Inqilab Logo

শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৯ যিলহজ ১৪৪২ হিজরী

শুধু আশার বাণী শুনলেন কাশ্মীরের নেতারা

মোদি সরকারের সাথে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৈঠক

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ জুন, ২০২১, ১২:০৩ এএম

পূর্ণরাজ্য ও বিশেষ রাজ্যের দাবিতে কাশ্মীরের নেতারা জোরালো দাবি জানালেও তা আমলে নেয়নি মোদি সরকার। আশার বাণীই কেবল শুনতে পেয়েছেন গুপকার জোটের নেতারা। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, ‘সঠিক সময়েই’ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, এলাকা পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের ৮টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ১৪ জন প্রথম সারির নেতাকে নিয়ে গতকাল সর্বদল বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের ফারুক এবং ওমর আবদুল্লাহ, পিডিপি’র মেহবুবা মুফতি, কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ-সহ কাশ্মীরের তাবড় শীর্ষনেতারা। সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে মূলত কাশ্মীর এবং জম্মুর বিধানসভার পুনর্বিন্যাস এবং দ্রæত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে। তবে, এসবের মাঝে শিরোনামে উঠে এল কাশ্মীরের পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি।
পিপলস কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মুজাফফর বাগ জানানা, ‘আমরা সকলেই একমত হয়েছি যে, আমাদের অবশ্যই জম্মু ও কাশ্মীরের গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ধৈর্য সহকারে সব শুনেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এবং সভায় ওঠা সব বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন’। বৈঠকে থাকা নেতারা ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, বৈঠকে গণতন্ত্রকে আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন নেতা নির্বাচন বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত নির্ধারণ হয়ে গেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে জোরকদমে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৫টি বিষয় রাখা হয় এ বৈঠকে। দলের পক্ষ থেকে এদিন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ এসেছিলেন। তিনি বৈঠকে দাবি করেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে বাজ্যের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, উপত্যকাকে ফের রাজ্যের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া হবে। আমরা সরকারকে জানিয়েছি, রাজ্যের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার এটাই সঠিক সময়। জম্মু ও কাশ্মীরে যত দ্রæত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বৈঠকে কাশ্মীরি পন্ডিতদের যাতে ফিরিয়ে নিয়ে বসতি স্থাপন করা যায় সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন আজাদ। তিনি জানিয়েছেন, এটা আমাদের সবার নৈতিক কর্তব্য। কংগ্রেসের চতুর্থ দাবি ছিল ২০১৯ সালে ৫ আগস্ট কাশ্মীরে যত রাজনৈতিক বন্দি এবং সামাজিক বন্দি, অর্থাৎ জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার পর ওই দিন রাজনৈতিক কারণে যাদের গ্রেফতার কিংবা আটক করা হয়েছে তাদের দ্রæত মুক্তি দেয়া হোক। কংগ্রেসের শেষ দাবি ছিল, জমির অধিকার এবং জম্মু কাশ্মীরের যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা।
তবে সূত্রের খবর, কেন্দ্র এখনও কাশ্মীরের পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর ব্যাপারে কোনো আশার বাণী উপত্যকার নেতাদের শোনায়নি। তাঁদের জানানো হয়েছে, ‘বিষয়টি সঠিক সময়ে বিবেচনা করা হবে। সেই সঠিক সময় এখনো আসেনি’। তবে, সরকার যে উপত্যকার রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর ব্যাপারে বদ্ধপরিকর, সেটা স্পষ্টত জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তাতে অধিকাংশ বিরোধী নেতাই আশ্বস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। কেন্দ্র আপাতত কাশ্মীরে দ্রæত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে তৎপর। উপত্যকার দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এলাকা পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হলেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মেহবুবা মুফতির সরকার থেকে বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করার পর থেকেই কাশ্মীরে প্রেসিডেন্টের শাসন চলছে। এরপর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর উপত্যকার পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস বিলের মাধ্যমে পুরো রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীর মিলিয়ে একটি এবং লাদাখ এলাকা মিলিয়ে আরেকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হয়। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও এর পৃথক বিধানসভা থাকবে বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। অনেকটা দিল্লি এবং পুদুচেরির ধাঁচে চলবে জম্মু ও কাশ্মীরের শাসন ব্যবস্থা। যদিও, ২০১৯ সালের পরে এখনো জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের পথে পা বাড়ায়নি কেন্দ্র। এই প্রথম উপত্যকায় নির্বাচনের জল্পনা শোনা যাচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন