Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন

ঢাকার ৪ নদী দূষণ ও দখলমুক্ত করতে নৌবাহিনীর তিন স্তরের কর্মপরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারিদিকের চার নদী বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীকে দূষণমুক্ত করার দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ জন্য গঠন করা হয়েছে জাতীয় টাস্কফোর্স। এই টাস্কফোর্সের অধীনে গঠিত ২১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নৌবাহিনী ঢাকার চারপাশ ঘিরে রাখা এই ৪টি নদীকে দূষণমুক্ত করতে তিন স্তরের পরিকল্পনা ও কিছু সুপারিশসহ একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে। তিন স্তরের মেয়াদভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা অনুযায়ী এক বছরের জন্য স্বল্পমেয়াদি, এক থেকে তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি ও এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দখলমুক্ত করাসহ দূষণরোধে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৌশলপত্র ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী এ-সংক্রান্ত এশটি কৌশলগপত্র উপস্থাপন করে।
সূত্র জানায়, চারটি নদী হচ্ছে রাজধানী ঢাকার প্রাণ। এসব নদীর তলদেশে ১০ ফুটের বেশি পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য জমে আছে। এই চারটি নদীতে ট্যানারি বর্জ্য, হাসপাতাল বর্জ্য, শিল্পবর্জ্যসহ পয়ঃবর্জ্য ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বড় বড় অবকাঠামো। এ কারণে নদীগুলো আর নদী নেই। হয়েছে ময়লার ভাগাড়। পরিবেশ দূষণের বিশাল উৎস। এজন্য প্রথমে নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতেও যেনো নদীগুলো কোনোভাবে দূষিত হতে না পারে, সে জন্য বাস্তব উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষণি উদ্যোগ না নিলে নদীগুলো ক্রমে মওে যাবে। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে দেশের অন্যান্য নদীগুলোতেও।
সূত্র জানায়, লন্ডনের টেমসনদীসহ বিশ্বেও যে সব নদী কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার চার নদীকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ কাজের জন্য নৌবাহিনী তাদের কৌশলপত্রে একটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। নদী দূষণমুক্ত করতে নৌবাহিনীর তৈরি করা এক বছরের জন্য স্বল্প মেয়াদি পদক্ষেপে বলা হয়েছে, নদীকে দূষণ করে শুরুতেই এমন সব ময়লা উপাদান চিহ্নিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে তা পরিষ্কার করতে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ করে নদীগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। নদীগুলো দখলে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। একই সাথে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে নদী খননের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। নদীর তীর সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারকিতে মনিটরিং কমিটি গঠন ও তা জোরদার করতে হবে।
সূত্র জানায়, নৌবাহিনীর এক থেকে তিন বছরের জন্য মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার রূপরেখায় বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে নদী খননের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। নদীর তীর সংরক্ষণে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীতে যে সমস্ত ময়লা-আবর্জনা বা বর্জ্য ফেলা হয়, সেই সব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম নিতে হবে। নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে নদীকে ঘিরে সার্কুলার ওয়াটারওয়েজ চালু করতে হবে।
পাঁচবছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নদী খননের সম্প্রসারিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোয় প্রতিদিনই পড়ছে নানা ধরনের বর্জ্য। এর ৬০ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের শিল্পবর্জ্য।
এ সংক্রান্ত নৌবাহিনীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের জন্য দায়ী মূলত শিল্পবর্জ্য। নদী চারটিতে পড়া বর্জ্যরে ৪০ শতাংশ ট্যানারি শিল্পের, ২০ শতাংশ অন্য শিল্পের। মোট ৬০ শতাংশ বর্জ্যই শিল্প খাতের। বাইরে ১৫ শতাংশ কঠিন বর্জ্য, ১৫ শতাংশ অন্য ও ১০ শতাংশ নৌযান বর্জ্য। অন্য বর্জ্যরে মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, ইটভাটা, পলিথিন, ডকইয়ার্ড ইত্যাদির বর্জ্য। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিদিন ঢাকা শহরের চার হাজার ৫০০ টন আবর্জনা ও ২২ হাজার লিটার বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য পড়ছে। এ ছাড়া পলিথিন জমে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ১০-১২ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। টঙ্গী শিল্প এলাকার প্রায় ২৯টি শিল্প-কারখানা থেকে প্রতিদিন ৭ হাজার ১৫৯ কেজি শিল্পবর্জ্য গিয়ে তুরাগ নদীতে পড়ছে। আর বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী প্রতিনিয়ত দূষণ করছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো। প্রতিবেদনে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর খোলামুড়া থেকে মীরকাদিম পর্যন্ত নাব্যতা মাত্র ১২ ফুট। শীতলক্ষ্যার ডেমরা থেকে গোপচর পর্যন্ত নাব্যতা ১২ ফুট আর ডেমরা থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মাত্রা পাঁচ-ছয় ফুট। বালু নদীর উল্টরখান থেকে ডেমরা ও টঙ্গী খালের উল্টরখান থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নাব্যতা পাঁচ-ছয় ফুট। তুরাগের আশুলিয়া পর্যন্ত আমিনবাজার পর্যন্ত পাঁচ-ছয় ফুট আর আমিনবাজার থেকে খোলামুড়া পর্যন্ত নাব্যতা ১২ ফুট। এগুলোর প্রশস্ততা বিভিন্ন স্থানে ৪০ থেকে ৩৪০ মিটার।
সূত্র জানায়, নদী দূষণের ফলে স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। তাই দ্রুত ঢাকা শহরের চারদিকের নদী দূষণরোধ, নাব্যতা বৃদ্ধি ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন