Inqilab Logo

শুক্রবার, ০৬ আগস্ট ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ী বহরে হামলা মামলা : সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের জামিন স্থগিতাদেশ বহাল

সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ জুন, ২০২১, ৬:১৫ পিএম

সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে সোমবার (২১ জুন) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল আপিল বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন। আসামি পক্ষে ছিলেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। গত ২৬ মে ওই সাত আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আদেশ অনুসারে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য এলে ৩০ মে রাষ্ট্রপক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে লিভ টু আপিল করতে বলা হয়। সে মোতাবেক রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করেন। আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ সোমবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টে জামিন ও পরবর্তীতে স্থগিতাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- আবদুস সাত্তার, গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, জহিরুল ইসলাম, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন কলারোয়ার এক মুক্তিযোদ্ধার বিধবা ধর্ষিত স্ত্রীকে দেখতে। তিনি হাসপাতাল থেকে সড়ক পথে মাগুরায় যাচ্ছিলেন। কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে গাড়িবহর পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র, বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা গুলিবর্ষণ করে এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা প্রাণে রক্ষা পেলেও তার গাড়িবহরে থাকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ফাতেমা জাহান সাথী, জোবায়দুল হক রাসেল, শেখ হাসিনার ক্যামেরাম্যান শহীদুল হক জীবনসহ অনেকেই আহত হন। ওইদিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালে এ ঘটনায় আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলায় এক আসামি রাকিবের বয়স ঘটনার সময় ১০ বছর ছিলো উল্লেখ করে হাইকোর্টে মামলা বাতিলের আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

গত বছরের ৮ অক্টোবর ওই রুল খারিজ করে রায় দেন আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাকিব। আবেদনে আপিল বিভাগ তিন মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। সাতক্ষীরার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর গত ৪ ফেব্রুয়ারি মামলায় বিএনপির তালা-কলারোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ তিনজনের সর্বোচ্চ ১০ বছর করে এবং বাকী ৪৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। উচ্চ আদালত সাতজন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামীর জামিন দিয়েছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ