Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৩ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সরকার লুটেরা অর্থনীতি চালু করেছে: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২১, ৬:০৮ পিএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশে লুটেরা অর্থনীতি চালু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছরে আমাদের যত অর্জন ছিল তার সবকিছু এই সরকার শেষ করে দিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সব শেষ করেছে। চালু করেছে লুটেরা অর্থনীতি। যেখানে সম্পূর্ণ লুট ছাড়া আর কিছু হয় না। ১০ হাজার কোটির টাকার একটা প্রজেক্ট হয়ে যায় ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকা এবং এই ৪০/৫০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যায়। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশীদের একাউন্টস বাড়ছে। কানাডা, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি হচ্ছে। কাদের এসব?

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আয়োজনে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ইতিহাসের ধ্রুব তারা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গোয়েবলসীয় কায়দায় মিথ্যাচার প্রচারণা করছে, ইতিহাসকে বিকৃত করছে। আপনারা হচ্ছেন সব চাইতে সচেতন শ্রেণির পেশাজীবী। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন, গোটা জাতিকে, ভবিষ্যত বংশধরদের এবং লাখো সৈনিক তৈরি করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করে এই বড় সংকট থেকে কাটিয়ে উঠি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনি।

শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতিতে লীন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনে যারা বিশ্বাস করেন তাদের সম্মিলিত একটা সংগঠন সাদা দল। একেবারে দলীয় সংগঠনের পরিণত হওয়াটা বোধহয় খুব একটা ভালো হবে না। দলের জন্য হবে না, নিজেদের জন্য হবে না, রাজনীতির জন্যও হবে না। আপনারা সাদা দল জিন্দাবাদ দেন, সাদা দলের রাজনীতিকে জিন্দাবাদ দেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে জিন্দাবাদ দেন, জিয়াউর রহমানকে জিন্দাবাদ দেন। কিন্তু বিএনপির মধ্যে একেবারে লীন হয়ে যাইয়েন না। এটা হলে আমরা (বিএনপি) অনেক বেশি উপকৃত হবো, আমাদের রাজনীতি উপকৃত হবে। আপনারা আমাদেরকে পরামর্শ দেন, বুদ্ধি দেন যে, এভাবে আপনারা কাজ করবেন। আমরা সেইভাবে কাজ করব।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশ এখন পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই দুইভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। তার ফলে কী হয়েছে? একজন মানুষ আপনি ধরেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলছেন সেটাও অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না সে হয়ত বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের লোক। এই বিষয়গুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।

জিয়াউর রহমানকে একজন বিপ্লবী নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফখরুল বলেন, আমরা একসময় শপথ নিয়েছিলাম ছাত্রজীবনে। সমাজ পাল্টিয়ে দেবো, বিপ্লব করবো। কিন্তু বিপ্লবটা করেছেন জিয়াউর রহমান। এতো অল্প সময়ের মধ্যে সব কিছু পাল্টিয়ে দিয়েছেন, মানুষের চিন্তাগুলোকে পাল্টিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনীতি টেকসই হবে না, খালকাটা কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষকে নামিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসন ও অর্থনীতি পরিচালনার জন্য গ্রাম সরকার তৈরি করেছেন-এই বিষয়গুলোর এসেছে জিয়াউর রহমানের মৌলিক চিন্তা, স্বকীয় চিন্তা থেকে।জিয়াউর রহমান আমাদের নিজস্ব পরিচিতি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে যে, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ছিলেন না, উনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি, পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। তাকে খলনায়কে তারা পরিণত করতে চায়। শিশুদের শেখানো হয় জিয়াউর রহমান নাকী একজন কিলার, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একথা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের নেতা-কর্মী সবাই একই কথা বলে। ওটাকে আমাাদের কাউন্টার করতে হবে, সত্য তুলে ধরতে হবে। কেনো তারা মিথ্যা বলছে বুঝতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিয়াউর রহমান জনগনের কল্যাণের জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন, সবাই পছন্দ করেছে সেই কর্মসূচি। তারপরেও তিনি জনগনের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন বলে তার প্রেসিডেন্ট পদ এবং ১৯ দফা কর্মসূচির জন্য তিনি গণভোটের আয়োজন করেছিলেন, জনগণের সমর্থন নিয়েছিলেন। কোনো দরকার ছিলো। কিন্তু যেহেতু তিনি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন সেজন্য জনগণের সমর্থনটা তিনি প্রয়োজন মনে করেছিলেন। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনেও সবাইকে নিয়ে করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। তার অনন্য দেশপ্রেম, অদম্য কর্মোদ্যোগ, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, ঈর্শ্বনীয় দূরদৃষ্টি এবং সাথীদের উদ্দিপ্ত করার অসামন্য যোগ্যতা, সত ও নির্বিক এই মানুষটিকে মহামানবে পরিণত করেছে। তোষামোদী, স্বজনপ্রীতি, দূবর্লতা, চারিত্রিক দূবর্লতা কিংবা দুর্নীতি তাকে এড়িয়ে চলেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বড় সেকুলারিজম। সেই জাতীয়তাবাদে মুসলমান, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধসহ আর যত ধর্ম আছে সব আছে, নৃ-তাত্বিক যত গ্রুপ চাকমা থেকে শুরু করে যত আছে আর আমরা বাঙালী সব মিলে হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

এই ফ্যাসিস্ট সরকার যাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে ঋণ করে ঘি খাওয়া আর জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ধবংস করার পরিকল্পনা করা, জিয়াউর রহমানকে ভিলেন বানানো। তিনি যে সত্যিকার অর্থে দেশমাত্রিকাকে ভালোবাসতো, সে যে দেশের টানে তার শপথ ভঙ্গ করে বিদ্রোহ করেছিলেন একথা বলতে তাদের লজ্জা লাগে।

গ্রন্থে জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা তিন প্রবন্ধ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষকের লেখা স্থান পেয়েছে। সংকলিত গ্রন্থটির প্রকাশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন মো. ইসরাফিল প্রামানিক রতন। ২‘শ পৃষ্ঠার গ্রন্থের মূল্য ধরা হয়েছে ৪‘শ টাকা।

প্রকাশিত গ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের প্রফেসর এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাদা দলের আহবায়ক প্রফেসর মো. লুৎফর রহমানের পরিচালনায় আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ, গ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক প্রফেসর ছিদ্দিকুর রহমান খান ও সদস্য প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য রাখেন।

উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, আবুল কালাম সরকার, এমতাজ হোসেন, শামসুল আলম, মোজাদ্দেদী আল ফেসানী, শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, তোজাম্মেল হোসেন, হাসানুজ্জামান স্বপন, মতিউর রহমান, দেবাশীষ পাল, আল আবদুল করীম, কামরুল হাসান, মঞ্জুর এলাহী, নুরুল ইসলাম, ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, আতাউর রহমান, বিএনপির ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, হেলেন জেরিন খান, শামীমুর রহমান শামীম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, কাদের গনি চৌধুরী, আলবার্ট পি কস্টা, খালেদ হোসেইন ফাহিন, মাহবুব আলম, আবদুর রহিম, কাজী মনিরুজ্জামান প্রমূখ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল ইসলাম


আরও
আরও পড়ুন