Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

লকডাউনে যা করতে পারবেন আর যা পারবেন না ৭ জেলার মানুষ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ জুন, ২০২১, ৫:৪৯ পিএম | আপডেট : ৯:০৩ পিএম, ২২ জুন, ২০২১

রাজধানীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশপাশের সাত জেলায় আজ সকাল ৬টা থেকে আরোপ করা হয়েছে ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ ৯ দিন ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ চলমান থাকবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর ফলে এ সাতটি জেলার ওপর দিয়ে ঢাকায় যানবাহন নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।জেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট দেয়া হয়েছে এবং মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। -বিবিসি বাংলা

সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের আওতায় থাকা সাত জেলা হলো মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ। জেলা প্রশাসন বলছেন এর ফলে জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোন কারণে কেউ বের হতে পারবে না। মানিকগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন একদিকে ঢাকায় আসে অন্যদিকে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায় এবং জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় যাতায়াত করে। মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলছেন, সব তারা বন্ধ করে দিয়েছেন সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এবং শহরে তিনটি মোবাইল কোর্ট কাজ করছে। মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিক মীর নাসির উদ্দন উজ্জ্বল বলছেন, জেলা থেকে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট ছাড়াও জেলা সদর ও প্রতিটি উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে প্রশাসন। অন্য জেলাগুলোতেও জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জনসাধারণকে ঘরের বাইরে বের না হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সাত জেলায় নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে যা কিছু : জেলা প্রশাসনগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ পরিবহন, স্বাস্থ্য সেবাসহ জরুরি সেবার সাথে জড়িত অফিস খোলা থাকবে ও তাদের কর্মচারী যানবাহন চলাচল করবে। পন্যবাহী পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এর বাইরে মানুষ প্রয়োজনে ফার্মেসী ও কাঁচাবাজারে যেতে পারবে তবে মাস্ক পরতে হবে ও সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। যানবাহনে চলাচল করবে না। কেউ জেলায় প্রবেশ বা জেলা থেকে বের হতে পারবে না। যত্রতত্র ঘোরাফেরা করা যাবে না। বিশেষ প্রয়োজন না হলে ঘর থেকেই বের হতে অনুৎসাহিত করা হবে। জরুরি সেবার সাথে সম্পর্কিত নয় এমন দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এসব জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরণের চলাচল ও কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি এসব জেলার ওপর দিয়ে কোন দূরপাল্লার বাসও চলাচল করবে না। ইতোমধ্যেই বাস মালিক সমিতি দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন এসব জেলার কোন স্টেশনে থামবে না। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ সব ধরণের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই বেশ কিছু জেলায় আলাদাভাবে লকডাউন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার এবং ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এবার ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ