Inqilab Logo

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২ আশ্বিন ১৪২৮, ০৯ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পাঁচদিন পর মারা গেল আহত মাদরাসাছাত্রী

বদরগঞ্জ (রংপুর) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০২১, ১২:০২ এএম

তারমিনা আক্তার ফুলতি (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে শাখাওয়াত নামে এক বখাটের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিয়ের দিন ভোরে ঘুম হতে ডেকে তুলে ছুরি দিয়ে কোপানো আহত ছাত্রী ৫ দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর গতকাল ১ আগস্ট সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ জুলাই ভোরে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির সাজানো গ্রাম নামক এলাকায়। এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার ঘাতক শাখাওয়াতের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। সাজানোগ্রাম এলাকার তোয়াব আলির মেয়ে তারমিনা আক্তার ফুলতি লোহানীপাড়া দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেনির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পাশের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউপির পশ্চিম বড়বালায় তারমিনা আক্তারের বড় বোন তহমিনার বিয়ে হয়। তহমিনার আত্নীয়তার সম্পর্কে একই এলাকার মোনায়েম হোসেনের বখাটে ছেলে শাখাওয়াত প্রেমের প্রস্তাব দেয় তারমিনাকে। বিয়ের বয়স না হলেও পারিবারিকভাবে তড়িঘড়ি করে গত ২৮ জুলাই তারমিনাকে একই ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া গ্রামে বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। এ ঘটনা জানতে পেরে শাখাওয়াত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারমিনার ওপর। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ভোর বেলা তারমিনার বাড়িতে আসে শাখাওয়াত। বাড়ির সবাই তখন ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত তারমিনাকে ডেকে দরজার কাছে ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে। এতে তারমিনার বুক, দুই উরু ও পাজোরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তারমিনা। পরে তারমিনাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। গত পাঁচদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তারমিনা।
এ বিষয়ে তারমিনার মামা মানিক মিয়া জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে শেষ বারের মত কথা বলেছিল সে। এর থেকে সে জ্ঞানহারা ছিল। গতকাল রোববার সকাল ৬টা ১০মিনিটের দিকে সে মারা যায়। শত চেষ্টা করেও আমার ভাগনিকে বাঁচানো গেল না।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ঘাতকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন সেটি হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে। আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. হামিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য সব ধরণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তার বুক ও পেটের মাঝামাঝি স্থানে রক্তনালি কেটে যাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন