Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

হতশ্রী ব্যাটিংয়ে সান্ত¦না মোসাদ্দেকের ইনিংস

প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শামীম চৌধুরী : ১০ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন বলে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিংয়ে ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিয়েছে টীম ম্যানেজমেন্ট। তবে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছাড়া আফগানদের বিপক্ষে ৭ রানের জয়ে নিজেদের গলদ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করেছে মাশরাফিরা। প্রথম ম্যাচে সেট হয়ে কেন ইনিংসকে বড় করতে পারেনি, তা নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে কম বিশ্লেষণ হয়নি। সে কারণেই দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের কাছে বড় ইনিংস চেয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু টিমমেট ব্যাটসম্যানরা যে অধিনায়কের সে দাবি পূরণ করতে পারেননি! রানের চাপে পিষ্ঠ করতে চেয়ে উল্টো নিজেরাই ভুলের মহড়ায় ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে! তারপরও স্কোর ১৮০ পর্যন্ত টেনে নিতে পারলেই হতো মুখরক্ষাÑ সেখানে অভিষিক্ত মোসাদ্দেকের নেতৃত্ব দেয়া শেষ জুটির ৪৪ বলে অবিশ্বাস্য ৪৩’র কল্যাণে স্কোরটা টেনে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ দল ২০৮/১০ পর্যন্ত।
মিরপুরে গত গত দু’বছরে বদলে গেছে উইকেটের চেহারা। এই ২ বছরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান, ভারতের বিপক্ষে তিন’শ প্লাস স্কোর আছে ২টি (৩২৯ ও ৩০৭)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৯৭, ২৫৭, ২৭৫, ২৭৬, ২৪১ কে বড় জয়ে পরিণত করেছে বাংলাদেশ এই সময়ে। শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬০ রানে অল আউট ছাড়া ব্যাটিং হতাশার চিত্র ওঠেনি এই সময়ে ফুটে। অথচ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২৬৫ নিয়ে আক্ষেপ করা সেই বাংলাদেশ দলই কি না সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২০৮ পর্যন্ত স্কোর টেনে নিয়েই বড় অপবাদ করেছে লাঘব।
হোমে স্পোর্টিং পীচ পেয়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দ.আফ্রিকার কন্ডিশন ভেবে খেলতে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশ দল যেই না ফিরে পেয়েছে স্লো উইকেট, তাতেই যেনো হতভম্ব ব্যাটসম্যানরা। মিরওয়াইজ আশরাফের শর্ট বল পয়েন্ট দিয়ে ফেভারিট শট খেলতে যেয়ে থার্ডম্যানে ক্যাচ সঁপে দিয়েছেন তামীম (২০)। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ০’র অপবাদ ঘুঁচিয়ে সৌম্য গতকাল থেমেছেন ২০ এ। শর্ট বলে ডাউন দ্য উইকেটে খেলা কতোটা অপরাধ, কভারে ক্যাচ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তা এই বাঁ হাতি ওপেনার। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছন্দপতনের জন্য ব্যাটিং অর্ডারে রদ-বদলও কম দায়ী নয়। প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানের অপরাধে একাদশে জায়গা পাননি ইমরুল কায়েস। তার জায়গায় এদিন অভিষেক হয়েছে মোসাদ্দেক সৈকতের। প্লেয়ার্স লিস্টে সৈকতের নাম দেখে তিন নম্বরের জন্য এই ব্যাটসম্যানকেই দেখতে চেয়েছিলেন দর্শক। টি-২০’তে তিন নম্বরে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা সাব্বির রহমান রুম্মানকে আনা যেতো ইমরুলের পজিশনে। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে যে ব্যাটসম্যান অভ্যস্ত ৪ নম্বরে, এই পজিশনে ১২ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি, ৫ ফিফটিতে ৫৯৩ রানে হয়ে উঠেছেন অপরিহার্য, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেও ৬২ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দিয়েছেনÑ সেই মাহামুদুল্লাহকে ঠেলে দেয়া হলো তিন নম্বরে? তিন নম্বরে অবশ্য এটাই মাহামুদুল্লাহ’র প্রথম ব্যাটিং নয়, গতকালকের ইনিংস নিয়ে ৭ বার খেলেছেন মাহামুদুল্লাহ। নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস ছাড়া বলার মতো ব্যাটিং করেননি মাহামুদুল্লাহ এই পজিশনে, গতবছর মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তিন ম্যাচে ৫, ১৭ ও ৪ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ এর পর গতকাল সেই মিরপুরে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাহামুদুল্লাহ’র আর একটি হতাশ ইনিংস (২৫) দেখেছে বিশ্ব! নাভিন উল হককে কভারে খেলতে যেয়ে বোল্ড আউটে ফিরেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেট জুটি ৬১’র বেশি করতে না পারায় বড় মূল্য দিতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে।
সুইপ শট তার প্রিয়, এই প্রিয় শটটিই আবার কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে মুশফিকুরের। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রশিদ খানের গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড আউট হয়েছেন এই শট খেলতে যেয়ে, দ্বিতীয় ম্যাচেও সুইপ শটে প্রলুদ্ধ করেই রহমত শাহ শিকার করেছেন মুশফিকুরকে (৩৮)। মোহাম্মদ নবীর বলে সাকিবের আউট ক্ষমারও অযোগ্য। যে ওভারের দ্বিতীয় বলে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়ে গেছেন বেঁচে, সেই ওভারের ৬ষ্ঠ বলেই কি না ক্যাজুয়াল ফুটওয়ার্কে এলবিডাব্লুতে কাটা পড়লেন তিনি (১৭)। স্কোরশিটে ১৩৮ উঠতে ৫ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন রশিদ খান নামের লেগ স্পিনার। প্রথম ম্যাচে গুগলি ডেলিভারীতে হতভম্ব করে মুশফিকুর, রুম্মানকে দিয়েছেন ফিরিয়ে (২/৩৭)। সেই আফগান রশিদ খান গতকাল আরো বেশি ভয়ংকর (১০-২-৩৫-৩)। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেটের একটি ইনিংস আছে তার (৪/২১),তবে আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য কোন দেশের বিপক্ষে এটাই তার সেরা বোলিং। তার শেষ ২টি স্পেল (৪-১-৮-১ ও ২-১-৬-২) কি ভোগানোই না ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে’র ৩০ ওভারেই ম্যাচে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ (১১ থেকে ৪০তম ওভার), ১১৭ রান যোগ করতে হারিয়েছে বাংলাদেশ এই সময়ে ৭ উইকেট! সেখান থেকে শেষ পাওয়ার প্লে পার করাই দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৬৫ রানের মাথায় এসে তাসকিনের ফিরে যাওয়ার পর একটি একটি করে রান গুণতে হয়েছে দর্শককে, এক একটি ডট বলকেও দিতে হয়েছে বাহাবা। শেষ পর্বে রশিদ খানকে বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করা মোসাদ্দেকের ইনিংসেই রাখতে হয়েছে চোখ। মোহাম্মদ নবী এবং রশিদ খানের বোলিং কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ৪৮ এবং ৪৯তম ওভারে চাবুক চালাতে পেরেছেন এই লোয়ার অর্ডার। নাভিন উল হককে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে মেরেছেন ছক্কা ৪৮তম ওভারে, ৪৯তম ওভারে দৌলত জাদরানকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে দর্শনীয় পুলে মেরেছেন ছক্কা! অভিষেকেই ফিফটি উদযাপন করতে পারতেন মোসাদ্দেক। ২০০৬ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ইনিংসে ফরহাদ রেজার ফিফটি(৫০) এবং ২০১১ সালে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাসির হোসেনের অভিষেক ইনিংসে ৬৩’র পর ওয়ানডে অভিষেকে তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে সেই রেকর্ডটা করা হয়নি মোসাদ্দেক সৈকতের। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে লং অনে খেলে ডাবলসের কল দিয়েছিলেন, সিঙ্গল নিয়ে রুবেল ইতস্তত করায় ফিরে আসতে পারেননি। অভিষেকে ৪৮ রানের নট আউট ইনিংসে ২ রানের আক্ষেপ থেকে থেকে গেল মোসাদ্দেকের। তারপরও দুর্গম গিরিপথ পেরিয়ে শ্লগের ৬০ বলে ৫৪ রানে মোসাদ্দেকের নেতৃত্বটাই মনে রাখবে সবাই।
জানেন টস জিতে সেøা, টার্নিং উইকেটের আভাস পেয়ে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশকে ২০৮ এ থামানোর কৃতিত্বটা দিতে হবে শের-ই-বাংলা-স্টেডিয়ামের উইকেটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকা স্পিনার মোহাম্মদ নবীকেই। ১০-৩-১৬-২, ওভারপ্রতি খরচা মাত্র ১.৬০! এমন বোলিংয়ে দ্বিতীয় স্পেলটা তার ভয়ঙ্কর (৪-৩-৩-২)!



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন