Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক, চলছে নবান্ন উৎসব গাবতলীতে আউশ ধান কাটা-মাড়াই শুরু

প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আল আমিন ম-ল, গাবতলী (বগুড়া) থেকে

বগুড়া জেলাসহ গাবতলী উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে (ব্রি-ধান ৪৮) আউশ ধান কাটা-মাড়াই। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষক পরিবার। ফলে কৃষকের ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌরসভায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪শ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬শ মেট্রিক টন (চাল)। ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৩শ ৩০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে হাইব্রিড ২শ হেক্টর ও উপসী ১শ ৩০ হেক্টর। তবে উপসীজাত ধান কর্তন করে দেখা গেছে প্রতি হেক্টর চালে ৩.৫ মেট্রিক টন। যা গতবছরের চেয়ে প্রায় ১শ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ কৃষক মাঠে (ব্রি-ধান ৪৮) আউশ ধানের চাষ করেছে। ফলে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আউশ ধান সংগ্রহে কৃষক-কৃষাণীরা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দিনমজুর সংকটসহ মূল্যবৃদ্ধি পেলেও কৃষক পরিবারগুলো এখন দম ফেলানোর সময় নেই। কৃষকের আঙ্গিনা জুড়ে এখন মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত। নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক পরিবার। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা এখন আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কাগইল কৈঢোপ গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ বছরে পরিবেশ অনুকূল ও ধান ক্ষেতে পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আউশ ধান চাষ ও উৎপাদন বেড়েছে। ধান গাছ পোকা থেকে রক্ষা করতে পাচিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে কোন কীটনাশক ছাড়াই পোকা দমন করা সম্ভব হয়েছে। রামেশ্বরপুর শুভপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পেয়েছি। এখন ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে আমরা খুশি। তাই তারা আউশ ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। সোনারায় আটবাড়ীয়া বামুনিয়া গ্রামের কৃষক দুলু শাহ ও আব্দুল হান্নান জানান, আউশ ধান চাষে সেচ কম লাগে। ধান কর্তন শেষে জমিতে আমন ধান, শীতকালীন সবজি মুলা, ভুট্টা, আলু ফসল চাষ করা যাবে। গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শের ফলে এ বছরে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, উপজেলা জুড়ে কৃষকরা আউশ ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে। এ বছরে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জাহিদ, জাহাঙ্গীর আলম, সৌরভ হোসেন, ডিএস তনশ্রী, রিভা রানী, আক্তার জাহান জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা সবসময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ফলে গাবতলীতে আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। এখন কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, কৃষক মাঠ স্কুল ও কৃষকদের নিয়ে আউশ ধান চাষ বিষয়ক উঠান বৈঠকসহ কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছে। ফলনও ভালো হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ