Inqilab Logo

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিওকর্মীরা

বিপাকে ঋণগ্রহীতারা

উথান মন্ডল, নাজিরপুর (পিরোজপুর) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এনজিওকর্মীরা লকডাউনের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা। ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ছোটখাটো বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালান। এছাড়াও অনেকে এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক, থ্রিহুইলার, ভ্যান, পাখিভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন কিনে চালিয়ে তা থেকে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন ও ঋণের কিস্তি দেন। করোনায় ধীরে ধীরে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় সরকার দেশজুড়ে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায় অনেক মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা।

অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে। এমন সময়ে এ সকল ভুক্তভোগী খেটেখাওয়া ঋণগ্রহীতা যখন তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন এনজিওকর্মীরা বাড়ি বাড়ি কিস্তি আদায়ের জন্য ধরনা দিচ্ছেন, চাপ সৃষ্টি করে কিস্তি আদায় করা হচ্ছে। এনজিওকর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কিস্তির টাকা আদায় করছেন। দেখা গেছে তাদের মুখে মাস্কও নেই।
উপজেলার ভীমকাঠী গ্রামের ইজিবাইকচালক এনায়েত হোসেন বলেন, সে সম্প্রতি ইজিবাইক কিনেছে। এ সময় তিনি এনজিও থেকে তার স্ত্রীর নামে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিল। এতে সপ্তাহে তার ১১শ’ টাকা কিস্তি দিতে হয়। গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাই আর প্রতিদিন কিছু কিছু জমিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তি দেই। লকডাউনে বাড়ি বসে আছি, কোনো আয়-রোজগার নেই। ধারদেনা করে সংসার চলছে, কিস্তি কিভাবে দেবো ভেবে পাচ্ছি না। লকডাউনের সময় কিস্তি বন্ধ না করলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
উপজেলার মধ্যজয়পুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রী বাবু লাল হালদার। তিনি এখন মারাত্বক রোগে মৃত্যুশয্যায়। তিনি বলেন, আমাকে গতকাল উদ্দীপনের মাঠকর্মী মোসা. জায়েদা খানম কিস্তি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে গালাগাল করেন। আমি বলেছি ওষুধ কেনার টাকা নাই, ঘরে চাল নাই, তারপরও সে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে।
একই গ্রামের মো. জাকির হোসেন বলেন, আমি একজন দিনমজুর। করোনার কারণে ইনকাম বন্ধ। উদ্দীপনের মাঠকর্মী মোসা. জায়েদা খানম আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে এবং বলেছে কিস্তি না দিলে পিঠমোড়া দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে কিস্তি আদায় করবে। এক পর্যায়ে আমি ধার করে কিস্তি দিয়েছি। লকডাউনের সময় কিস্তি বন্ধ না করলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
এ বিষয়ে উদ্দীপনের ম্যানেজার সুমন বলেন, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা হতে দেড়টা পর্যন্ত কিস্তি আদায় করার নির্দেশ আছে। তবে কারো উপর জোর জুলুম করা যাবে না এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কোন মাঠকর্মী যদি এমন করে তা হলে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, সমবায়ের আওতায় যত এনজিও আছে আমরা তাদেরকে এই লকডাউনে কিস্তি আদায় করতে নিষেধ করেছি। যদি কেউ কিস্তি আদায় করে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, এনজিওর কিস্তি আদায়ের বিষয়ে এবার আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। তারপরেও মানবিক কারণে জবরদস্তি করে আদায় না করা সমীচীন। যারা দিতে সমর্থ তাদের ক্ষেত্রেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এনজিওকর্মীরা
আরও পড়ুন