Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

ক্ষুব্ধ দুই মেয়র

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প নকশায় ত্রুটি খানাখন্দে বেহাল রাস্তা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ জুলাই, ২০২১, ১২:০১ এএম

গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রান্সজিট (বিআরটি) প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দেখে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের কারণেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এখন থেকে সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ করার ঘোষণা দেন তিনি।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহসড়কের গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দেশের প্রথম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে কয়েক বছর ধরে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য সড়কের জায়গায় জায়গায় তৈরি হওয়া গর্ত ও ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রীর কারণে প্রতিদিনই তৈরি হয় যানজট। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যানজট, ছোটখাটো দুর্ঘটনায় এই পথে চলাচলকারীদের ভোগান্তি বেড়েছে অনেক গুণ।

গতকাল দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখতে বিমানবন্দর এলাকায় যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চান বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের কাছে। তবে কর্মকর্তারা তা জানাতে না পারায় ক্ষুব্ধ হন ডিএনসিসি মেয়র।

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এই ট্রানজিটে এয়ারপোর্টে এসে বাসগুলো কোথায় কতটুকু জায়গায় ইউটার্ন নেবে, কতটুকু পরিধি থাকবে, ট্রানজিটের সঙ্গে ট্রাফিক জ্যাম সাংঘর্ষিক হবে কিনা হবে না, তারপর ট্রানজিটে চলাচলকারী বাসগুলো কিভাবে টার্ন নেবে এসবের নকশা চাওয়া হলে তারা (বিআরটি কর্মকর্তারা) বলে নকশা প্রস্তুত হয়নি। বাস থেকে যাত্রী নেমে কিভাবে রাস্তা পার হবেন এসবেরও কোন নকশা দেখাতে পারেনি বিআরটি প্রকল্প কর্মকর্তারা। মেয়র আতিকের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আন্ডার পাস নির্মান করতে হবে, এ বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। এ সময় গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কবে আপনারা প্রস্তাবনা পাঠাবেন, কবে পাস হবে আর কবে কাজ শুরু করবেন? বিআরটি প্রকল্পেরই কোন সময়ের হিসেব নাই।

মেয়র আতিক বলেন, এই প্রকল্পের কোথায় সাইনবোর্ড নেই যে কবে কাজ শুরু হয়েছে, কবে শেষ হবে। এ যেন অনির্দিষ্টকালের প্রজেক্ট। তিনি এ সময় বলেন, এয়ারপোর্টের থার্ড ফেজ থেকে হজ্বক্যাম্পে যে আন্ডারপাস টানেল হবে সেই প্রকল্প কর্মকর্তাকে আমার সাথে দেখা করতে বলবেন। আমার সাথে কনসার্ন করে এই মোড়ের আন্ডারপাস ও টানেল যেন করা হয়। তিনি বলেন, এটা সত্য যে উন্নয়নমূলক কাজগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। তবে, এখন থেকে এটি আর হবে না। শহরের সব উন্নয়নমূলক কাজে সিটি কর্পোরেশন ‘ইন্টারফেয়ার’ করবে। যেমনটা আমরা মিরপুরের মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে কিছুদিন আগে বলে এসেছি। উন্নয়ন হলে একপক্ষ বাহবা পাবে আর দুর্ভোগের জন্য মেয়ররা গালি খাবে সেটা হবে না। ট্রেনে করে মানুষ আসবে কিন্তু মানুষ নামার পর চারদিকে কিভাবে যাবে সেই প্ল্যান নেই। এমনটা হতে দেওয়া যাবে না। বিআরটি কর্তৃপক্ষকে রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ সচল রেখে কাজ করতে হবে। জনগণের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয় সেজন্য নিয়মিত রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ সময় বিআরটি প্রকল্প নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন গাজীপুর সিটি মেয়রও। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে পরিমাণ গাড়ি ও জনগণ আমাদের নগরে আছে, তার সঙ্গে এই প্রকল্প ও প্রকল্পের যে নকশার বাস্তবিক কোনো মিল পাচ্ছি না। নকশাও যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলেও যেন তা করে নেওয়া হয় এই অনুরোধ করছি। উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে গাজীপুর ২০ কিলোমিটার জুড়ে বাসের জন্য আলাদা লেন নির্মাণের জন্য বাস র‌্যাপিড ট্র্যানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে।

ব্রিফিংকালে আসন্ন কোরবানি প্রসঙ্গেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ডিএনসিসি মেয়র। পশুর হাট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যে অবস্থা সেই অবস্থায় পশুর হাট বসবে কিনা সেটা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। আমাদের সঙ্গে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। উত্তরা ১২ নাম্বার সেক্টরে হাট বসতো যা দিয়েই চার কোটি টাকা আয় হতো সিটি কর্পোরেশনের। আমি কিন্তু এবার সেই হাট বাতিল করে উত্তরার ১৭ নাম্বার বৃন্দাবনে দিয়েছি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য। আর কোরবানি শুধু আমার বিষয় না বরং পুরো শহরের কোরবানির বিষয়।
আসন্ন ঈদ উল আজহায় নগরবাসীদের অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার আহ্বান জানান মেয়র।
মোঃ আতিকুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে ৭ নম্বর অঞ্চলের ৫০ নং ওয়ার্ডের আজমপুর রেলগেট হতে কসাইবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে কাঠের গুড়ি রেখে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী মালামাল জব্দ করে সেগুলো স্পট নিলামের ব্যবস্থা করা হয়। এসময় ৫টি জায়গায় জব্দকৃত মালামালগুলো আলাদাভাবে ৫টি স্পট নিলামে সর্বমোট ১১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।
দক্ষিণখান এলাকা পরিদর্শনকালে ডিএনসিসি মেয়র এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকেরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রানজিট প্রকল্প

৮ জুলাই, ২০২১
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ