Inqilab Logo

রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪ আশ্বিন ১৪২৮, ১১ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

হাসপাতালে বেড, অক্সিজেন, ওষুধ কোন কিছুই নেই : মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ জুলাই, ২০২১, ৬:৪৫ পিএম

করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারির সময়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। তাদের উদাসীনতা, অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুর্নীতি আজকে দেশকে এবং দেশের মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করে ফেলেছে। হাসপাতালগুলোতে বেড নেই, অক্সিজেন নেই, আইসিইউ বেড নেই এবং ঔষধ নেই। এরকম একটা অবস্থা তারা (সরকার) সৃষ্টি করেছে। করোনা হবে চিকিৎসা পাবে না, ভুল চিকিৎসা হবে, গরীব মানুষ চিকিৎসার অভাবে রাস্তায় পড়ে থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

সোমবার বিএনপি মরহুম সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘স্মৃতিতে আহ্বান’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলাম প্রান্তিক মানুষকে যেন লকডাউন চলাকালীন তিন মাসের জন্য এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া হয়। তারা (সরকার) কোনো কথাই শুনেনি। অথচ ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে তার শতকরা ৮৬ ভাগ ভুয়া। অর্থাৎ তারা যে নামগুলো দিয়েছে সেখানেও তারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামগুলো দিয়েছে যাতে করে সেই টাকা নিয়ে নিতে পারে। এটা সর্বক্ষেত্রেই হচ্ছে।

সিলেট উপনির্বাচনে গ্রেপ্তার-হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা সংক্রমণ মহামারির মধ্যেও তারা (নির্বাচন কমিশন) সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন করছেন। এতো বলার পরেও হাইকোর্টে রিট করার পরেও তারা সেটা থেকে বিরত হননি। জোর করে এই নির্বাচন করে আরো একটা বিরাট অংশকে তারা বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করছি না। অথচ আমাদের নেতা-কর্মীদের অস্থির করে রেখেছে, বাড়ী বাড়ী রেইট করছে, তাদের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে, তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে।

বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বাকশালের মতো অবস্থাটা সৃষ্টি করেছে। এটা একদিনে হয়নি, ধীরে ধীরে ক্রমান্বয়ে সুচতুরভাবে এটা করেছে। এর মূল বিষয়টা ছিলো ১/১১’র ঘটনা। ১/১১’র বিরাজনীতিকরণ হচ্ছে এখন। তথাকথিত পার্লামেন্টে চিৎকার করে তারা (আওয়ামী লীগ) বলে যে, আমলা এখন সব কিছু দখল করে নিয়েছে। রাজনীতি নেই, রাজনীতিবিদরা দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার কার উপরে টিকে আছে। জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নাই। আমলা এবং কিছু দুর্নীতিপরায়ন ব্যক্তি তাদের যোগসাজসে আজকে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকারকে যদি না সরানো যায় তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য পুরোপুরিভাবে ধবংস হয়ে যাবে। এখন এটা সারা দেশের মানুষের দায়িত্ব এই সরকারকে সরাতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির দায়িত্বটা বেশি যে বিএনপিকেই এর নেতৃত্ব নিতে হবে এবং সেজন্য আমাদের যেটা প্রয়োজন- আমাদের কখনো হতাশ হওয়া যাবে না, হতাশা ও ব্যর্থতা নিয়ে এগুনো যাবে না। আমাদেরকে অবশ্যই আশাবাদী হতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। আবদুল আউয়াল খান ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ফাউন্ডেশনের আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ও মরহুম আবদুল আউয়াল খানের ছেলে আসাদুজ্জামান খান বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল ইসলাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ