Inqilab Logo

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮, ১৭ সফর ১৪৪৩ হিজরী

মোদি নয়, আরএসএসের ‘অদ্ভুত’ মতাদর্শই সমস্যা: ইমরান খান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২১, ৪:৩৮ পিএম

নরেন্দ্র মোদির জায়গায় অন্য কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক আরও ভালো হতো। শনিবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন। তিনি বলেন, তা হলে খুব সহজেই আমরা আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে নিয়ে পারতাম।

তবে ‘সমস্যা’ আসলে মোদি নন, তার আপত্তি যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল আরএসএসের ‘অদ্ভুত’ মতাদর্শ, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘আরএসএসের অদ্ভুত মতাদর্শই দু’দেশের মধ্যে ইটের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর এই মতাদর্শের সঙ্গেই জড়িত নরেন্দ্র মোদি।’ তিনি জানান, ‘ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে আমার মূল লক্ষ্য যে পাকিস্তানের দারিদ্র দূরীকরণ, সেটা আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর-পরই মোদীকে জানিয়েছিলাম। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ভালো ব্যবসায়িক সম্পর্কেই তা সম্ভব ছিল। দু’দেশই লাভবান হতো তাতে।’

রাজনীতির ইতিহাসে সম্পর্ক মোটেও ভালো নয় ভারত-পাকিস্তানের। অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বরাবরই ভারতের বিরোধিতা করে এসেছে পাকিস্তান। তখন ভোটের ফল ঘোষণা হয়নি। ক্ষমতায় বসার আগেই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ভারত এক পা এগোলে, তিনিও দু’পা এগোতে রাজি। এর এক বছরের মাথায় জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্যের তকমা বাতিল করে দিল্লি। যার জেরে নতুন করে বরফ জমে দু’দেশের সম্পর্কে।

ইমরান যদিও তার পরেও একাধিক বার কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে ভারতকে। খানিকটা সুর নামিয়ে পাল্টা সৌজন্য দেখায় দিল্লিও। করোনা-আক্রান্ত ইমরানের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের জাতীয় দিবসের ঠিক আগে নরেন্দ্র মোদি নিজেই ইমরানকে চিঠি লিখে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় ভারত।’

তবে শুধুই বিরোধিতা বা ভারতের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ নয়, তিনিই যে আর সব পাকিস্তানির থেকে ভারতকে বেশি ভালোবাসেন, তা-ও জানান ইমরান। যার নেপথ্যে রয়েছে তার ক্রিকেট কেরিয়ার। ইমরানের দাবি, পাকিস্তান সম্পর্কে গোটা বিশ্বের ধারনাই বদলাতে চাইছেন তিনি। তিনি চাইছেন, পাকিস্তানকে তার ‘নিজস্বতা’ দিয়েই চিনুক দুনিয়া। সম্প্রতি করাচির একটি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি দেশের তরুণ পরিচালকদের বলেন, ‘আর বলিউডের কপি না-করাই ভালো। বরং নিজেদের মৌলিক কাজ আর সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই এখন সবচেয়ে জরুরি।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শুধু ভারত নয়, আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন ইমরান। ন্যাটো বাহিনী পুরোপুরি সরে গেলে, ফের তালেবান-উত্থানের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের দাবি, ইতিমধ্যেই ৮০টিরও বেশি আফগান জেলার দখল নিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং নিজেদের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করতে সম্প্রতিই একাংশ তালিবান নেতার সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তবে ইমরান জানিয়ে দিলেন তালিবান বলপূর্বক আফগানিস্তান দখল করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেবে না তার সরকার। সূত্র: টিওআই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইমরান খান


আরও
আরও পড়ুন