Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জিকার টিকা আবিষ্কারের দাবি ভারতে

বিভিন্ন এলাকা থেকে মশা ধরে পরীক্ষাগারে গবেষণার পরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ভারতের হায়দ্রাবাদের একটি গবেষণা সংস্থা জিকা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছেন। তাদের এ দাবি সত্যি হলে, বিশ্বের প্রথম জিকা টিকা আবিষ্কারের শিরোপা উঠতে চলেছে ভারতের মাথায়। যখন বিশ্বের সব দেশের বিজ্ঞানীরাই জিকা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, এমন সময় গবেষণার প্রথম পদক্ষেপেই সাফল্যের দাবি করলেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। হায়দ্রাবাদের ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. কৃষ্ণ এল্লার কথায়, আমরাই প্রথম সংস্থা যারা জিকার টিকার স্বত্ব দাবি করতে পারি।
এদিকে বিশ্বব্যাপী জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মুখে ভারতে মশা নিয়ে গবেষণা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যেই জিকার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মশার ওপর ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক কর্মসূচির আওতায় জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত মশা ধরা এবং সেগুলো নিয়ে গবেষণা করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বলা হচ্ছে, জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এডিস মশার কামড় থেকেই এই ভাইরাস মাবনদেহে ছড়ায়। এই একই প্রজাতির মশা ডেঙ্গু এবং ইয়েলো ফিবারের মতো রোগ ছড়ানোর জন্যও দায়ী। উল্লেখ্য, মশার মাধ্যমেই জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। এতে বলা হয়, যেভাবে এ ভাইরাস দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের স্বাস্থ্য সেবা মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) ডা. জগদীশ প্রসাদ বলেছেন, জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক হারে মশা ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরে এইসব মশা গবেষণাগারের নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, কেরালা, তামিলনাড়ু ইত্যাদি রাজ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বর্তমানে সহায়ক আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে জিকা ভাইরাসের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়ান মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল এ ব্যাপারে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের পশ্চিমাঞ্চল বিশেষত দেশটির কর্নাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু ও পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহরগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকরা বলছেন, এখান থেকে অনেক মানুষ দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণ করছেন। আর দক্ষিণ আমেরিকায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে জিকা ভাইরাস। সে কারণে বেঙ্গালুরুসহ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু জিকা ভাইরাসের প্রতিকার বা প্রতিরোধের বিষয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য তেমন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ব্রাজিলসহ ল্যাটিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে জিকা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটছে। এ কারণে গত সোমবার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। মশাবাহিত এ রোগ মোকাবেলায় এরই মধ্যে দুই লাখ সেনা নামিয়েছে ব্রাজিল। সতর্কতায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। কলম্বিয়া, ইকুয়েডরসহ বেশ কয়েকটি দেশে দম্পতিদের গর্ভধারণ পেছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার অতি পরিচিত জিকা (স্থানীয় ভাষায় ‘বাড়ন্ত’) বনাঞ্চলে ১৯৪৭ সালে প্রথম এ ভাইরাসের সন্ধান মেলে। রকফেলার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে উগান্ডা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিজ্ঞানীরা ওই বনে তখন পীত জ্বর নিয়ে গবেষণা করছিলেন। গবেষণার এক পর্যায়ে দুর্ঘটনাবশত বানরের দেহে নতুন এক অণুজীবের খোঁজ পান বিজ্ঞানীরা, যার নাম দেওয়া হয় ওই বনেরই নামে। সন্ধান পাওয়ার সাত বছর পর নাইজেরিয়ায় প্রথম মানবদেহে এ ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে। এরপর দীর্ঘ সময় পরপর দুই দফায় এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে এশিয়া ও মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে। অবশ্য কখনোই এ রোগ এবারের মতো হুমকি হয়ে আসেনি। ইন্ডিয়া টুডে, ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জিকার টিকা আবিষ্কারের দাবি ভারতে
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ