Inqilab Logo

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫ আশ্বিন ১৪২৮, ১২ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

কোরবানিবিরোধী অপপ্রচার

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০২১, ১২:০০ এএম

কোরবানির ইতিহাস সুপ্রাচীন হলেও একে ‘পশু হত্যা’ বা ‘গো হত্যা’ নামে আখ্যায়িত করার ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়েছে ভারতে ১৮৫৭ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু পরে। মুসলমানদের গরু কোরবানিকে কেন্দ্র করে প্রথম হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল ১৮৫৭ সালে, আজমগড়ে। এ ঘটনার পরপরই প্রখ্যাত কংগ্রেস নেতা মি. তিলক কর্তৃক গরু জবাইবিরোধী সমিতি গঠন করা হয়। অতঃপর কংগ্রেসি নেতৃবর্গ সর্বদা গো রক্ষার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকেন। এরপর মথুরায় একটি গো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিষাণ রাজ্যের উজিরে আলার (মুখ্যমন্ত্রী) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে গো হত্যা বন্ধের উপায় সম্বন্ধে বহু চিন্তা-ভাবনা করা হয় এবং তাতে বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী একটি প্রতিনিধিদল পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের নেতৃত্বে ভারতের লাট বাহাদুরের সাথে সাক্ষাৎ করে গো হত্যা বন্ধের দাবি জানাবে বলে স্থির করা হয়। এই পদ্ধতিতে কামিয়াব না হলে ব্যাপক ‘সত্যাগ্রহে’র আয়োজন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়। এই উদ্দেশ্যে একটি ফান্ড খোলা হয়। জনৈক হিন্দু তৎক্ষণাৎ পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ প্রদানের কথা ঘোষণা করেন।

পাঠক এই সঙ্গে পূর্ব পরিস্থিতি সম্পর্কেও কিছুটা তথ্য জেনে নিন, যেখানে হিন্দুশাস্ত্রে গরুর গোশত ভক্ষণ করার বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ ‘বেদে’র কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এতে আছে ‘হিন্দু সমাজ গরুর গোশত খাইত।’ পণ্ডিত অবিণাশ চন্দ্র দাশ, এমএ মহাশয় তার গ্রন্থ ‘ঋগবেদ’ ৯৮ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ‘প্রাচীন আর্যদের মধ্যে গরুর গোশত খাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।’ শ্রী চিন্তামণি রাউভেদী বলেন, ‘আদি যুগে ঋষি ব্যক্তিরা গরুর গোশত খাইতেন।’ বেদের বহু মন্ত্রে লেখা আছে যে, ‘গরুর গোশত খাওয়া উচিত।’

হিন্দু পণ্ডিত নেতৃবর্গ গো মাংস সংক্রান্ত তাদের ধর্ম গ্রন্থাবলির শিক্ষার কথা ভুলে যান এবং ইসলামবিদ্বেষী চিন্তা-চেতনাকে উত্তপ্ত করে সাম্প্রদায়িকতা উজ্জীবিত করতে থাকেন। পরবর্তীকালে হিন্দু পণ্ডিতগণ ‘গো হত্যা’ বন্ধ অভিযানকে ছড়িয়ে দেন এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িকতার এক অব্যাহত ধারা শুরু হয়ে যায়, যা নানাভাবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অহরহ এখনো ঘটছে এবং হিন্দুত্ববাদীদের ‘বলির পাঠা’ হচ্ছেন, ভারতীয় সংখ্যালঘু মুসলমানগণ। কেবল গো হত্যা নয়, মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনও উগ্র হিন্দুদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ যাবত তাদের হাতে বিভিন্ন স্থানে কত মুসলমান শহীদ ও জখম হয়েছেন, সে পরিসংখ্যান দেয়া কঠিন।

মোগল সম্রাট আকবর তার হিন্দু প্রজাদের মনোরঞ্জনার্থে গরু জবাই বন্ধের যে ঘোষণা হয়েছিলেন, তাতে তাকে যথেষ্ট বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। উলামা সমাজ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এ সময় ইমাম রব্বানী মোজাদ্দেদে আলফেসানি (রহ.) লেখনীর মাধ্যমে এর বিরোধিতা করতে থাকেন। মোজাদ্দেদ সাহেব এ সম্বন্ধে তার এক পত্রে লিখেছেন : ‘হিন্দুস্থানে গরু জবাই করাকে ইসলামের বড় একটি রীতিনীতি (ঐতিহ্য) এবং ভারতীয় মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে একটি বিরাট পার্থক্য সাধনকারী নিদর্শন হিসেবে গণ্য করতে হবে।’ সুতরাং গরু জবাই করা ভারতীয় মুসলমানদের কেবল ধর্মীয় অধিকারই নয়, বরং এটা তাদের তমদ্দুনিক বা সাংস্কৃতিক অধিকারও বটে। কেবল মুসলমানদের মধ্যে গরুর গোশত খাওয়া সীমাবদ্ধ নয়। সেখানকার এক বিপুল সংখ্যক হিন্দুও গো মাংস ভক্ষণ করতে অভ্যস্ত, বস্তুত হিন্দু শাস্ত্রে গো হত্যা নিষিদ্ধ না হলেও ইসলামবিদ্বেষ তাদের বিরত রাখে।



 

Show all comments
  • মনিরুল ইসলাম ১৫ জুলাই, ২০২১, ৩:০৬ এএম says : 0
    ধন্যবাদ ইনকিলাবকে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
    Total Reply(0) Reply
  • সৈকত ফকির ১৫ জুলাই, ২০২১, ৩:০৭ এএম says : 0
    কোরবানি নিয়ে অপপ্রচার দেশের মুসলিম সমাজ মেনে নেবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল ইসলাম ১৫ জুলাই, ২০২১, ৩:০৮ এএম says : 0
    কোরবানি নিয়ে দেশে যঢ়যন্ত্র করা হলে কঠিন জবাব দিতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • শেখ আল হেলাল ১৫ জুলাই, ২০২১, ১০:১৩ এএম says : 0
    হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি আসমানী কিতাব না, সেহেতু"মনচাহি" মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে ব্যবস্থা তৈরি করার প্রয়োজন হয় তা খুবই সহজ এবং সেই সহজের মধ্যে লুকিয়ে থাকে গলদ। যেমন : ভক্তি-শ্রদ্ধায় গদগদ হয়ে যার গোশত খাওয়া যায়না তার গায়ের চামড়ায় দিয়ে কি কি বস্তু তৈরি করা হয় ভেবে দেখুন তো একবার।
    Total Reply(0) Reply
  • মো:+শফিউর+রহমান ১৫ জুলাই, ২০২১, ১১:১১ এএম says : 0
    যে মানব জাতি গরুর মল মুত্রকে পবিত্র মনে করে এবং রোগ মুক্তি হবে প্রচার করে মল মুত্র ভক্ষন করে এবং গোসল করে তারা কোন জাতি এদেরকে মানব জাতির মধ্যে গন্য করাও অন্যায় । তাদের কথায় বা কাজে আমাদের কষ্ট পেলে চলবেনা ওদের প্রত্যেক কার্য কর্মকে প্রতিহত করতে হবে । একটা কথা আছে সেটা হলো “জোর জার মুল্লুক তার” কারন ওদের একখন জোর বেশী আমরা একটি ছোট দেশে বাস করতেছি ওদের তুলনায় একটা প্রদেশের সমানও বাংলাদেশ নয় ।এই সুযোগটা ওরা নিচ্ছে । পৃথীবিতে মুসলমানের ভর শত্রু হলো সনাতন ধর্মলম্বি জাতি এবং দ্বীতিয় শত্রু হলো ইহুদি জাতি । মুসলমান জাতিকে সর্তক্য হয়ে একতা বদ্ধ হয়ে ইসলামের জোস নিয়ে চলতে হবে । না হয় এসমস্ত জাতির কাছে অপদস্ত হতে হবে ।
    Total Reply(0) Reply
  • তুষার আহমেদ ১৫ জুলাই, ২০২১, ৯:২৭ এএম says : 0
    সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর শর্তসাপেক্ষে কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার রবের জন্য নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা : কাউসার, আয়াত : ২)।
    Total Reply(0) Reply
  • হুমায়ূন কবির ১৫ জুলাই, ২০২১, ৯:২৫ এএম says : 0
    কোরবানি হলো মুসলিমদের একটি ইবাদত, যা প্রতি বছর বিত্তববানদের ওপর আরোপিত হয় নির্দিষ্ট সময়ে। এই ইবাদাতের মাধ্যমে মুসলিম মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করে থাকেন।
    Total Reply(0) Reply
  • নাবিল আব্দুল্লাহ ১৫ জুলাই, ২০২১, ৯:২৭ এএম says : 0
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কুরবানি করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ২১২৩, মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ৮২৭৩)
    Total Reply(0) Reply
  • salman ১৫ জুলাই, ২০২১, ৬:১০ এএম says : 0
    Allah ai sob Mushrik & tad'er Doshor der Hedayat dan korun, r Jodi a der Nosib a Hedayat na thake tobe oder Dhongsho kore daw
    Total Reply(0) Reply
  • Dadhack ১৫ জুলাই, ২০২১, ১২:২৪ পিএম says : 0
    পৃথিবীর মধ্যে শুধু মুসলিম জাতির অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি কখনো অবিচার অত্যাচার করে না কিন্তু মুসলিমরা নিজেদের মানুষের উপর পাশবিক অত্যাচার করে...মুসলিমরা যখন ভারত বর্ষ শাসন করতো তখন যদি মুসলিমরা ইচ্ছা করতো তাহলে একটা হিন্দু ইন্ডিয়াতে বেঁচে থাকত না. We ruled india nearly 800 years.. we muslim never kill them or rape them.. In Islam we are not allow to harm any things even without any reason we are not allow to tear a leaf from a tree, where as in 70 years hindu killed millions of muslim and raped thousand of our mother daughter. If we muslim wanted to kill hindu then in India there will no more Hindu, one Hindu Scholar named স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য before he was anti muslim then when he studied Islam then his attitude changed and he wrote a book called: আতংক না আদর্শ. ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তির নিরপেক্ষ জবাব, this book can be bought from Rokomary, every muslim and hindu must read this book.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন