Inqilab Logo

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫ আশ্বিন ১৪২৮, ১২ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

করোনায় বিশ্বে ৩ জনে ১ জন চাকরি হারাচ্ছেন

ওয়াশিংটনভিত্তিক জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০২১, ১২:০১ এএম

গত বছর থেকে বিশ্ব আক্রান্ত করোনাভাইরাসে। কোভিড-১৯ মহামারির নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের ওপর ব্যাপকভাবে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, করোনা মহামারির এই সময়ে বিশ্বে প্রতি ৩ জনের একজন চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন।
গোটা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। ওই জরিপে আরো দেখা গেছে, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কর্মীর সংখ্যা ২ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কর্মীর সংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ। ২০২০ সালে তা হয়েছে ২০ শতাংশ। করোনার সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৬৭ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ মানুষের জীবনে করোনার প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বের ১১৬টি দেশের মানুষের ওপর ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস ২০২১’ শীর্ষক এই সমীক্ষা চালিয়েছে গ্যালাপ। জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী কর্মীদের মধ্যে প্রতিদিনই উদ্বিগ্নতা, চাপ, ক্রোধ ও দুঃখবোধ বাড়ছে। ৪১ শতাংশ কর্মী জানান, আগের দিনে তারা অনেক উদ্বিগ্ন ছিলেন। ৪৩ শতাংশ জানান, আগের দিন ব্যাপক চাপে ছিলেন তারা। ২৪ শতাংশ জানান, তারা ক্রোধ অনুভব করেছেন। ২৫ শতাংশ অনুভব করেছেন দুঃখ।
গ্যালাপের ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের কর্মীদের উদ্বেগ, মানসিক চাপ, ক্রোধ ও দুঃখবোধ আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে বেড়েছে। বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ কর্মী জানান, আগের দিনে তারা অনেক উদ্বিগ্ন ছিলেন। ৪১ শতাংশ জানান, আগের দিন ব্যাপক চাপে ছিলেন তারা। ২৫ শতাংশ জানান, তারা ক্রোধ অনুভব করেছেন। ৩৬ শতাংশ অনুভব করেছেন দুঃখ।
গ্যালাপ বলছে, করোনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও মৃত্যু, লকডাউন, স্কুল বন্ধ থাকায় ওপরের ফলাফল অবাক হওয়ার মতো নয়। করোনার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। টিকে থাকতে কোটি কোটি শ্রমিককে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
করোনার কারণে সৃষ্ট বেশ কিছু পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে গ্যালাপের ওই প্রতিবেদন। দেখা গেছে, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা এখনো চাকরি বা কাজে আছেন, তাদের অর্ধেকেরই আয় আগের চেয়ে কমে গেছে মহামারির এই সময়ে (২০২০ সালে)। ৫৩ শতাংশ কর্মী অস্থায়ীভাবে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ৪৯ শতাংশ কর্মীর কর্মক্ষেত্রে বা ব্যবসায় আগের চেয়ে কর্মঘণ্টা কমেছে। ৩২ শতাংশ কর্মী চাকরি বা তাদের ব্যবসা হারিয়েছেন।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ মানুষের জীবনে করোনার প্রভাব পড়েছে। এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। তাদের ৫০ শতাংশ মানুষের ওপর করোনার প্রভাব পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৪৯ শতাংশ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে করোনার। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সর্বনিম্ন ২২ শতাংশ মানুষের ওপর প্রভাব পড়েছে। গ্যালাপের জরিপে উত্তরদাতাদের প্রতি তিনজনের একজন মহামারির মধ্যে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়েছেন। পুরো বিশ্বের প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে এমন মানুষের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি।
করোনার সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের আয়, ৬৭ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার ৫৫ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। এই হার সবচেয়ে কম পশ্চিম ইউরোপ। এখানকার ২৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের আয় কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৬৬ শতাংশ বলেছেন, তারা সাময়িকভাবে কাজ থেকে ছিটকে পড়েছেন। ৫০ শতাংশ মানুষ বলছেন, করোনার কারণে তারা চাকরি হারিয়েছেন। সবচেয়ে কম চাকরি হারিয়েছেন ইউরোপের মানুষ, ৬ শতাংশ।
২০০৫ সাল থেকে এই জরিপ করে আসছে গ্যালাপ। তবে এবারে জরিপের পদ্ধতি অনেকটা পাল্টেছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আগের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ব্যবহার করে জরিপ পরিচালনা করা নিরাপদ ও সম্ভব ছিল না। তাই মুখোমুখি প্রশ্ন না করে ফোনে বা অন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জরিপ চালানো হয়। ১৫ ওপরের বয়সী মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ