Inqilab Logo

রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯, ২৫ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

অলিম্পিকে ড. ইউনূসের পাওয়া সুইজারল্যান্ডের সোপার্ডের তৈরি লরেলটির জন্ম ইতিহাস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০২১, ১২:০৫ এএম

স্পোর্টসে উন্নয়নের জন্য নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে অলিম্পিক লরেল (২০২০) সম্মাননা দেয়া হয়েছে। গত ২৩ জুলাই টোকিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই সম্মাননার যে লরেল ট্রফিটি দেয়া হয়েছে তার মধ্যেই রয়ে গেছে অলিম্পিকের হাজার বছরের ইতিহাসের অমূল্য কিছু নিদর্শন।

ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের দিক থেকে লরেল ট্রফিটির সব চেয়ে মূল্যবান অংশটি হচ্ছে এর পাথরের তৈরী ভিত্তিটি। এটি আসলে গ্রীসের প্রাচীন অলিম্পিয়া নামক জায়গায় ১৮৭৮ ও ১৮৮০ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত দুটি ছাই -নীল রঙের মার্বেল পাথরের নিদর্শনের রেপ্লিকা। এটি কেন মূল্যবান তা বুঝতে হলে অনেক প্রাচীন কালে চলে যেতে হবে। স্মরণ করতে হবে যে এই প্রাচীন অলিম্পিয়ার প্যানহেলেনিক ধর্মীয়ও মন্দিরকে ঘিরেই খৃষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী থেকে চতুর্থ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি চার বছর পর পর গ্রীক অলিম্পিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। পরে ১৮৯৪ সাল থেকে বিশ্ব অলিম্পিক হিসেবে এটি আবার চালু হয়েছে। লরেলের ভিত্তির ওই পাথরের গায়ে প্রাচীন গ্রীক লিপিতে কিছু কথা লেখা আছে। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে পাথরটি আগে একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যের ভিত্তি প্রস্তরের অংশ ছিল, যা গ্রীক দেবতা জিউসের মন্দিরে উৎসর্গিত ছিল। লিপিটি তখনকার কিছু গায়ক ও অভিনেতার কথা উল্লেখ করছে যারা মেসিনা নামক জায়গার এক বড় মানুষের আনুকূল্য পেয়েছে। লিপিটি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এটি খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে উৎকীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ আজকের লরেলের ভিত্তির এই পাথরটি প্রাচীন অলিম্পিয়ায় ২২০০ বছর আগের অলিম্পিক প্রতিযোগিতার স্মৃতি সরাসরি বহন করে এনেছে। গ্রীসের প্রেসিডেন্ট ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সদয় অনুমতিতেই সেদেশের এমন মূল্যবান প্রত্ন সম্পদের রেপ্লিকা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি লরেলের জন্য ব্যবহার করতে পেরেছে। এভাবে এই লরেল সম্মাননাকে প্রাচীন অলিম্পিকের আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত করা গেছে।

লরেল ট্রফির ওপরের অংশে আছে লরেল পাতার মুকুট এবং অলিম্পিকের প্রতীক রিংসমূহ - উভয়েই সোনায় তৈরী। এই লরেল পাতার মুকুটের সঙ্গে জড়িত হয়ে আছে প্রাচীন গ্রীক ও রোমানদের আরো ইতিহাস। আসলে এই মুকুটের সূত্রপাত প্রাচীন গ্রীক উপকথা থেকে। লরেল উদ্ভিদটির গ্রীক নাম ড্যাফনে , যিনি একজন গ্রীক দেবীও বটে। গ্রীসের সব চেয়ে পবিত্র স্থান মাউন্ট অলিম্পাস পর্বতে ছিল গ্রীকদের সেরা ১২ জন দেবদেবীর অধিষ্ঠান। সেখানকার মুখ্য একজন দেবতা অতি সুপুরুষ অ্যাপোলোকে একদিন বিমর্ষ দেখে দেবী ড্যাফনে তাঁকে নিজের পাতা দিয়ে , অর্থাৎ লরেল পাতা দিয়ে, মুকুট গড়ে মাথায় পরিয়ে দিলেন, একটু খুশি করার চেষ্টায়। তারই স্মরণে পরবর্তীতে গ্রীসে নানা প্রতিযোগিতায়, যেমন কবিতা বা জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীকে লরেল পাতার মুকুট পরিয়ে দেয়া হতো, পরে অলিম্পিকেও। রোমান আমলে জুলিয়াস সীজার প্রমুখ যুদ্ধ বিজয়ী বীরদেরকে লরেল পাতার মুকুট দিয়ে বরণ করা হতো। সেই ঐতিহ্যে আজও লরেল পাতার ( বন্য জলপাই পাতার ) মুকুট দিয়ে সাফল্যের স্বীকৃতি জানানো হয়।

অলিম্পিক লরেল ট্রফিটির অত্যন্ত সুন্দর সৌকর্যময় ডিজাইনটি করেছেন সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত স্বর্ণালংকার ডিজাইনার সোপার্ড। লরেল ট্রফিতে এই সোনার ব্যবহার এই মানবিক খনি- নীতির জয়জয়কারও বটে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন