Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৩ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সিলেটে কোরবানীর জন্য প্রস্তত ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ টি পশু

সীমান্তে পশু অনুপ্রবেশে ঠেকাতে নজরদারীর আহবান

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২১, ৮:৩০ পিএম

ঈদুল আজহা আসন্ন। সামর্থবান মুসলমানের পক্ষে কোরবানি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। সেকারণে কোরবানী পশুর জন্য নেয়া হয় পূর্ব প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ টি পশু। এর বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ে আরও রয়েছে কিছু পশু। যেগুলো বাইরে রয়েছে এই হিসেবের। সব মিলিয়ে সিলেটে যে পরিমাণ পশু রয়েছে তাতে দেশের বাইরে থেকে আনা লাগবে না পশু। তবে অন্যান্য জেলা থেকে কিছু পশু প্রতিবছরই সিলেটের বাজারে প্রবেশ করে আবার সিলেট থেকে কিছু পশু বিভিন্ন জেলাতে যায় বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, সিলেটের কর্মকর্তারা। আর খামারিরা বলছেন, বর্তমানে বিভাগে যে পরিমাণ পশু রয়েছে, এদিয়ে চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে কোরবানীর। এছাড়া বিভাগের তালিকাভুক্ত খামারিদের বাইরেও ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে অনেকেই কোরবানির জন্য লালন-পালন করে থাকেন দুই/একটি পশু। সেই হিসেবে তাদের কাছেও প্রচুর সংখ্যক পশু থাকে কোরবানিযোগ্য। তবে খামারিদের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে বন্ধ রাখতে হবে ভারতীয় ও মিয়ানমারের পশু প্রবেশ। কারণ প্রতিবছরই শেষ মূহুর্তে দেখা যায় বিভিন্ন মাধ্যমে বাজারে প্রবেশ করে ভারতীয় পশু। এতে লোকসানের মুখে পড়েন স্থানীয় খামারিরা। তাই সীমান্তে বাড়াতে হবে কঠোর নজরদারি। যাতে করে কোনভাবেই বাজারে প্রবেশ করতে না পারে ভারতীয় পশু। খামারিরা আরও বলছেন, বাইরে থেকে গরু আসা বন্ধে এবার সীমান্ত এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে রাখতে হবে কঠোর নজরদারির। পাশাপাশি পশু ও পশু বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জেলায় গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।


সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রস্তুম আলী বলেছেন, সিলেটে যে পরিমাণ পশু আছে, তাতে পূরণ হয়ে যাবে চাহিদা। গত বছর সিলেট ১ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারও হয়তো এরকমই হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেজন্য স্থানীয় ও খামারিদের কাছে থাকা কোরবানিযোগ্য পশু মিলিয়ে চাহিদা অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে। আর কিছু পশু অন্যান্য জেলা থেকেও সিলেটে আসবে বলেও জানান তিনি। সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম বলেন, পশু চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। যাতে কোনভাবেই দেশে প্রবেশ করতে না পারে ভারতীয় পশু।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, সিলেট সূত্র মতে, সিলেট বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারির কাছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ টি। এরমধ্যে সিলেট ৫৮ হাজার ৭৯৩টি, মৌলভীবাজার ৩২ হাজার ৫২৯টি, হবিগঞ্জে ৩৭ হাজার ৬২৮টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি পশু। সিলেট কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২৩ হাজার ৯২৬ টি, বলদ ১৬ হাজার ৭৩৫টি, গাভী ২ হাজার ৪৬৯টি, মহিষ ১ হাজার ১০টি, ছাগল ১১ হাজার ৭৪০টি, ভেড়া ২ হাজার ৭৪৮টি এবং অন্যান্য ১৬৫টি।

মৌলভীবাজারে ষাঁড় ১৬ হাজার ৭৮১টি, বলদ ২ হাজার ৮০৯টি, গাভী ২ হাজার ৮১টি, মহিষ ৮৩০টি, ছাগল ৯ হাজার ২৪৪টি এবং ৭৮৪টি ভেড়া মিলিয়ে ৩২ হাজার ৫২৯টি। হবিগঞ্জ কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ১৭ হাজার ২৬৩টি, বলদ ৫ হাজার ১৮টি, গাভী ৪ হাজার ৪৮৭টি, মহিষ ১১৮টি, ছাগল ৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৮৯৪টি। আর সুনামগঞ্জে কোরবানিযোগ্য পশু মধ্যে রয়েছে, ষাঁড় ২৫ হাজার ৯৫৬টি, বলদ ৬ হাজার ৪৯০টি, গাভী ৫ হাজার ৮৩৯টি, মহিষ ৬৬৬টি, ছাগল ৫ হাজার ৭৬৮টি, ভেড়া ৪ হাজার ১৩৬টি মিলিয়ে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সিলেটের কর্মকর্তারা বলেন, রাসায়নিক ব্যতীত সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করে গরু হৃষ্ট-পুষ্টকরণে খামারিদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এবং এ কার্যক্রমে রাসায়নিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে পদক্ষেপ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিলেট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ