Inqilab Logo

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

মদের লাইসেন্স আছে, হরিণের চামড়া নেতাকর্মীদের দেয়া : হেলেনার মেয়ে

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০২১, ৯:২০ এএম

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটকের সময় র‍্যাব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাদকসহ যেসব মালামাল জব্দ করেছে সে বিষয়ে হেলেনার মেয়ে জেসিয়া আলম বক্তব্য দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গুলশানের বাসায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত বলেন তিনি। মদের বিষয়ে জানতে চাইলে জেসিয়া বলেন, আমার ভাইয়া মদ পান করে। সেগুলোই বাসায় ছিল। তবে ভাইয়ার মদ পানের লাইসেন্স রয়েছে। পাসপোর্টও আছে।

হরিণের চামড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেলেনার মেয়ে বলেন, ভাইয়ার বিয়ের সময় মায়ের সঙ্গে রাজনীতি করা নেতানেত্রীরা মিলে ওইটা গিফট করেছে। সেটি ওয়ালে ঝোলানো ছিল।

ক্যাসিনোর সরঞ্জামাদির বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাসিনোর চিপস ওগুলো। আমরা নিজেরাই খেলতাম আর সময় কাটাতাম। তবে ক্যাসিনো খেলতে যে বোট আর সরঞ্জাম লাগে তা নেই আমাদের। ধরেন বাসায় তাস খেলে না কেউ? সে রকম একটা বিষয়। জাস্ট ক্যাসিনোর চিপগুলো ছিল বাসায়। মানুষ গেম খেলতে পারে না? ওরকম।

বিদেশি মুদ্রার বিষয়ে জানতে চাইলে জেসিয়া বলেন, আমরা র্যান্ডমলি বিদেশে যাই। একাধিক দেশে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিদেশ থেকে আসার পর যে মুদ্রাগুলো বেঁচে যায় সেগুলো তো রাস্তায় ফেলে দিতে পারি না। ওইসব মুদ্রা থেকে গেছে।

সবই তো বললেন, আপনাদের কাছ থেকে পেয়েছে র‍্যাব। তাহলে অভিযানকে কী হিসেবে দেখছেন। জানতে চাইলে হেলেনার মেয়ে জেসিয়া বলেন, আমাদের বাসায় ইলিগ্যাল মালামাল রয়েছে মানলাম। তাই বলে ওরকমভাবে অভিযান করা যায়। কোনো ওয়ারেন্ট নেই, সার্চ ওয়ারেন্ট নেই হুট করে ঢুকে গেল আর অভিযান চালাল। কোনো কো-অপারেট নেই।

এর আগে, গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান শেষে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর, দিবাগত রাত দুইটা থেকে রাত সোয়া ৪টা পর্যন্ত হেলেনা জাহাঙ্গীরে আইপি টিভি জয়যাত্রা টেলিভিশনের অফিসে অভিযান চালান র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে যদি বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া যায় তাহলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ।

নাদির শাহ বলেন, রাতে গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জয়যাত্রা নামে তার একটি আইপি টেলিভিশন রয়েছে। তার দেয়া তথ্যমতে মিরপুর জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু টেলিভিশন চ্যানেলটির কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। যদিও সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যেসব সেটাআপ থাকা দরকার তার সবকিছুই রয়েছে।

তিনি বলেন, হেলেনা তার জয়যাত্রা টেলিভিশনের জন্য সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। এমনকি দেশের বাইরেও প্রতিনিধি নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ার কারণে পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এখানে জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের অফিস পেয়েছি। এ বিষয়েও তদন্ত করা হবে।

চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে র‍্যাবের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তদন্ত করে যদি বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া যায় তাহলে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হবে।



 

Show all comments
  • MD Saiful Islam ৩০ জুলাই, ২০২১, ১০:৫০ এএম says : 0
    অবশেষে হেলেনার নাটকের অবসান ঘটলো
    Total Reply(0) Reply
  • Asgar Alim ৩০ জুলাই, ২০২১, ১০:৫০ এএম says : 0
    কত বড়ো অপরাধী হলে মদের লাইসেন্স বের করে ব্যবসা করতে পারে, একবার ভাবা যায়?
    Total Reply(0) Reply
  • Fauziah Yusof ৩০ জুলাই, ২০২১, ১০:৫০ এএম says : 0
    এই ..কথা শুনে আমি শিহরিত, হতাশ, মুসলিম দেশ এখন পতিতাদের হাতে
    Total Reply(0) Reply
  • Papon Ahmed ৩০ জুলাই, ২০২১, ১০:৫১ এএম says : 0
    বোট ক্লাব ۔۔পরিমনির বাসায়তো মদের গুদাম
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Zulkar Nain ৩০ জুলাই, ২০২১, ১০:৫১ এএম says : 0
    মদের লাইসেন্স ও দিছেন আবার মদ রাখলেও দুষ।আপনারা এমন কেন গো
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হেলেনা জাহাঙ্গীর


আরও
আরও পড়ুন