Inqilab Logo

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

নেত্রকোনায় ৬ মাসে প্রেমঘটিত ১৩৮ অপহরণ মামলা ও জিডি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩০ জুলাই, ২০২১, ৯:৪৭ পিএম

নেত্রকোনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে নারী ও শিশু অপহরণ মামলা হয়েছে ৬৪টি। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, এসব অপহরণের মামলার ঘটনা বেশিরভাগই প্রেম সংক্রান্ত (৯০ ভাগ)। এ ছাড়া বাড়ি থেকে রাগ করে চলে যাওয়া। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে ৭৪টি। অর্থাৎ জেলার ১০ উপজেলায় অপহরণ সংক্রান্ত মোট ১৩৮টি মামলা ও জিডি করা হয়। এসব মামলা ও জিডির পর এখন পর্যন্ত ১৩৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, পাঁচজন এখনো নিখোঁজ।

তবে এসব মিথ্যে মামলা কাউকে ফাঁসাতে করা হয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে কেন্দুয়ায় ২১ বছর বয়সী এক তরুণী ঢাকার টঙ্গীতে একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাসকা ইউপির দ্বিপাড়া নিজ গ্রামে এলে প্রতিবেশী কলেজ পড়ুয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ুয়া ওই কিশোরকে গার্মেন্টেসে চাকরি দেবার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে তারা বাড়ি এলে কিশোরের অভিভাবক বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। যে কারনে ওই তরুণী আদালতে ধর্ষণ, মুক্তিপণসহ অপহরণ মামলা দেন ছেলে ও বাবাসহ পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী পুলিশের এসআই নোমান সাদেকীন জানান, এমন একটি মামলা থানায় এলে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দেখি, মামলার এজাহারে ধর্ষণের স্থান উল্লেখ নেই। এরপর মোবাইলের কললিস্টে ঘটনার তারিখ-সময় সব কিছু পাওয়া গেছে কেন্দুয়াতে।

এজাহারে সিএনজি করে নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও ওই এলাকায় সিএনজি যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সিএনজি-অটোরিকশা কিছুই চলে না। এসব যাবতীয় ঘটনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ছেলে ও তার পরিবার থেকে টাকা আদায় করতেই এমন মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল। তার ওপর ছেলেটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। সেখানে উল্টো চার থেকে পাঁচ বছরের বড় ওই তরুণী। কোনোভাবেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এমন মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে নারী শিশু ১৭/(২) ধারায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা করতে পারেন।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সদর উপজেলায় অপহরণ মামলা হয়েছে ১৫টি, জিডি হয়েছে ৩০টি। মোট ৪৫টি মামলায় ৪৪ জন উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৩ জন। পূর্বধলা উপজেলায় অপহরণ মামলা ৭টি ও জিডি ৮টি। ভিকিটিম উদ্ধার হয়েছে ১৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে একজন। দুর্গাপুর উপজেলায় অপহরণ মামলা ৪টি ও জিডি ১৫টি। উদ্ধার ভিকটিম ১৯ জনই। কলমাকান্দা উপজেলায় অপহরণ মামলা ৭টি ও জিডি ৩ টি, সকলেই উদ্ধার। মোহনগঞ্জে অপহরণ মামলা মোট ৭টির ৭ জনই উদ্ধার। বারহাট্টায় অপহরণ মামলা ৩টি ও জিডি ৭টি, ১০ জনই উদ্ধার। আটপাড়ায় অপহরণ মামলা ৬টি ও জিডি ১টি। এর মধ্যে ৬ জন উদ্ধার, নিখোঁজ একজন। কেন্দুয়ায় অপহরণ মামলা ৯টি ও জিডি ৭টি, ১৬ জনই উদ্ধার। মদনে অপহরণ মামলা ৬টি ও জিডি ৩টি, ৯ জনই উদ্ধার।

তবে পাচার ও পর্নোগ্রাফিরর কোনো মামলা নেই। একটি ধর্ষণসহ অপহরণ মামলা দিলেও পুলিশ তদন্ত করে মিথ্যা পেয়েছে, যা শুধু হয়রানি করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই করা হয়। এদিকে জিডির মধ্যে দুর্গাপুরে একটি মাদ্রাসা থেকে এক শিশু পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অপহরণ মামলা হলেও শিশুকে উদ্ধারের পর জানা যায়, সে না পড়ার উদ্দেশ্যেই পালিয়ে গিয়ে দোকান কর্মচারীর কাজ নেয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নেত্রকোনা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ