Inqilab Logo

রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮, ১৮ সফর ১৪৪৩ হিজরী

অবৈধ আইপি টিভির ছড়াছড়ি

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে নকল ও ভুয়া সাংবাদিক এগুলো গুজব রটানোসহ অসত্য তথ্য পরিবেশন এবং ভাঁড়ামোয় লিপ্ত : তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ আগস্ট, ২০২১, ১২:০০ এএম

আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল নয়, বরং এটা একটি অনলাইন প্রযুক্তি। অথচ রাজধানীসহ সারা দেশে এই আইপি টিভির হাঁকডাক বাড়ছে। জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের নামে তারা পরিচয় পত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা নিত্যদিন বø্যাকমেইলিং করে। সারা দেশে তথাকথিত এই টিভির দৌরাত্ম্য ক্রমে বাড়ছে। এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল গোপলগঞ্জসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলছে শত শত অবৈধ আইপি টিভি চ্যানেল। অবৈধ আইপি টিভি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়।

গতবছর প্রথম দফায় নিবন্ধনের জন্য ৯২টি দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টালকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩৪টি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচিত করে তথ্য মন্ত্রণালয়। নিবন্ধনের অনুমতি পাওয়া পোর্টালগুলোকে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিবন্ধন করার অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। প্রচুর খরচের কারণে এ গণমাধ্যমগুলো চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন মালিকরা।
জানতে চাইলে তথ্য ও স¤প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ইনকিলাবকে বলেন, নিয়মনীতিহীন এসব টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু আইপি টিভি গুজব রটায় অসত্য তথ্য পরিবেশন করে ও ভাড়ামোয় লিপ্ত। তাদের ধরতে মাঠে নামবে তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির কর্মকর্তারা। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব টিভি চ্যানেল জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

জানা গেছে, ইন্টারনেটভিত্তিক ভিডিও সম্প্রচারে ৬১টি কোম্পানিকে আইপি টিভি সেবা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বাণিজ্যিকভাবে দেশে আইপি টিভি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি খসড়া করা হয়েছে। তবে সেটার এখনো চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত বিটিআরসি চিঠিতে বলা হয়েছে, আইপি টিভি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল নয়, বরং এটা একটি প্রযুক্তি। একটি প্রযুক্তি, কেবলমাত্র বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডাউনলিংক অনুমোদিত চ্যানেল সমূহ শর্তসাপেক্ষে ‘ডিশ ব্যবসায়ী’দের ন্যায় ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলসমূহ প্রদর্শন করে থাকে।

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়ে থাকে সংবাদপত্রকে। আর এ চতুর্থ স্তম্ভই এখন বিপাকে পড়েছে নামধারী অবৈধ সাংবাদিকদের জন্য। অনুমোদনহীন আইপি টিভি, অনলাইন টিভি বা কথিত অনলাইন পোর্টালগুলো সংবাদপত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে গেছে। এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের কার্ড নিয়ে ‘হঠাৎ সাংবাদিক’ বনে যাওয়া একশ্রেণির চাঁদাবাজরা রীতিমতো কলঙ্কিত করছে সাংবাদিকতা পেশাকে।
রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও গড়ে উঠেছে আইপি টিভি। কথিত এসব টেলিভিশন চ্যানেল খুলে করা হয় নিয়োগ-বাণিজ্য। কার্ড দিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয় সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজদের। এদের দাপটে নানান ঝামেলায় পড়তে হয় প্রকৃত সাংবাদিকদের।

স¤প্রতি আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত বিতর্কিত নারী হেলেনা জাহাঙ্গীরের অবৈধ আইপি টিভি জয়যাত্রার অফিসে র‌্যাব অভিযান চালানোর পর অবৈধ সব আইপি টিভির বিষয়টি আলোচনায় আসে। দাবি উঠেছে অন্যান্য ভুঁইফোড় আইপি টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। খোদ রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামপর্যায়ে ভুয়া সাংবাদিক, ফেসবুক সাংবাদিক, সোর্স সাংবাদিক, দলবাজ সাংবাদিক, ডটকম মার্কা সাংবাদিক-সম্পাদক, আইপি টিভি, ফেসবুক লাইভ সাংবাদিকসহ আরো নানান পদ-পদবির সাংবাদিকের দৌরাত্ম্যে জনজীবন অতিষ্ঠ।

দিনরাত উন্মাদের মতো ছোটাছুটির মধ্যেই অবিরাম তাদের ধান্ধাবাজি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন জাতীয় প্রেসক্লাবে কিংবা বিভিন্ন ব্যাংক, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় এসব ভুয়া সাংবাদিককে। এতে করে বিপাকে পড়েন প্রকৃত সাংবাদিকরা। কে আসল, কে নকল, কে ভুয়া তা নিয়ে যাচাই-বাছাই করার মতো শ্রম দেয়ার সময় নেই সাধারণ মানুষের। মাঝেমধ্যে র‌্যাবের হাতে ভুয়া সাংবাদিক, সোর্স সাংবাদিক, প্রতারক সাংবাদিকরা গ্রেফতার হন। তবুও থেমে নেই ভুয়া সাংবাদিকরা। তাদের দিন শুরু চাঁদাবাজি দিয়েই সাংবাদিকদের মতো তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হন বুম কিংবা ক্যামেরা নিয়ে। বোঝার কোনো উপায় নেই যে কে নকল, আর কে আসল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ফেসবুক খুলেই যেমন খুশি তেমনভাবে তৈরি করা টোয়েন্টিফোর ডটকমযুক্ত রঙ বেরঙের কথিত নিউজ পোর্টালগুলো রীতিমতো ভয়ঙ্কর রূপে আবিভর্‚ত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক নিউজ পোর্টালগুলো সবার কাছেই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোয় সকালে একজনের সম্মানহানি করে, আবার সন্ধ্যা না পেরোতেই চিহ্নিত সিঁধেল চোরাকে বানিয়ে দেয়া হয় সাদা মনের মানুষ। তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার অনুমোদনহীন টিভি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল গোপলগঞ্জসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলছে শত শত অবৈধ আইপি টিভি চ্যানেল। এসব চ্যানেলে মূলত বাংলা ছবি ও অশ্লীল বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। অবৈধ স¤প্রচারের মাধ্যমে এসব টিভি চ্যানেল বিজ্ঞাপন থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভারতীয় কয়েকটি টিভি চ্যানেলের লোগো নকল করেও একাধিক ক্যাবল নেটওয়ার্কে যৌন উত্তেজক ওষুধের অশ্লীল বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।

বিটিআরসি এবং প্রদর্শন : ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে কেবলমাত্র বিটিআরসি’র লাইসেন্সধারী সকল আইএসপি প্রতিষ্ঠানসমূহ কমিশনের এসএস বিভাগের অনুমতি নিয়ে শর্ত সাপেক্ষে আইপিটিভি ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারবে।

কমিশন থেকে যেসকল শর্ত সাপেক্ষে আইপিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়। আইপি টিভি সেবা প্রদানকারী বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত (অথবা বাংলাদেশে ডাউনলিঙ্কের অনুমতিপ্রাপ্ত) দেশি/বিদেশি টিভি চ্যানেলের কনটেন্ট প্রচার করতে পারবে, তবে প্রতিটি চ্যানেল বা প্রোগ্রাম বা কনটেন্ট প্রচারে প্রয়োজনীয় চুক্তি/অনুমোদন/ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে এবং অনুমোদিত চ্যানেল ব্যতীত অন্য কোনো চ্যানেল ডাউনলিঙ্ক, বিপনন বা সঞ্চালন বা নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রদর্শন বা স¤প্রচার করতে পারবে না। সেবা প্রদানকারী টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী বিটিআরসি হতে ট্যারিফ অনুমোদন গ্রহণ করতঃ বাণিজ্যকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সেবা প্রদানকারী ব্যবহারকারীর বিস্তারিত লগ/ওচখড়ম প্রদর্শনের তারিখ হতে ন্যূনতম ৯০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে। সেবা প্রদানকারী বিটিআরসি’র নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় মনিটরিং ব্যবস্থা প্রদান করবে।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন টিভি বন্ধের প্রশাসনিক দায়িত্ব বিটিভির। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিটিভির মহাপরিচালকের কাছে বার বার চিঠি দেয়া হলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিটিভির বর্তমান কাঠামো এবং স্বল্প জনবল নিয়ে অনুমােদনহীন টিভি সম্প্রচার বন্ধে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছাড়া অবৈধ সম্প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছেই অনুমোদনহীন টিভির তালিকা রয়েছে। এসব আইপি টিভি কীভাবে পরিচালিত হয়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা জানেন।

গত বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিটিভিকে তিন দফা চিঠি দেয়া হয়েছে অনুমােদহীন টিভি মুভি বাংলা, আনন্দ বাংলা, চ্যানেল-৭, এসবি টিভি (স্বাধীন বাংলা) এবং ঘড়ি ও এমবি লোগো সংবলিত টিভি চ্যানেল বন্ধের জন্য। তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এসব টিভি চ্যানেল জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এসব টিভি মূলত ঘরোয়াভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কম্পিউটার থেকে সম্প্রচারের জন্য ভিডিওচিত্র ইসরাইলে ফ্রি স্যাটেলাইট স্টেশনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে কিছু ক্যাবল অপারেটর ডাউনলিঙ্ক করে এসব টিভির অনুষ্ঠান স¤প্রচার করে।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মন্ত্রণালয় আইপি টিভিগুলোর কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেছিল। প্রায় পাঁচ শতাধিক দরখাস্ত জমা পড়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজও আমরা গুছিয়ে এনেছি। যেগুলোর মান ভালো সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। এ সময় জয়যাত্রা নামে আইপি টিভির পরিচালনাকারী হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফাঁকফোকর দিয়ে দলের উপ-কমিটিতে এ ধরনের কারো ঢোকা সমীচীন হয়নি। এদের কমিটিতে রাখার বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা সুপারিশ করেছেন তাদেরও আরো জানাশোনার দরকার ছিল। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তার আইপি টিভির বিষয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মাঠে নামবে। কোয়াবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, প্রতিষ্ঠিত কোনো ক্যাবল নেটওয়ার্কে এ ধরনের অবৈধ টিভি সম্প্রচার করা হয় না। ছোট ছোট কিছু পকেট নেটওয়ার্ক আছে, যেখান থেকে এগুলো স¤প্রচারিত হতে পারে। অবৈধ আইপি টিভির বিষয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, আইপি টিভি ব্যাঙের মতো গজিয়ে উঠেছে। এসব টিভির নাম ব্যবহার করে কার্ড ঝুলিয়ে তথাকথিত সাংবাদিকরা চাঁদাবাজি করছেন।



 

Show all comments
  • প্রবাসী-একজন ২ আগস্ট, ২০২১, ৪:২৯ এএম says : 0
    সাংবাদিক হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেতে হলে বাংলাদেশে কোনো পরীক্ষা পাশ করতে হয় কি? কে ভূয়া সাংবাদিক আর কে আসল সাংবাদিক, তা বোঝার উপায় কি? ".... এসব টিভির নাম ব্যবহার করে কার্ড ঝুলিয়ে তথাকথিত সাংবাদিকরা চাঁদাবাজি করছেন।" - কথাটা ঠিক বুঝলাম না। সাংবাদিককে নিরপরাধ জনগণ টাকা দিতে যাবে কেন? সাংবাদিক-কার্ড ঝুলিয়ে যে কেউ আমার কাছে টাকা চাইলে আমি তাকে ভয় করে কেন টাকা দেবো? অবশ্য কেউ সাংবাদিক-কার্ড ঝুলিয়ে অস্ত্র নিয়ে কারো কাছে টাকা দাবি করে, সেটা ভিন্ন কথা। সাংবাদিক-কার্ড ঝুলিয়ে এমন কেউ করে নাকি?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইপি টিভি
আরও পড়ুন