক সমিতির নির্বাহী পরিষদ ২০২১ নির্বাচনী আলোচ্যসূচি নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ১০৪ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন ও ৩০ জন শিক্ষক বক্তব্য পেশ করেন।

সেখানে অধিকাংশ সদস্য মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে মত দেন। ফলে সভায় বর্তমান নির্বাহী পরিষদ (২০২০) এর মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া অচিরেই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপারে আলোচনা হয়।

কিন্তু সভায় ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পয়েন্ট অফ অর্ডারে অবহিত করেন যে শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রের ৬(৪) ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য জরুরী সাধারণ সভার পরিবর্তে সাধারণ সভা আহ্বান করা বাঞ্ছনীয়।

পরে সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন সকলের সম্মতির ভিত্তিতে জরুরী সাধারণ সভাটিকে সাধারণ সভায় রূপান্তরের বিষয়ে রুলিং দেন।

গত ১২ই জুন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ‘সভাপতি মহোদয় উপস্থিত সকল সহকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে জরুরী সাধারণ সভাটিকে সাধারণ সভায় রূপান্তরের বিষয়ে রুলিং দেন। তাই নির্ধারিত আলোচ্যসূচি ছাড়াও সম্মানিত সহকর্মীগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।’

কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ‘অনলাইন মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। স্বশরীরে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ যাচাই বাছাই সম্পন্ন করে উপযুক্ত প্রার্থীকে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষকগণ মত প্রকাশ করেন।’

এব্যাপারে সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, ‘সাধারণ সভায় সভাপতি আলোচ্যসূচী অনুমোদন করে থাকে। সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি। কারণ অনলাইন নিয়োগের ব্যাপারে সাধারণ সভা উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। মাত্র একজন শিক্ষক বিষয়টি উত্থাপন করেন। যে ব্যাপারে অন্য কোন শিক্ষক মতামত পেশ করেনি। ফলে সাধারণ সভার মর্যাদা রক্ষার্থে আমাকে আরো একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়েছে।’

এদিকে ১৬ই জুন সভাপতি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ৮ই জুন ২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার কার্যবিবরণী হিসেবে ইতোমধ্যে প্রচারিত (সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত) বক্তব্য সমিতির সভাপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং অনুমোদিত নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সভায় ৩ জন সদস্য এজেন্ডার বাইরে কিছু প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। কিন্তু এসব বিষয় এজেন্ডাভুক্ত করার জন্য কেউ প্রস্তাব করেননি। সভায় এজেন্ডার বাইরে যে সব প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে সেসব বিষয় নির্বাহী পরিষদ অথবা পরের সাধারণ সভায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

এব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তাদের আপত্তির মূলে রয়েছে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সাধারণ সভায় সহকর্মীদের উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনাটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করায়। কারণ এতে উপাচার্য বিব্রত হবেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের প্রকৃত বিষয়টি প্রকাশ করা আমার কর্তব্য।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির যেকোন বিজ্ঞপ্তি সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে প্রচারিত হয়। এবারেও তাই হয়েছে। আমি এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে সভাপতিকে প্রেরণ করেছি। তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। পরে সমিতির সদস্য অধ্যাপক বশির আহমেদকে প্রেরণ করি। তিনিও সেটি লক্ষ্য করেননি। ফলে গত ৮ই জুনের সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছিলো। অবশেষে ১২ই জুন আমার উদ্যেগে সেটি প্রকাশ করা হয়।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘এখানে একটি কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়েছে। সাধারণত কার্যবিবরণীর ড্রাফট আমি করে থাকি। এবার অসুস্থ্য থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক সভাপতির সাথে আলোচনা না করেই কার্যবিবরণী প্রকাশ করেন।’

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ