Inqilab Logo

বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১, ২০ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৪ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

বাবা দিবসে ববিতা ও তারিণের স্মৃতিচারণ

বিনোদন রিপোর্ট: | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০২১, ১২:০২ এএম

৯ সংখ্যাটি ববিতা ও তারিনের জন্য অনেক কষ্টের। কারণ ববিতা ১৯৮২ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বাবাকে হারিয়েছেন। অন্যদিকে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তারিন তার বাবাকে হারিয়েছেন। ববিতার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা হয়ে উঠার নেপথ্যে যেমন তার বাবার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে, তেমনি তারিনের আজকের তারিন হয়ে উঠার নেপথ্যে বাবার অনেক বড় অনুপ্রেরণা রয়েছে। আজ বাবা দিবসে ববিতা এবং তারিনের কথায় তুলে ধরা হলো তাদের বাবাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ। অনুলিখন করেছেন অভি মঈনুদ্দীন ।
ববিতা : শুধুমাত্র বাবা দিবস এলেই যে আব্বাকে মনে পড়ে আমার কাছে কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আমার জীবনজুড়ে জড়িয়ে আছেন আমার আব্বা। সবাই বলেন, আমি নাকি আমার আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু আদৌ কি আমি আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠতে পেরেছি, এটা আমার নিজেরই কাছে নিজের প্রশ্ন। আমার বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই আমার আব্বা এ এস এম নিজাম উদ্দিন আতাইয়ুব ইন্তেকাল করেন। যে কারণে মানসিকভাবে সেই সময় অনেক ভেঙ্গে পড়েছিলাম। বাবাকে ঘিরে প্রত্যেক সন্তানেরই অনেক স্মৃতি থাকে। আব্বা সবসময় আমাদের ছয় ভাই বোনকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলতেন। আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র কিন্তু আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। এই যে আমি এতো পরিপাটি থাকি, গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এটা আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। আব্বা যখন অফিস থেকে আসতেন তখন আমরা সবাই আব্বাকে পান বানিয়ে খাওয়াতাম। আব্বা তখন বেশ আয়েশ করে পান খেতেন। আব্বার পা টিপে দিতে দিতে তখন সব আবদার করতাম। আব্বা আমাদের সেই আবদার রাখতেন। আবার আব্বা অনেক সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখে দেখে আমাদেরকে মজার মজার গল্প বলতেন এবং সেই সব গল্পে আব্বা আমাদের অভিনয় করতে বলতেন। সেখান থেকেই কিন্তু অভিনয়ে আমার অনুপ্রেরণা আসা। পরবর্তীতে যখন আমি সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনও আব্বা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিতেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে আব্বাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিং-এর সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আব্বার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরী হয়েছিলো। আমার ইংরেজি শেখার খুব শখ ছিলো বিধায় আব্বা আমাকে ছোটবেলাতে একটি ডিকশনারী কিনে দিয়েছিলেন। আমি তখন প্রথম শ্রেনীতে পড়ি। বাগেরহাটে থাকি সবাই। সবাই আমাকে রেখে মামার বাড়ি যাবে বেড়াতে। আমি বুদ্ধি করলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করানো যায়। আব্বা সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফেরার সময় আমিই হারিকেন নিয়ে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে দেখে আব্বা ভীষণ খুশি, কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিলোনা। অন্ধকারে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। আব্বা তখন খুশি হয়ে বললেন কী চাও মা? আমি বললাম আমাকেও সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। আব্বা রাজি হলেন। আব্বা আমার জীবনের আদর্শ। তাই আমার ইচ্ছে আমার মুত্যুর পর যেন বনানী কবরস্থানে আব্বার কবরেই যেন আমাকে দাফন করা হয়।


তারিন : ‘আমার দেখা প্রথম নায়ক, আমার কাছে সেরা, বাবা তোমার হৃদয়টা যে আদর দিয়ে ঘেরা, সারাজীবন দিয়েই গেছো, আরো কতো দেবে, সামান্য এই ভালোবাসা, বলো বাবা নেবে?... বেশ কয়েক বছর আগে বাবাকে নিয়ে আমার গাওয়া একটি গান এটি। গানটি লিখেছিলেন জুলফিকার রাসেল, সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন ইবরার টিপু। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা জানিয়েই গানটি গেয়েছিলাম আমি। আমার বাবা ছিলেন একজন সৎ মানুষ, তার এই সততাকেই আদর্শ হিসেবে মেনে নিয়ে আমি সারাজীবন পথ চলার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা পিডাব্লিউডি’র একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। বাবা এতোটাই সৎ ছিলেন যে ঢাকা শহরে তার একটি বাড়িও নেই। বাবা সারাজীবন মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে গেছেন। বাবা আমাদের সব বোনদের একটি কথাই বলতেন, ‘সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে যাবে, বিনিময়ে চাইবেনা কিছুই, সে মনে রাখবে-তাও আশা করবেনা। যদি ভালো কাজ করো তার প্রতিদান নিশ্চয়ই পাবে।’ বাবার এই কথা মাথায় রেখেই আমরা সব বোনেরা জীবনের পথে এখনো এগিয়ে চলি। আমার বাবা ছিলেন আমার চলার পথের সবচেয়ে বড় শক্তি, অনুপ্রেরণা। আমার বাবা যখন দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন, তারপরও তার সন্তানদের প্রতি প্রতিমুহুর্তে যে ভালোবাসা প্রকাশ করতেন তা আমাদের অনেক আনন্দ দিতো। আমাদের সবাই একটাই চাওয়া ছিলো বাবা যেন আমাদের মাঝে সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। কিন্তু বাবা শেষমেষ আমাদের পরিবারের সবাইকে কাঁদিয়ে চলেগেলেন পরপারে। ভীষণ একা হয়ে গেলোম। এখন প্রতিটি মুহুর্তে দোয়া করি আল্লাহ যেন তার সকল গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে যেন জান্নাত বাসী করেন-আমীন। সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই- আমাদের বাবাই ছিলেন আমাদের স্বর্গ, এমন বাবার সন্তান হিসেবে আমি অবশ্যই গর্বিত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ববিতা ও তারিণ
আরও পড়ুন