Inqilab Logo

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বড় পরিবর্তন ছাড়া বাজেট পাস হচ্ছে

আজ পাস হচ্ছে অর্থবিল, ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে

হাসান সোহেল | প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২১, ১২:০০ এএম

বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়া প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জীবন-জীবিকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হচ্ছে আগামীকাল বুধবার (৩০ জুন)। আজ মঙ্গলবার অর্থবিল পাস হবে। বাজেট পাসের পর আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর। অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত বাজেটের উপর বক্তব্য রাখবেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটের উপর সমাপনী বক্তব্য দেবেন এবং অর্থবিল পাসের জন্য উত্থাপন করবেন। কোনো সংশোধনী আনতে হলে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য এবং অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে থাকেন। মহামারি করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও ভ্যাট ছাড় দিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব করা হয়েছে। এদিকে বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা এবার বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে কিছুটা সংশোধনী আসতে পারে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতে কালোটাকা বিনিয়োগের নতুন বিধান করা হচ্ছে। এ দুই খাতে টাকা বিনিয়োগ করলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন করবে না। এ জন্য আয়কর অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ৫ শতাংশ অগ্রীম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, কঠোর লকডাউনের সময় গরিব মানুষকে অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে কীভাবে সুরক্ষা দেয়া যায় সে বিষয়ে শিগগিরই আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে বাজেট পাসের দিন সংসদে একটি ঘোষণা দেয়া হতে পারে। বর্তমান ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার ২৩ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে প্রণোদনা প্যাকেজ আরও বাড়ানো হতে পারে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি ক্রয় সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে জানান, মহামারী করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আবার কঠোর লকডাউন শুরু হচ্ছে। ওই সময় যাতে গরিব মানুষ খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পান সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া জীবন বাঁচাতে দেশের সবাইকে সরকারী খরচে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হবে।

জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হবে মানুষের জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিন আমদানি ও উৎপাদনে। এর পাশাপাশি করোনার আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কারণে কর ও ভ্যাট ছাড় দিয়ে এবার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যা গত বাজেটের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। তেমন কোন পরিবর্তন ছাড়াই বাজেট পাস হবে বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীকালে এবার কর ও ভ্যাট ছাড়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তাদের পক্ষ থেকে তেমন কোন দাবি দাওয়াও আসেনি। শুধু অগ্রীম কর প্রত্যাহার ও কালো টাকা বিনিয়োগে সুযোগ দেয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়েও অর্থমন্ত্রী সমাপনী বক্তব্যে একটি ঘোষণা দিবেন।

জানা গেছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী অর্থবছরেও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে কর হার বাড়াতে পারে সরকার। এছাড়া নতুন বিনিয়োগকারী মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পেতে পারেন। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে এ সুযোগ রাখা হচ্ছে। যারা নিয়মিত কর দেন তারা কালো টাকা সাদা করার বিপক্ষে। এ কারণে ভাল করদাতাদের কথা বিবেচনায় কালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ দেয়া হবে না। কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হবে যাতে করে ঢালাও ভাবে এই সুযোগ না কেউ না নিতে পারে। বিশেষ করে করোনার এই সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে যারা এগিয়ে আসবে তারা সহজে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে পুঁজিবাজার ও আবাসন খাতকে চাঙা করতে কালোটাকা বিনিয়োগের নতুন বিধান করা হচ্ছে। এ দুই খাতে কালোটাকা সাদা করার ক্ষেত্রে করদাতা যে হারে কর দেবেন, তাকে এর অতিরিক্ত আরও ১০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। এতে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থা প্রশ্ন করবে না।

জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরের গত মে পর্যন্ত ১০ হাজার ৪০৪ জন করদাতা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন। এসব ব্যক্তি মোট ১৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা সাদা করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী (২০০৫-৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ১৫ বছর ধরে মোট ১৪ হাজার ৫৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা সাদা করেছেন কালো টাকার মালিকরা। চলতি অর্থবছরে যে পরিমাণ কালো টাকা সাদা হয়েছে তার মধ্যে পুঁজিবাজারে ২৮২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও আবাসন খাতে দুই হাজার ৫১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সাদা হয়েছে। বাকি ১১ হাজার ৬৬৩ কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা সাদা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীরা প্রধানত নগদ টাকা সাদা করেছেন। এসব টাকা সাদা করায় এনবিআর এক হাজার ৪৪৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে। করোনার কারণে নতুন বিনিয়োগ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির পরিসর বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য। অন্যদিকে, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ আছে সরকারের সামনে। সামগ্রিক বিবেচনায় কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ রাখার বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা সায় দিয়েছেন।

জানা গেছে, করোনার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তাবিত বাজেটে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা রয়েছে। কঠোর লকডাউনের কারণে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ। গত বছর লকডাউনের শুরুতে নগদ প্রণোদনাসহ আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটেও বেশকিছু কর্মসূচী রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাজেট


আরও
আরও পড়ুন