Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

নারী-পুরুষ কি মিলেই মানবসভ্যতা?

| প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২১, ১২:০২ এএম

উত্তর : মানবজাতিকে সৃষ্টিগতভাবে নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী-পুরুষ মিলেই পূর্ণ হয়েছে মানবসভ্যতা। নারী ও পুরুষের মাঝে সামান্য কিছু পার্থক্য মূলত কোনো বিভাজন নয়; বরং সৃষ্টির পূর্ণতা ও উৎকর্ষতার জন্যই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সৃজিত জুটি। ¯্রষ্টার অপরুপ ও মমতাময়ী সৃষ্টি নারীজাতি।

পবিত্র কুরআনে নারীদের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী- “ হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন,আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।

তেমনি আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করে থাকো এবং আত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।(‘নিসা’ শব্দটির অর্থ নারী।)

এ সুরা নিসা নামটিই প্রমাণ করে কোরআন নারী জাতিকে কী সম্মান দিয়েছে। মূলত এ আয়াতটি নারী জাতি সম্পর্কে ইসলামের ভাবধারা, ্ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পুরুষ ও নারীর পারস্পরিক দায়িত্ব-কর্তব্য ও সম্পর্কের রুপরেখা প্রসঙ্গে পূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।

আধুনিক যুগে নারীর স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান বিশ্বজুড়ে একটি আলোচিত বিষয়। কিন্তু ইসলাম ও হজরত মোহম্মদ (স.) মানুষের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে ছিলেন অনুপম আদর্শ। তিনি অমর্যাদা ও গ্লানির অতল গহবর থেকে তুলে নারীদের ভালবাসা ও শ্রদ্বার উঁচু আসনে সমাসীন করেছেন।

ইতিহাস পাঠে আমরা দেখি, নবি আমলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যুদ্বক্ষেত্রে নারীদের ছিল স্বত:স্ফুুর্ত অংশগ্রহণ। যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী তখন পর্দানসীন নারীরাও জীবনযাপনের জন্য বাইরে গিয়ে কাজ করতেন। তবে সব ক্ষেত্রেই নারীরা তার শালীনতার নিরাপত্তায় অনুকূল জীবনধারা অনুসরণ করেছেন।

আল্লাহতা‘লা পবিত্র কুরআনে কারিমে সূরা নিসা নামে পূর্ণাঙ্গ একটি সুরা নাজিল করেছেন নারীর যাবতীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের বার্তা নিয়ে। নারীরা আমাদেরই মা, বোন, স্ত্রী কিংবা কন্যা। তাদের হয়রানি বা নির্যাতন করা এবং অর্থনৈতিক ও কর্মের স্বাধীনতা হরণ করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ব।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত, ইসলাম নির্দেশিত পথে নারীকে তার জীবন পরিচালনা ও অধিকার আদায়ে সহযোগিতা করা। ইসলাম কিন্তু পেশাগ্রহণে নারীকে বাধ্য করেনি, একইভাবে প্রয়োজনে নারীর উপার্জনকে হারাম বা নিষিদ্ব করেনি। কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক মুক্তি আনে এবং স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। আধুনিক যুগে নারীর কর্মসংস্থান বিশ্বজুড়ে একটি আলোচিত বিষয়। বস্তুত কোনো মানুষ ন্বনির্ভর হতে পারে না কর্মসংস্থান ছাড়া।কারণ অর্থাভাবে মানুষ পরমুখাপেক্ষী হয়, তার ধর্ম সংকীর্ণ, বুদ্দি¦ দুর্বল এবং মানবতা বিনষ্ট হয়। তাই মানুষের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে রসুল(স.) ছিলেন একেবারেই আপোসহীন। অমর্যাদা ও গ্লানির অতল গহ¦র থেকে তুলে ইসলাম নারীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার উচুু আসনে সমাসীন করেছে।

নারীর পরিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও কর্মের স্বাধীনতা ছিল বলেই রসূলের (স.) যুগে বেহেস্তের সুসংবাদপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাহাবি হযরত জোবায়ের (রা)-এর স্ত্রী, হযরত আবু বকর (রা)- এর কন্যা আসমার (রা)- সপর্দায় ঘোড়ার ঘাস সংগ্রহ করা, খেজুর বাগানের পরিচর্যা, খেজুরের আঁটি বহন করে বাড়ি আনা থেকে সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন। হযরত জাবের ইবনে আববদুল্লাহ খালা তালাকপ্রাপ্ত হলে তিনি খেজুর বাগান থেকে খেজুর সংগ্রহ করতেন। রসুলুল্লাহ (স:) এটা জেনে বললেন এতে কোন ক্ষতি নেই।

মহিলা সাহাবি কিবলাহ (রা) বাজারে ব্যবসা করতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:)-এর স্ত্রী ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। ওহুদের যুদ্ধে আম্মারা (রা:) শক্রদের তরবারির ডজনখানেক আঘাত সহ্য করেও বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে রসুল (স.)-এর ওপর আক্রমণকারী শক্রদের প্রতিহত করেছিলেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা:) এর সময় উম্মে শিফা নামক মহিলা বাজারের পরিদর্শক (আল হিসবাহ) হিসাবে নিয়োজিত হন।

ইসলামে নারীর অবস্থান ও মর্যাদা স্পষ্ট, প্রথমত নারীকে আালাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাই শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে নারীর পিছিয়ে থাকারও কোনো অবকাশ নেই।

উত্তর দিচ্ছেন : আফতাব চৌধুরী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মানবসভ্যতা
আরও পড়ুন