Inqilab Logo

রোববার, ০১ আগস্ট ২০২১, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮, ২১ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

স্পেন-ফ্রান্সের একি হাল?

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০২১, ১২:০১ এএম


স্পেন ১
পোল্যান্ড ১
ফ্রান্স ১
হাঙ্গেরি ১

স্পেন ও ফ্রান্স। এক দল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আরেক দল বর্তমান। এ দু’দলের নামের ওজনেই অনেক সময় প্রতিপক্ষ হারিয়ে ফেলে অর্ধেক শক্তি-আত্মবিশ্বাস। কিন্তু ইউরোর গতপরশু রাতের খেলা দেখলে আরেক লাইনটি সম্পূর্ণ গুরুত্ব হারাবে। একেবারে নিশ্চিতভাবেই জিততে পারতো ২০১২ সালের ইউরোপ সেরা দলটি। মরেনো আক্ষেপে পুড়েছে গোটা দেশটাই। তার সৌজন্যে স্পেন পেনাল্টির দেখা পেলো। পেনাল্টি থেকে ভিলারিয়ালের এই স্ট্রাইকার নিজেই শট নিলেন। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট! পেনাল্টি থেকে গোলটি হলেই স্পেন এগিয়ে যেতে পারতো ২-১ গোলে। হারাতে পারতো পোল্যান্ডকে। কিন্তু তা আর হলো কই। পেনাল্টি মিসের খেসারত দিতে হলো গতপরশু রাতের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচটিতে ১-১ গোলে ড্র করে।

‘ই’ গ্রুপে এই ড্রয়ে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের অর্জন দুই পয়েন্ট। বিপরীতে সমান ম্যাচে পোলিশরা পেলো প্রথম পয়েন্টের দেখা। এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে নির্ধারণ হবে কোন দুটি দল নক আউট পর্বে জায়গা করে নেবে।

নিজেদের মাঠে স্পেন বল দখল ছাড়াও আক্রমণে অকেটাই এগিয়ে। পোলিশরা নিজেদের রক্ষণ সামলে আক্রমণে উঠার চেষ্টা করেছে। ২৫তম মিনিটে জালেরও দেখা পায় স্পেন। বক্সে ঢুকে মরেনোর পাসে মোরাতা প্লেসিং করে লক্ষ্যভেদ করেন। তবে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে সতীর্থের ক্রসে লাফিয়ে উঠে লেভান্দোভস্কি হেডে জাল কাঁপান। পরের মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। মরেনোকে ফেলে দেন এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টি থেকে মরেনোরই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মোরাতা চেষ্টা করেও পারেননি। তার নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

এরপর স্প্যানিশরা অনেক চেষ্টা করেও গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ১-১ গোলে স্কোরলাইন রেখেই ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে দু’দলকে।
একই রাতে আরেক ম্যাচে ১৯৮৪ সালের ইউরোর শিরোপাজয়ীরা যেভাবে খেলছিল, তাতে করে তাদের বড় ব্যবধানে জেতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপে-করিম বেনজেমারা একের পর এক গোলের সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন। আর এই ফাঁকে হাঙ্গেরি সুযোগ পেয়েই ধারার বিপরীতে গোল করে এগিয়ে যায়। ভাগ্য ভালো আতোঁয়ান গ্রিজমান গোল পেলেন! বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের গোলটাতেই রক্ষা ফরাসিদের। গতপরশু ‘গ্রুপ অব ডেথে’ ফ্রান্স-হাঙ্গেরি ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হয়েছে। ফলে ‘এফ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্স আপাতত শীর্ষে। সমান ম্যাচে হাঙ্গেরি প্রথম পয়েন্টের দেখা পেলো।

এমনিতে হাঙ্গেরির মাঠে ফ্রান্সের অতীত রেকর্ড সুখকর নয়। আট ম্যাচের মধ্যে ফ্রান্স একবারই জয় পেয়েছে, হেরেছে ৬টিতে! বাকি একটি ড্র। ১৯৯০ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল ফ্রান্স। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় এবারও ফ্রান্সকে জিততে দিলো না হাঙ্গেরি। ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে এগিয়ে ছিল দিদিয়ের দেশমের দল। আক্রমণও করেছে ঝড়ের বেগে। যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, তাতে ৩ থেকে ৪টি গোল হতে পারতো। যদিও সুযোগ নষ্টে গোল পায়নি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

বেনজেমা-এমবাপে-গ্রিজমানরা দুই প্রান্ত দিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেও গোল পাচ্ছিলেন না। কোনও সময় নিজেদের ব্যর্থতায়। আবার কখনও গোলকিপার পিটার গুলাকসি তেকাঠির নিচে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। ফ্রান্সের সুযোগ নষ্টের বিপরীতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হাঙ্গেরি এগিয়ে যায়। ধারার বিপরীতে উৎসবের ঢেউ ওঠে পুসকাস অ্যারেনার গ্যালারিতে। প্রতিপক্ষের এক ভুল পাস থেকে আতিলা ফিওলা বাঁ প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে লক্ষ্যভেদ করেন। ফরাসি গোলকিপার উগো লরি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও দলকে রক্ষা করতে পারেননি। এক গোলে পিছিয়ে পড়ায় ফরাসিদের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ৬৬ মিনিটে ফ্রান্স হার এড়ায়। এমবাপের কাটব্যাক থেকে গ্রিজমান কিছুটা দৌড়ে এসে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর এমবাপে-গ্রিজমানরা ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। ফলে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোর ফেভারিট ফ্রান্সকে।

টানা দুই ড্রয়ে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে গেল লুইস এনরিকের দলের। ১৯৯৬ সালের পর ইউরোতে এবারই প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকলো লা রোজারা। নিজেদের গ্রুপের শেষ ম্যাচে ২৩ জুন স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। একই দিন ফ্রান্স লড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের বিপক্ষে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্পেন-ফ্রান্স
আরও পড়ুন