Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মানুষের আগামীর আবাসস্থল সাগরতলে আস্ত শহর

প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : পৃথিবীতে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে সুদূর ভবিষ্যতে এই গ্রহে মানুষের বসবাসের জায়গার সংকট চরম আকার ধারণ করবে। প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনেরও কোন জায়গা থাকবে না। সাধারণ মানুষ এটা নিয়ে না ভাবলেও বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদগণ এ নিয়ে শংকিত। সে কারণে বিকল্প বসবাসের স্থান খুঁজে বের করার উপর তারা জোর দিয়েছেন। এই চিন্তা থেকেই মহাশূণ্যে বসবাসের কথা ভাবা হচ্ছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত এই ভাবনা একেবারেই কল্পনাবিলাস পর্যায়েই রয়েছে। অনেকে আবার সাগর-মহাসাগরের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। পৃথিবীর ৪ ভাগের তিনভাগই জলরাশি আর মাত্র একভাগ স্থল। এই তিন ভাগকে যদি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য মানুষ আরো অনেক শতাব্দী নিশ্চিত থাকতে পারবে। ভবিষ্যতে সাগর-মহাসাগর যে মানব জাতির খাদ্য ও জ্বালানীর মূল উৎস হয়ে উঠবে--- এতে কোন সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সাগরতলে মানুষের বসবাস সম্ভব কি না। বিজ্ঞানীরা এখন তা নিয়েই ভাবছেন। এই ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বেলজিয়ামের স্থপতি ভিনসেন্ট ক্যালিবাউট। তার পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পেলে বলা যায় ভবিষ্যতে সাগর-মহাসাগরই হবে মানুষের বসবাসের প্রধান ও বিস্তৃত স্থান। তিনি সাগরতলে শহর নির্মানের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
এই পরিকল্পনায় ১০ হাজার ফ্ল্যাটবিশিষ্ট একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে বাস করবে ২০ হাজার মানুষ। প্রতি ফ্ল্যাটের নির্মাণ খরচ পড়বে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮ টাকা। তবে ফ্লাটগুলোর বিক্রয় মূল্য এখনো নির্ধারিত হয়নি। এ ভবন নির্মাণের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ ৭ হাজার ২৮০ টাকা। ২০৬৫ সালের ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পানির নিচে এ শহরটিতে ফ্ল্যাট ছাড়াও থাকবে অফিস স্পেস, ওয়ার্কসপ, বিজ্ঞানাগার, সামুদ্রিক খামার, কৃষি খামার ও ফলের বাগান। সব মিলিয়ে এটি হবে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ আবাসস্থল। প্রতিটি ভবনের গভীরতা হবে অন্তত এক হাজার মিটার।
নতুন প্রজেক্ট ‘অ্যাকুয়ারা’ শীর্ষক প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। ভিনসেন্ট ক্যালিবাউট ২০১৫ সালে ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরিওতে প্রকল্পটি প্রকাশ করেন। সাতটি মহাদেশের পাঁচটি মহাসাগরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি। সাগরের নানামুখী ব্যবহার ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা চিন্তা করেই ক্যালিবাউট এ পরিকল্পনা করেছেন।
তিনি জানান, ভবনগুলোর কাঠামো তৈরি হবে নীল রঙের স্বচ্ছ কার্বন দিয়ে। এজন্য প্রতিটি ভবনে কার্বন লাগবে ২৫০০ টন। ভবনগুলোর প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে প্রকৃতি নির্ভর জিনিসপত্র ব্যবহার করা হবে। পাপাশাপাশি সাজানো অ্যাপার্টমেন্টগুলোকে এক সঙ্গে রাখতে যে আঠা ব্যবহার করা হবে তা তৈরি হবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। প্রবল স্রোত, জলোচ্ছ্বাস, ভ’মিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়া সেগুলোকে আলাদা করতে বা কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। গলদা চিংড়ির মতো স্বচ্ছ ও বিশেষ আবরণের ফাইবার ব্যবহার করা হবে। ভবনগুলোর মেঝেতে এমন এক ধরনের পদার্থ ব্যাবহার করা হবে, যা হাঙ্গরের ত্বকে থাকে। সেগুলো সম্পূর্ণ ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। এর উপাদান যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকে ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম।
ভিনসেন্ট বলেন, সমুদ্রের নিচে তৈরি ভবনগুলোর বাসিন্দাদের কোনো কিছুর জন্য বাইরে যেতে হবে না। প্রয়োজনীয় সবকিছু ভবনের মধ্যেই উৎপাদিত হবে। ভবনটির নকশায় পরিবেশের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ভবন কোনো কার্বন নিঃসরণ করবে না। কারণ ভবনটিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো জ্বালানি ব্যবহার করা হবে না। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত তাপ দিয়েই জ্বালানির চাহিদা মেটানো হবে।
সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে মিঠা পানিতে রূপান্তরিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। ‘ওসোমোটিক’ চাপ প্রয়োগ করে পানি থেকে লবণ আলাদা করা হবে। বাতাসও প্রাকৃতিকভাবে সতেজ করা হবে। একটি চিমনির সাহায্যে গরম বাতাস বাইরে বের করে দেওয়া হবে। সতেজ বাতাস সরবাহের জন্য এখানে একটি অক্সিজেন স্টেশনও থাকবে।
খাবারের জন্য চাষাবাদেরও ব্যবস্থা থাকবে। কৃষি খামারের জন্য নির্মিত হবে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২৫০ মিটার প্রস্থের জমির প্লট। শাকসবজি ও ফল চাষের ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। মাছ চাষ করার দরকার পড়বে না। কারণ সমুদ্রের মাছেই চাহিদা মিটবে বলে তিনি জানান।
ভিনসেন্ট ক্যালিবাউট তার নকশার মূল পরিকল্পনায় ভবনগুলোর ডিজাইন ক্রিস্টাল জেলি ফিসের মতো করে করেছেন। সেখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলো হবে সাজানো গোছানো গ্রামের মতো। দেখতে হবে অবিকল ক্রিস্টাল জেলিফিস আকৃতির। ভবনগুলোর উপরেও জেলিফিসের ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রতিটি ভবনের উপরে একটি করে ডক স্টেশন থাকবে। বাইরে থেকে ছোটো ছোটো নৌকায় করে এই ডক স্টেশনে এসে থামতে হবে। তারপর ভবনে প্রবেশ করা যাবে। ভবনের বাইরে যেতে চাইলেও এভাবেই যেতে হবে।
১৯৭৭ মালে বেলজিয়ামে জন্ম নেয়া এই স্থপতি ব্যতিক্রমধর্মী নানা উদ্ভাবনীর জন্য ইতিমধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও লাভ করেছেন। তার এই বৈচিত্রপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে আগামীদিনে মানুষের বসবাসের সংকট অনেকটাই দূর হবে- এতে কোন সন্দেহ নেই। সূত্র : সিএনএন, টাইম



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ