Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৯ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৩ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এখন উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০২১, ১১:২০ এএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি একেএম আজাদ উদ্দিনের ছেলে ও সাবেক রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি,বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উদ্দিন আযাদ সোহেলকে রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হিসেবে পদায়ন করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগ।

গত বুধবার (১৬ জুন )জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নুরুদ্দীন চৌধুরী নয়নের স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।তবে ঐ পত্রে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর স্বাক্ষর নেই।

জানাযায় ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে শরাফত উদ্দিন আযাদ সোহেল রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন বিএনপির সাংসদ এবিএম আশ্রাফ উদ্দীন নিজানের সাথে তার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারনে ঐসময়ে তাকে (শরাফত উদ্দিন আযাদ সোহেল ) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে সোহেল দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।২০১৯ সালে রামগতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী ও রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সোহেল উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। হঠাৎ
রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে আওয়ামীলীগের মতো দলের সহসভাপতি পদে পদায়ন করা নিয়ে চলছে আলোচনা- সমালোচনার ঝড়। শরাফত উদ্দিন আযাদ সোহেলকে রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হিসেবে পদায়ন দেওয়ায় রামগতি উপজেলার তৃনমুল নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদকের প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতাকে হঠাৎ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতির মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া দলের জন্য মারাত্মক ভূল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তৃনমুলের নেতাকর্মীরা। রামগতি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন ভিপি হেলাল বলেন,বিষয়টি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃনমুলের নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হটাৎ এই ধরনের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেনা দলের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা আওয়ামীলীগের নবপদায়নকৃত সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উদ্দিন আযাদ সোহেল বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামগতি-কমলনগরের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে আমাদেরকে যে সম্মান করেছেন,এ জন্য আমি এলাকার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদক ভাল মনে করে আমাকে যেখানে রাখবে আমি তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো।তবে এখন পর্যন্ত তার কাছে লিখিত কোন পত্র আসেনি বলে জানান তিনি।

রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহেদ সোহেলকে সহসভাপতি পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,এটা দলের গঠনতন্ত্রের কোন পর্যায়ে পড়েনা।এই ভাবে অন্যদলের লোক ধরে এনে হঠাৎ আওয়ামীলীগের মত বৃহৎ দলে সহসভাপতির পদে পদায়ন করাটা ঠিক হয়নি। তাকে (সোহেল) পদায়নের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদকের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুদ্দীন চৌধুরী নয়ন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর )আসনে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভাব হয়নি।

লক্ষ্মীপুরের জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু এবিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা বলে ফোন কেটে দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন