Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

করোনার ডেলটা স্ট্রেনে এশিয়া প্যাসিফিকে সংক্রমণের তীব্র বৃদ্ধি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২১, ৬:০৮ পিএম

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে ভারতে পাওয়া করোনার ডেলটা ভেরিয়েন্টের জেরে সংক্রমণ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ার মত যেসব দেশগুলো করোনা মোকাবেলায় উচ্চতর সাফল্য পেয়েছিল, সেখানে মহামারীর তৃতীয় তরঙ্গ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছেন। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে সংক্রমণ চূড়ান্তভাবে বেড়েছে। বুধবার রাজধানী সিডনিতে লকডাউনটি আরও এক সপ্তাহের জন্য বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার শেষ হওয়া দুই সপ্তাহের স্টে-হোম অর্ডার এখন ১৬ জুলাই শেষ হবে বলে সিডনিতে রাজ্যটির প্রধানমন্ত্রী গ্লাডিস বেরেজিকালিয়ান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছে, দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৬ জুলাই নতুন করে ৫৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৩০ জানুয়ারির পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগেরদিন সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৩ জন। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ইউনান প্রদেশে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী রুইলি শহর থেকে ১৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। প্রতিক্রিয়া হিসাবে, কর্তৃপক্ষ শহরটিকে লকডাউন করে দিয়েছে। সর্বশেষ আক্রান্তদেরকে বাসিন্দাদের গণ পরীক্ষার সময় শনাক্ত করা হয়। শহরটিতে শনাক্তদের মধ্যে চীন এবং মিয়ানমারের নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যেখানে একটি সক্রিয় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করবে। ভ্যাকসিনেশনের গতি বাড়িয়ে তোলার পরেও, মহামারী নিয়ন্ত্রণে চীন কঠোর লকডাউন কৌশল এবং গণ পরীক্ষার উপর নির্ভর করেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন যে, তারা জনসংখ্যার ৮০শতাংশকে টিকা দিতে চান।

দক্ষিণ কোরিয়ায়, যেখানে টিকাদান ধীর গতিতে রয়েছে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সেখানে নতুন করে ১ হাজার ২১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পরে এই সংখ্যা সর্বাধিক। এর আগে ক্রিসমাসের দিনে দেশটিতে রেকর্ড ১ হাজার ২৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ইওনহ্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অত্যন্ত সংক্রামক ডেলটা ভেরিয়েন্টের কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষত রাজধানী সিউলে। টিকা না নেয়া ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে চলতি মাস থেকে সরকার বেসরকারী সামাজিক জমায়েতে চার থেকে বাড়িয়ে ছয় জনকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি, রেস্তোঁরাগুলোকে দুই ঘন্টার জন্য আভ্যন্তরীণভাবে খাবার পরিবশেনের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ বাড়ায় সিউল এবং আশেপাশের অঞ্চলগুলোকে এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়নি। বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিম বু-কিয়ুম বলেছেন, পরের দুই বা তিন দিন ট্রান্সমিশন বাড়তে থাকলে কর্মকর্তারা কঠোর সামাজিক দূরত্বের নিয়ম বিবেচনা করবেন।

থাইল্যান্ডেও ডেলটা রূপটি ছড়িয়ে পড়ছে – নতুন করে ৬ হাজার ৫১৯ জন আক্রান্ত ও ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ব্যাংককে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই নতুন ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের শিকার। ইন্দোনেশিয়ায় করোনা মহামারি দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশটির হাসপাতালগুলো সামর্থ্যের শেষপ্রান্তে চলে এসেছে। মরিয়া পরিবারগুলো বাড়িতেই রোগিদের চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন ট্যাঙ্ক সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন। করোনায় এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ইন্দোনেশিয়ান চিকিৎসা কর্মী মারা গেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন