Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

এডেনয়েড-নাকের পেছনে টনসিল

প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

অধ্যাপক ডাঃ এম আলমগীর চৌধুরী

নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন
বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি বিভাগ
আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,
রোড ৮, ধানমন্ডি, ঢাকা, ০১৯১৯ ২২২ ১৮২
ই-মেইল : ধষধসমরৎ.পযড়ফিযঁৎু০৭@মসধরষ.পড়স

এডেনয়েড একটি শিশুদের রোগ। এটা হলো এক ধরনের লিম্ফয়েড টিস্যু যা নাকের পেছনে গলবিলের উপরিভাগে থাকে। সাধারণত দুই বছরের নিচের শিশুদের এডেনয়েড শুরু হয়, সাত বছর বয়সে বড় হয় এবং বার বছর বয়সে সম্পূর্ণ মিলিয়ে যায়। তিন থেকে বার বছরের মধ্যে যদি উপরের শ্বাসনালীর ইনফেক্শন হয় অথবা এডেনয়েডের ইনফেক্শন হয় তাহলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
এডেনয়েডের উপসর্গসমূহ :
শিশুদের এডেনয়েডের জন্য উপসর্গসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় -
১. নাক বন্ধ থাকার জন্য
২. গলবিল এবং মধ্য কর্ণের সংযোগকারী ইউস্টাশিয়ান টিউব (ঊঁংঃধপযরধহ ঃঁনব) বন্ধ জনিত
৩. ইনফেক্শন অথবা প্রদাহ থাকার কারণে
নাক বন্ধজনিত উপসর্গসমূহ :
১. নাক বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়
২. নাক দিয়ে সর্দি পড়তে থাকে
৩. এডেনয়েডের জন্য শিশুরা মুখ হা করে ঘুমায়
৪. সাইনুসাইটিস হতে পারে
৫. নাকের স্বরে কথা বলা
৬. ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা
৭. ঘুম ভেঙে জোরে জোরে শ্বাস নেয়া
৮. ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে
ইউস্টাশিয়ান টিউব বন্ধ থাকার উপসর্গসমূহ :
১. মাঝে মাঝে কানে ব্যথা হওয়া
২. পর্দার পেছনে মধ্য কর্ণে পানি (ঊভভঁংরড়হ) জমে, যাকে অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফিউশন (ঙঃরঃরং সবফরধ রিঃয বভভঁংরড়হ) বলে।
৩. কানে কম শোনা
৪. অনেক সময় মধ্য কর্ণে ইনফেক্শন হতে পারে
৫. স্কুলের পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়
৬. রেডিও টেলিভিশন উচ্চ স্বরে শোনে

এডেনয়েডের জন্য জটিলতা সমূহ :
ক্স শিশুদের খেতে কষ্ট হয় যেহেতু শিশুরা এডেনয়েডের জন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়
ক্স খেতে অনেক সময় লাগে
ক্স পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়
ক্স শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ব্যাহত হয়
ক্স নাকের স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না বলে নাক ছোট হয়ে যায়
ক্স নাক ও মুখের মাঝখানের খাঁজ থাকে না
ক্স মুখ দিয়ে লালা গড়িয়ে পড়ে
ক্স সামনের দাঁত উঁচু এবং এলোমেলো হয়ে যায়
এই উপসর্গসমূহ থাকলে মুখমন্ডল ভাবলেশহীন হয়ে যায় এবং আই কিউ কমে যায়। উপরোক্ত উপসর্গসমূহ দেখা দিলে তাকে এডেনয়েড ফেসিস (অফবহড়রফ ভধপরবং) বলে। এই ধরনের শিশুদের মুখ দেখলেই চেনা যায়।

রোগ নির্ণয় :
রোগের ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং এক্ররে-র মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়। এক্ররে-র মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যায় এবং নাসারন্ধ ও গলবিলের মাঝখানে মাংস পি- দেখা যায় যা শ্বাসনালীকে বাধাগ্রস্ত করে রাখে।

চিকিৎসা :
এডেনয়েড যদি অল্প পরিমাণে বড় হয় তাহলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। কিন্তু বেশি বড় হয়ে গেলে এবং শ্বাসনালীকে বাধাগ্রস্ত করলে এবং কোন উপসর্গ দেখা দিলে অপারেশন করে ফেলা ভাল।

এডেনয়েড অপারেশনকে এডেনয়ডেকটমি বলে। এটা অত্যন্ত নিরাপদ সার্জারি। অপারেশনের পরে রোগী মুখে খেতে পারবে, মাত্র একদিন হাসপাতালে অবস্থান করতে হবে অথবা ডে-কেস সার্জারি হিসাবে করা যায়। আমাদের দেশে এডেনয়ডেকটমি অপারেশন নিয়মিত করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন