Inqilab Logo

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২ আশ্বিন ১৪২৮, ০৯ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

নিষেধাজ্ঞা শেষেও মাছ শিকারে যেতে পারছে না জেলেরা

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৩ জুলাই, ২০২১, ৯:৫৮ পিএম

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পরও সাগরে ইলিশ মাছ শিকারে যেতে পারছেন না পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সাগর সংলগ্ন আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের ৫ শতাধিক ট্রলারের জেলেরা। গতকাল ২২ জুলাই রাত বৃষ্টি শুরু হয়ে আজ দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়ার সাথে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।

জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের বাঁধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষণে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫ দিনের মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য বিভাগ। বছর জুড়ে ইলিশের আকাল আর করোনার প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরে দখিনের জেলেরা। এছাড়া এসময়ে সরকার প্রদেয় অপ্রতুল খাদ্য সহায়তা নিয়েও রয়েছে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জালে ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ফের প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে আসবে মৎস্যবন্দর আলীপুর মহিপুরের আড়ৎগুলোতে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা বরফকল গুলোও বরফ উৎপাদনের জন্য চালু করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শুরু হওয়া জেলেদের মধ্যেদীর্ঘ্য ৬৫ দিনের অপেক্ষার মধ্যে নতুন করে কালো ছায়ার প্রভাব পড়েছে।

আলীপুর মৎস্যবন্দরের দুলাল কোম্পানীর স্বত্বাধিকারী মো:দেলোয়ার হোসেন দুলাল জানান, তার এফবি-মামনী-২ ও ৩ নামে দুটি ট্রলার রয়েছে,আজকে রাতে ৬৫ দিনের অবরোধের সময় শেষ হওয়ার হিসেবে তিনি তার ট্রলার দুটিকে প্রস্তুত করেছিলেন ১৫ দিনের বাজার বরফ সহ প্রয়োজনীয় সকল জিনিস দিয়ে। প্রতিটি ট্রলারে কমপক্ষে ২১ জন লোকের প্রয়োজন হয়, প্রতিটি ট্রলারের জন্য ২০০টি বরফক্যানও লোড দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় ঘাটেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদেরকে, যার ফলে বাজার সহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে তাদের।

সৈকত ফিশিং এর মালিক আসাদুজ্জামান দিদার জানান,গতবছরে সাগরে ইলিশ মাছ কম ধরা পড়ায় অনেক ট্রলার মালিক তাদের ট্রলার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ বছরে ৬৫ দিনর অবরোধ শেষে যখন ট্রলার মালিকরা জেলেদের প্রস্তুত করেছেন তাদের প্রয়োজনীয় বাজার সদাই নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করতে তখনই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শুরু হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা দিয়েছে । প্রতিটি বড় ট্রলারে কমপক্ষে সাড়ে তিন থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয় প্রথম ট্রিপে সাগরে মাছ ধরতে।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়তদার ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করায় আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের ট্রলার গুলি আজ ৬৫ দিনের অবরোধের সময় শেষ হওয়ার পরও সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না।

মৎস্য বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার করে আসছে। এদেরকে ধরতে মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও তার থেমে নেই।

কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কলাপাড়া উপজেলায় প্রায়২৫০ থেকে ৩০০ ট্রলার সহ ১৮ হাজার ৩০৫ জন জেলে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা না মেনে সাগরে মাছ শিকারের চেষ্টা চালায় তাদেরকে ধরতে প্রায়ই আমাদের অভিযান চলছে। আজ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাচ্ছে । ট্রলার গুলি তাদের প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে, আবহাওয়া ভালো হলেই তারা সাগরে ইলিশ মাছ শিকারে নেমে যাবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পটুয়াখালী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ