Inqilab Logo

বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪ আশ্বিন ১৪২৮, ২১ সফর ১৪৪৩ হিজরী

মোদি সরকারের ব্যর্থতায় ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধি আরো কমবে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই, ২০২১, ৭:১৭ পিএম

করোনা মহামারি মোকাবেলায় প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো করলেও মোদি সরকারের ব্যর্থতায় ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েই চলেছে। এবার করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস বদলাল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

৪ মাস আগে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ১২.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হলেও সংস্থার আর্থিক নীতি সংক্রান্ত কমিটির জুনের বৈঠকের তা কমিয়ে ৯.৫ শতাংশ হবে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্রতার কারণে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না বলেও জানিয়েছে আইএমএফ-এর ওই কমিটি। মঙ্গলবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেটে আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২১ সালে বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, করোনা সংকটের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিকভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু উন্নত দেশ, উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং নিম্ন আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতিতে ব্যবধান বাড়ছে। এর কারণ, উন্নত দেশগুলোয় তুলনামূলক বেশি জনগোষ্ঠীকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে উদীয়মান ও নিম্ন আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ কারণে ওই সব দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি কম।

আইএমএফ আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত আউটলুকে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা অপরিবর্তিত রেখেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলেছে, যতক্ষণ করোনা মহামারিকে আমরা বিদায় করতে না পারব, ততক্ষণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত নয়। উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে। যুক্তরাজ্যেও একই হারে প্রবৃদ্ধি হবে। আর ইউরো অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এছাড়া জাপানে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, চীনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, ভারতে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। একমাত্র চীন ছাড়া বাকি প্রায় সব বড় অর্থনীতির দেশ চলতি বছরে নেতিবাচক (সংকুচিত) প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে আসবে। নতুন এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে দেশভিত্তিক আলাদা তথ্যকণিকায় পূর্বাভাস হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে।

মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে চলতি বছরে ভারতের অর্থনীতি ১০ থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধির মুখ দেখবে বলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেটিং সংস্থা এবং আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থার মত। গত এপ্রিলে ১২.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছিল আইএমএফ। তবে আইএমএফ-এর উপ-মুখ্য অর্থনীতিবিদ পেটিয়া কোয়েভা ব্রুকস সে সময়ই জানিয়েছিলেন, করোনার জেরে দেশের অর্থনীতিতে আদতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং উৎপাদন যে ভাবে ধাক্কা খেয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

এ ক্ষেত্রে আইএমএফ-এর প্রাথমিক অনুমান থেকে বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশেরও বেশি কমতে চলেছে ভারতে। যা বিশ্বের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন। তবে পরবর্তী অর্থবর্ষে (২০২২-২৩) ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাসে যা ৬.৯ শতাংশ বলা হয়েছিল। করোনা মহামারির কারণে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে পারেও বলে আগেই জানিয়েছে আইএমএফ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন