Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

আমতলীতে কালো টাকার ছড়াছড়ি, ২৯টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ

বরগুনা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০২১, ১১:৩১ পিএম

বরগুনার আমতলীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে ভীতি আর শঙ্কা কাজ করছে। কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনারও অভিযোগ আছে কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রশাসন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৫৫ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুন সোমবার উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাওড়া ইউনিয়নে ভোট হবে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন (ইভিএম)এ। ৬টি ইউনিয়নে ৫৫টি কেন্দ্রে ভোটের পরিমাণ ১লাখ ২৪ হাজার ৪২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬১ হাজার ৭শ’ ৭৬ জন। পুরুষ ভোটার ৬২ হাজার ২শ’ ৬৬ জন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২২২জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৮৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পুলিশ প্রশাসন আমতলীর ৬টি ইউনিয়নের ২৯টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নে ৫টি, কুকুয়া ইউনিয়নে ৩টি, হলদিয়া ইউনিয়নে ৬টি, চাওড়া ইউনিয়নে ৭টি, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ৫টি ও আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে ৩টি। সর্বাধিক ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে চাওড়া ইউনিয়ন।

নির্বাচনের শুরু থেকেই আরপাঙ্গাশিয়া, গুলিশাখলী, চাওড়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া ইউনিয়নে সহিংসতা হয়েছে। সহিংসতার অভিযোগরে তীর সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। আঠারগাছিয়া, গুলিশাখালী ও চাওড়া ইউনিয়নে চলছে কালোটাকার ছড়াছড়ি। এসকল ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে প্রার্থী ও ভোটাররা। গুলিশাখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আসাদুর রহমান জানান, সরকার দলীয় প্রার্থী এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আমার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সহিংসতা করে অনেক কর্মী সমর্থককে জখমও করেছে। এই প্রার্থীর রয়েছে কালো টাকা। সে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে ভোট কেনার পায়তারা করছে। সরকার দলীয় প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম হামলা, অস্ত্রের নিয়ে মহড়াসহ ভোট কেনার কথা অস্বীকার করেছেন।

অধিক ঝুঁকির তালিকায় থাকা চাওড়া ইউনিয়নেও সহিংসতা হয়েছে অনেক। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো. মহসীন এর কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করে আহত করা, মোটর সাইকেল পুরিয়ে দেওয়ার মতও ঘটনা ঘটেছে। আবার পাল্টা মামলাও করেছে সরকার দলীয় প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাদল খান।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো. মহসীন বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাদল খান আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা মামলা করে এলাকা ছাড়া করতে চাইছে। তিনি একজন কালো টাকার মালিক। তাই টাকার দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাদল খান তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আঠারগাছিয়া ইউনিয়নেও সহিংসতা ও কালোটাকার ছড়াছড়ি চলছে। এখানে সরকার দলীয় প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম রিপন এর ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার জন্য বহিরাগত এনেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার ভাইর রয়েছে অগাধ কালো টাকা। তারা কালো টাকা দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন বলে জানান রাহিমা নামের এক নারী ভোটার। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হারুন অর রশীদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাচন অফিসার রিটানিং কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শান্তি ও সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য সকল ধরনের প্রস্ততি ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম হাওলাদার জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পুলিশের স্টাইকিং ফোর্স, বিজিবি, র‌্যাব মাঠে থাকবে। জরুরী প্রয়োজনে তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে রিটানিং কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বরগুনা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ