Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬ আশ্বিন ১৪২৮, ১৩ সফর ১৪৪৩ হিজরী

ইঁদুরের পেটে ইভিএম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ জুলাই, ২০২১, ১২:০৩ এএম

করোনা সংক্রমণ রোধে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিধিনিষেধ জারির মাধ্যমে চলছে দেশ। এর মধ্যেও জরুরি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা চালু রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু সেই সেবা জনগণের তেমন মিলছে না। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় উইপোকা-ইঁদুর ইভিএম যন্ত্রপাতি নষ্ট করেছে। মাঠপর্যায়ে থাকা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) আরো বেশি নষ্ট হতে পারে এমন আশঙ্কা করছে ইসি। তাই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার জন্য সকল জেলা উপজেলায় নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। সম্প্রতি ইসি সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনলাইনে মত বিনিময় সভায় জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে ইভিএম সংরক্ষণ করতে হবে। উইপোকা বা ইঁদুরে ইভিএম এবং প্যাকেট যেন নষ্ট না করে, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। যাদের অবহেলায় ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক, সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির আরেক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় উইপোকা-ইঁদুর ইভিএম-এর যন্ত্রপাতি কেটে ফেলেছে। তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছে।
ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন ইনকিলাবকে ফোনে বলেন, করোনাকালে মাঠপর্যায়ে ইভিএম সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ইভিএমের ব্যাটারিগুলো চার্জ দেওয়া হয়। যেসব জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিসে ইভিএম আছে, সেখান থেকে প্রতি মাসে আমাদেরকে প্রতিবেদনও দিচ্ছে- সেখানে কোনো সমস্যা নেই।
ইসি’র সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ইভিএম প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের অনুকূলে মোট ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৪৮ লাখ টাকা যা মোট ব্যয়ের ৭৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় দেড় লাখ ইভিএম মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮২ হাজার ইভিএম মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। ৩৪ হাজার ইভিএম মেশিন তাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া আরো ৩৪ হাজার মেশিন ক্রয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২০২০ সালের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত একাদশ সংসদের ৪টি আসনে উপ-নির্বাচন এবং ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে উপ-নির্বাচন, একটি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন ও ১২১টি পৌরসভা সাধারণ নির্বাচনে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১০ সালে দেশে ভোট ব্যবস্থাপনায় ইভিএম প্রযুক্তির সূচনা করে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সেই ইভিএম তৈরি করে দেয়। ২০১৫ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় একটি মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সেই মেশিনটি আর সারাতে পারেনি কমিশন। এমনকি ত্রুটি হওয়ার কারণও উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়া বুয়েটের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে পরবর্তীতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৬ সালে তখনকার সব মেশিন পরিত্যক্ত হিসেবে নষ্ট করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন ও উন্নতমানের ইভিএম তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কেএম নুরুল হুদা কমিশন বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে ইভিএম নিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করে কমিশন। বর্তমান সিইসি শুরু থেকেই ভোটে স্বচ্ছতা আনার জন্য ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইসি।



 

Show all comments
  • Joynal ৩১ জুলাই, ২০২১, ১:৪৭ এএম says : 0
    Mone Hoi idur vote dite gese. Manush to vote dite parena. idur dine rate shomane vote dibe
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইভিএম

৩১ জুলাই, ২০২১
১৫ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ