Inqilab Logo

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

কাগজে কঠোর বাস্তবে ঢিলে

লকডাউনে মোড়ে মোড়ে রিকশার জটলা, ঢিলেঢালা চেকপোস্ট রাজধানীর অলিগলিতে চলছে আড্ডাবাজি

কামাল আতাতুর্ক মিসেল : | প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই, ২০২১, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) চলছে। রাজধানী ঢাকার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি চৌকি। লকডাউনে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ। অথচ লকডাউনের পঞ্চম দিন গতকাল মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট দেখা গেছে। অবাধে চলছে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা। ফলে ঢাকার ফাঁকা রাস্তার সর্বত্রই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা। সরকার গঠিত করোনা বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যই প্রশ্ন তুলেছেন কঠোর লকডাউন কার্যকরে কেন এতো ঢিলেমি? দায় কার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাকি অন্য কারো? কাগজে লকডাউনে সুফল আসবে না।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, কাগজে লকডাউন দিয়ে কোনো লাভ নেই। রাস্তায় মানুষের চলাচল দেখে মনে হয় না ঢাকা শহরে লকডাউন চলছে। যেভাবে মানুষজন যাতায়াত করছে, তাতে লকডাউন কাগজে কলমেই কঠোর, বাস্তবে নেই। রাজধানীতে ঢিলেঢালা লকডাউনে উদ্বেগ প্রকশ করে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন কার্যকরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। তারপরও কেমন করে এতো মানুষ রাজপথে নামছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি আর রিকশায় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে তা রহস্যজনক।

ঢাকার রাস্তা কার্যত রিকশার দখলে চলে গেছে। যেদিকে চোখ যায় শুধু রিকশা আর রিকশা। গতকাল দুপুরে যাত্রাবাড়ীতে দেখা গেল শত শত রিকশা যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। যাত্রীরা কোথাও গেলে দ্বিগুণ তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছে। শুধু যাত্রাবাড়ী নয়, গণপরিবহন না চলায় রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন রিকশা চালকরা। গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আগের মতোই কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোড়ে মোড়ে বসেছে চেকপোস্ট। তবে এদিন যৌক্তিক কারণ দেখাতে না পারায় অনেককেই গুনতে হয়েছে জরিমানা। তবে ঢাকার সড়কগুলোতে রাজত্ব করছে রিকশা। যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য সড়কের মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট থাকলেও রিকশা চলাফেরা করতে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর গুলিস্থান, মতিঝিল, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নয়াবাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়।

কঠোর লকডাউনে এবার সরকারি-বেসরকারি অফিস, গার্মেন্টস-কলকারখানা ও রফতানিমুখী সবকিছু বন্ধ থাকায় এবার অন্যান্য বারের বিধিনিষেধের তুলনায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম। ফলে গাড়ি চলাচলও কম। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও রাস্তায় সব থেকে বেশি চলছে রিকশা। যাত্রীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিকশা চালকরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করছেন। কর্মক্ষেত্রে যেতে যাত্রীরা রিকশা চালকদের বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অপরদিকে রিকশা চালকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন যাত্রী অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে যে সময়ের মধ্যে ৮-১০টি ভাড়া পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩ থেকে ৪টি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লকডাউনের পঞ্চম দিন ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সড়কগুলোতে রিকশার রাজত্ব দেখা গেছে। প্রতিটা সড়কের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। তবে লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজারসহ জরুরি যেসব অফিস খোলা রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা রাস্তায় নেমে অফিসে পৌঁছাতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে। কর্মীদের অফিসে নিয়ে যেতে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে সরকারিভাবে নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে দেখা গেছে অফিসে পৌঁছানোর উপায় কর্মীদেরই খুঁজে বের করতে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথচারীরা কোনো পরিবহন পাচ্ছেন না। রিকশা চললেও তা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। সড়কে প্রায় চলাচলরত রিকশায় দেখা গেছে, দু’জন যাত্রী কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে মুখে মাস্ক না লাগিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি হচ্ছে। পুলিশও তাদেরকে কিছু বলছে না।

যাত্রবাড়ী থেকে রিকশায় মতিঝিলের উদ্দেশে রওনা করা আতাউর রহমান ও মনির হোসেন নামের দুই ব্যক্তি দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মতিঝিলের একটি বীমা কোম্পানিতে তারা কাজ করেন। আমাদের অফিস খোলা রয়েছে। নিয়মিত অফিস যেতে হয়। বাস চলছে না, তাই বাধ্য হয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে। তবে তাদের দু’জনের মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে মাস্ক পড়েনি বলে জানান। কঠোর লকডাউনেও ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচল করছে। তবে রিকশা চালক কিংবা যাত্রীদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে আবার থুতনির নিচে মাস্ক রেখে চলাচল করছে। মাস্ক না পরার অজুহাতও বিভিন্ন ধরনের। এ অবস্থায় লকডাউন কতটা সুফল বয়ে আনবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে রিকশা কিংবা যেকোন পরিবহনে বসে দু’জনের কাঁধ লাগিয়ে চলাচল করার কারণেই করোনা এখন বড় শহর থেকে জেলা শহর হয়ে গ্রামের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। সংক্রমণের ভয়াবহতার কারণে লকডাউনের মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। অথচ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করছে তাতে সামনে আরো বিপর্যয় হতে পারে বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।

মতিঝিলে কথা হয় রিকশাচালক বিল্লালের সঙ্গে। তিনি বলেন, দু’দিন ধরে রাস্তায় রিকশা চলাচল বেড়েছে। যাত্রীও কিছু পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী অনেক কম। অফিস সময়ে কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া হয়। গতকাল ৪০০ টাকা ভাড়া পেয়েছিলাম। আজও তেমন হবে বলে মনে হচ্ছে। অন্য সময়ের তুলনায় এখন রিকশা ভাড়া একটু বেশি। কারণ আমরা যাত্রী খুব কম পাচ্ছি।

এ বিষয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখন একটি জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন গ্রামেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই সরকার আবারও সারাদেশেই লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু লকডাউনে সকল গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও অমান্য করে রিকশা, ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেলে সড়কে চলাচল এবং যাত্রী পারপারের করতে থাকলে তাহলে লকডাউন দিয়েও কোন ফলাফল আসবে না বলে উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হতে আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে ট্রাফিক মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক আহমেদ বলেন, মতিঝিলে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। সকাল থেকেই এই এলাকার সড়কে যানবাহনের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরো বলেন, তারা বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে বিধিনিষেধ কার্যকরে তৎপর রয়েছেন। রিকশাসহ সকল পরিবহনের আরোহীরা বাইরে আসার সন্তোষজনক উত্তর না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে সড়কে যান চলাচল সে সাথে লোক সমাগম বাড়ছেই। গতকাল বিধিনিষেধ অমান্য করায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২১৬ টি মামলা ও ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৮ জন, বিআরটিএ ২ জন ও সিটি কর্পোরেশনের ১ জনসহ ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে মামলা ও জরিমানা আদায় করেন।

রংপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, রংপুর মহানগরীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই খুলেছেন দোকানপাট। খোদ নগরীর প্রধান সড়কের দু’ধারেই বেশ কিছু দোকান-পাট খোলা দেখা গেছে। নগরীর শাপলা চত্বর থেকে রংপুর হাই স্কুলের গেট পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অধিকাংশ দোকানই খোলা দেখা গেছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬ থানা, ট্রাফিক ও ডিবি কর্তৃকসহ জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনীর টহল দল, র‌্যাব টহল দল এবং বিজিবি টহল দল যৌথভাবে রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় লকডাউনের বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে মোট ১২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এতে মোট ৫,১০০ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যুরো জানান, ময়মনসিংহে করোনাভাইরাস রোধে ঈদুল আযহার পরবর্তী ৪ দিনে সরকার আরোপিত কঠোর লকডাউন অমান্য করায় ২৩ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ৪ দিনে ময়মনসিংহ জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ১ হাজার ৪ শত ৮৪ টি মামলায় সাকুল্যে ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৭৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তন্মধ্যে গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একদিনে ময়মনসিংহ জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩৪০ মামলায় ২লক্ষ ৩৯ হাজার ৭৩০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, লকডাউনে ঝিনাইগাতীতে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। এ অবস্থা চলছে ঝিনাইগাতী উপজেলা শহরের ব্যবসায়দের মধ্যে। বাইরে থেকে দোকান বন্ধ থাকলেও ভেতরে ক্রেতাভর্তি। এক জন দোকানের বাইরে টুল পেতে বসে থাকছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আল মাসুদ বলেন, আমরা রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামে কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে। জরিমানা করেও আটকানো যাচ্ছে না তাদেরকে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শহরের ত্রিমোহণি বাজার এলাকায় মোবাইল টিম ১১টি মামলা ও ৪ হাজার ৮০০টাকা জরিমানা করেছে।

মোবাইল টিম পরিচালনা করেন সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. হাসিবুল হাসান।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কঠোর লকডাউন ও সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩৪ টি মামলায় ১৭ হাজার ৫শ’ টাকা অর্থদÐ করা হয়েছে।

রামগতি (ল²ীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ল²ীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলার রাস্তাঘাট, দোকানপাটে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে লোকজনকে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মোমিন ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ মানাতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রথমে আমরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এখন আমরা মামলা দিচ্ছি, জরিমানা করছি। বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে এ পর্যন্ত সৈয়দপুর শহরের রংপুর রোড, পাঁচমাথা মোড়, শের-ই বাংলা রোড, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শহীদ তুলসীরাম সড়ক (দিনাজপুর মোড়) এলাকার নেই কোন যানবাহন ও মানুষের ভিড়।

সরেজমিনে সৈয়দপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। শহরের পাঁচমাথায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং সৈয়দপুর থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যান ও জন চলাচল নিযন্ত্রণে কাজ করছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জে বিনা কারণে বাইরে ঘোরাফেরা করায় ৭১ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরিমাণে মোট ৪৬ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা সদরসহ নয়টি উপজেলায় আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, লকডাউন অমান্য করায় গত চার দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ১১ টি মামলায় ১৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ আল হাসান জানান, সোমবার পর্যন্ত চার দিনে তিনি উপজেলার প্রতিটি এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছেন। এসময় লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করায় তিনি ১১ টি মামলায় ১৭ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছেন।

 



 

Show all comments
  • Md. Yousuf Ali ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:৩৭ এএম says : 0
    লকডাউন তো নয়,যেনো প্রশাসন আর জনগণের মধ্যে চোর-পুলিশ খেলা চলছে
    Total Reply(0) Reply
  • নওরিন ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:৩৮ এএম says : 0
    এটা সমগ্র বাংলাদেশের অবস্থা ।
    Total Reply(0) Reply
  • Ahsan Habib Shohag ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:৪০ এএম says : 0
    আল্লাহ রক্ষা করুন। আপনি ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Tania Jahan ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:৪২ এএম says : 0
    মানুষ বেহুঁশ হয়ে গেছে ।নিজেও বিপদের মুখে যাচ্ছে, অন্যকেও সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে ।
    Total Reply(0) Reply
  • Shahabuddin Ahmed ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:৪৩ এএম says : 0
    সবাই ঘরে থাকতে চায়। কিন্তু পেট তো আর লকডাউন দেওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বের হতে হয়।
    Total Reply(0) Reply
  • মাজহারুল ইসলাম ২৮ জুলাই, ২০২১, ২:০০ এএম says : 0
    যথাযথ শিরোনাম
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস


আরও
আরও পড়ুন