Inqilab Logo

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২ আশ্বিন ১৪২৮, ০৯ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

সউদী গমনেচ্ছুরা শঙ্কায়

জনশক্তি রফতানিতে মন্থরগতি # নতুন ভিসা কার্যক্রম বন্ধ # খুলছে না টিটিসি ও মেডিক্যাল সেন্টার

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ৩ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

সউদী গমনেচ্ছুকর্মীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রভাবে সউদীর শ্রমবাজারে মন্থরগতি। ঢিলেঢালা লকডাউন চলাকালে ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাসের কার্যক্রম ও মেডিক্যাল সেন্টার বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রয়েছে। কিন্তু বিদেশগমনেচ্ছুদের গামকার মেডিক্যাল সেন্টার ও ঢাকাস্থ দূতাবাস বন্ধ থাকায় ভিসা স্ট্যাম্পিং এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াসম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিএমইটি থেকে পুরোদমে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করা হচ্ছে না। হাতে গোনা কিছু বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। ফলে সউদীগামী অনেক ফ্লাইট খালি যাচ্ছে। নতুন ভিসার কার্যক্রমও এগুচ্ছে না। এয়ারলাইন্সগুলো সিন্ডিকেট করে বিদেশগামীদের টিকিট মূল্য ৭ থেকে ৮ গুণ বাড়িয়েছে। এতে চড়া দামে টিকিট কিনতে বিদেশগামী কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে।
সউদীর বৃহৎ শ্রমবাজার ধরে রাখতে হলে অনতিবিলম্বে স্বাস্থবিধি মেনে সউদী দূতাবাসের কার্যক্রম চালু, সারাদেশের টিটিসিগুলো এবং মেডিক্যাল সেন্টারগুলো চালু করতে হবে। একাধিক জনশক্তি রফতানিকারক এ অভিমত বক্ত করেছেন। ভিসা প্রক্রিয়ার আংশিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও বাকি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সউদীগমনেচ্ছু হাজার হাজার কর্মী চরম হতাশায় ভুগছেন। ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায় সউদীগামী কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন। সউদীগামী কর্মীরা প্রতিনিয়ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোতে ধরনা দিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। সউদী নিয়োগকর্তারা দ্রæত কর্মী পাঠাতে তাগিদ দিচ্ছে এজেন্সিগুলোকে। অন্যথায় অন্য দেশ থেকে কর্মী নেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশগামী কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা দেয়া হচ্ছে। অনেক সউদীগামী কর্মী টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হবার উপক্রম। সউদী আরবে হোটেল কোয়ারেন্টিনের অর্থ যোগাতে না পেরে অনেক কর্মী দেশটিতে যেতে পারছে না।
কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বের অনেকে দেশের অর্থনীতি লন্ডভন্ড। করোনা মহামারি কিছুটা শিথিল হওয়ায় সউদী আরব, ওমান, সিঙ্গাপুর ও জর্ডানে কর্মী যাওয়া শুরু হওয়ায় জনশক্তি রফতানিতে কিছুটা গতি ফিরেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভ্রাতৃ-প্রতীম সউদীর আরবের সাথে বাংলাদেশের চমৎকার ও সৌহার্দ্যপূণ সর্ম্পক বিরাজ করছে। জনশক্তি রফতানির সর্বোচ্চ দেশ সউদীতে বর্তমানে বিশ লক্ষাধিক বাংলাদেশি নারী-পুরুষ কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, লিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, মরিশাস ও মালয়েশিয়াসহ অধিকাংশ দেশে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। রাজকীয় সউদী সরকার করোনা মহামারির মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিচ্ছে।
বিএমইটির সূত্রমতে, করোনা মহামারির মাঝে ২০২০ সালে সউদীতে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭২৬ জন নারী-পুরুষ কর্মী চাকরি লাভ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশটিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৪ জন কর্মী চাকরি লাভ করেছে। গত মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার ৪৩৭ জন নারী কর্মী গেছে সউদীতে। ২০১৯ সালে সউদীতে শুধু নারী কর্মীই চাকরি লাভ করেছে ৫৭৮ জনে। ১৯৯১ সাল থেকে গত মে মাস পর্যন্ত দেশটিতে নারী কর্মী চাকরি লাভ করেছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৯২ জন। টিটিসিগুলোতে ৩০ দিনের ট্রেনিং বন্ধ থাকায় শত শত নারী কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা ট্রেনিং দিয়ে সউদী যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী জানান। টিটিসি বন্ধ থাকায় এবং মুসানেদ সিস্টেমে আমিল মঞ্জিল ভিসা নারী কোটার পাশাপাশি পুরুষ কর্মীর কোটা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বিএমইটির পরিচালক (টিটিসি) সাখাওয়াত হোসেনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
করোনা মহামারির দরুন দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে সারাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র টিটিসিগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে সউদীগমনেচ্ছু নারী-পুরুষ কর্মীরা প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে সউদী যেতে পারছে না। এতে সউদীর শ্রমবাজার হাত ছাড়া হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম টিটিসির প্রধান মাসুদ রানা গতকাল ইনকিলাবকে জানান, করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ প্রথম সকল টিটিসিগুলো বন্ধ করা হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে দু’মাসের মতো টিটিসি সীমিত আকারে চালু করা হয়েছিল। পরে গত ১৪ এপ্রিল বিশেষ ব্যবস্থায় ১৫ দিন চালু ছিল। ওই মাস থেকে ৩০ দিনের ট্রেনিং বন্ধ রয়েছে। গত ১৬, ১৭ ও ১৮ জুলাই প্রি-ডিপার্চার কর্মীদের বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। গত ২০ জুলাই থেকে টিটিসিগুলোর ট্রেনিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিদেশগামী শত শত নারী-পুরুষ কর্মীর ট্রেনিং কার্যক্রমে অংশ নিতে না পেরে সউদী যেতে পারছে না।
বহির্বিশ্বে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স খাতকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছেন। কোভিড-১৯-এর ধাক্কায় সারা বিশ্বের স্বাভাবিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল অবস্থায়, তখনও বাংলাদেশি প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে করোনাকালে প্রবাসীরা কয়েকগুণ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। করোনাভাইরাসের মধ্যে এত প্রবাসী আয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকের হাতে প্রচুর তারল্য এসেছে। মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। রেমিট্যান্সের কারণে ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্য আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। করোনা মহামারির মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স হিসেবে ১২৬ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। গত মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৯৬ কোটি ও ফেব্রæয়ারিতে ১৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৯৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই লাখ ১০ হাজার ৬১০ কোটি টাকার বেশি। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি বাংলাদেশে।
রিক্রুটিং এজেন্সি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ রওয়াব এর সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম গতকাল সোমবার ইনকিলাবকে বলেন, করোনার কারণে সউদী দূতাবাসে ভিসা স্টেম্পিং বন্ধ, মেডিক্যাল সেন্টার এবং টিটিসি বন্ধ থাকায় সউদীগামী কর্মীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে হাতে গোনা কিছু কর্মীর অনুমতি দেয়ায় অনেক সউদীগামী যাত্রীর অভাবে বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট খালি যাচ্ছে। তিনি বলেন, সউদীর শ্রমবাজার ধরে রাখতে না পারলে জনশক্তি রফতানি খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় যেসব ভিসা স্টেম্পিং হয়েছে তা দ্রæত বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু করতে হবে। মেডিক্যাল ও সউদী দূতাবাসের কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে চালু করতে হবে। অন্যথায় হাজার হাজার ভিসার মেয়াদ ও কর্মীর মেডিক্যালের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সউদীগামী অনেক কর্মী করোনা টিকার প্রথম ডোজ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার সউদীর কোয়ারেন্টিনের অর্থ জোগার করতে না পেরে চাকরির ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সউদীর সর্ববৃহৎ শ্রমবাজারের স্বার্থে ক‚টনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এএফপি জানায়, বেশ কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্নয়নে ৪০% অভিবাসী কর্মী প্রধান ভ‚মিকা পালন করেছে। গালফ উপসাগরের তীরে আরব দেশগুলোতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করে, যাদের বেশিরভাগ এশিয়ান। তেল সমৃদ্ধ এসব দেশগুলো ২০১৪ সাল থেকে অপরিশোধিত তেলে দাম হ্রাস হওয়ায় কঠোর আঘাত পেয়েছে এবং করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ববাজারে এর প্রভাবের সাথে একটি নতুন ধাক্কা খেয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা এবং তেলের রাজস্ব হ্রাসের মুখোমুখি হয়ে ওমান এবং অন্যান্য উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের (জিসিসি) রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওমান, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন তাদের অর্থনীতির বৈচিত্র্য আনতে এবং লাখ লাথ নতুন স্নাতকদের কর্মশক্তিতে একীভ‚ত করতে চাইছে। দেশগুলো সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশিদের বদলে নাগরিদের অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আইন চালু করেছে।
জেদ্দা থেকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের কাউন্সেলর (শ্রম) মো. আমিনুল ইসলাম গত ৭ জুলাই এক সার্কুলারে জানিয়েছেন, সউদী মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ছয়টি বড় সেক্টর সউদীকরণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সেক্টরগুলো হচ্ছে, লিগ্যাল কনসালট্যান্সি, ল’ ইয়ার্স অফিস, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, রিয়াল এস্টেট কার্যক্রম, সিনেমা সেক্টর, ড্রাইভিং স্কুল, টেকনিক্যাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টর। এসব খাতে সউদী নাগরিকদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরি বাজারে সউদীদের গুণগত মান ও সংখ্যাগত অবস্থান বৃদ্ধির জন্য এ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কাউন্সেলর (শ্রম) আমিনুল ইসলাম জানান, সউদী প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কনস্যুলেট সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দেশটিতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিজ ঐক্যপরিষদ এর সভাপতি এম টিপু সুলতান সউদী শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল সোমবার জনশক্তি রফতানি খাত সংশ্লিষ্ট অফিস দপ্তর ও দূতাবাস লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার দাবিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও প্রবাসী সচিব ড. আহমদ মনিরুছ সালেহীনের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল থাকার পরেও বিমানের টিকিট ছাড়া বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া বন্ধ, ট্রেনিং সেন্টার, জিসিসিভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টার, ঢাকাস্থ সউদী দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসসমূহ সবই বন্ধ। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল থাকলেও জনশক্তি রফতানি শিল্প খাত কার্যত বন্ধই রয়েছে। আমরা অবিলম্বে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা রক্ষায়। জনশক্তি রফতানি শিল্প খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অফিস দফতর লকডাউনের আওতাবহিভর্‚ত রেখে দ্রæত খুলে দেয়ার ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
চিঠিতে আরো বলা হয়, বর্তমানে চলমান আছে একমাত্র সউদী শ্রমবাজার। সউদীর লক্ষাধিক নতুন ভিসা ও ডিমান্ড লেটার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কাছে জমা রয়েছে। যা এখন মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে। কারণ সউদী কোম্পানি ও নিয়োগকর্তারা দ্রুত কর্মীদের সউদীতে পাঠানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। দ্রুত কর্মী পাঠাতে না পারলে তারা ভিসা ও ডিমান্ড ক্যানসেল করার বিষয়টি আমাদের অবগত করছেন।



 

Show all comments
  • সাইফ আহমেদ ৩ আগস্ট, ২০২১, ১:১৯ এএম says : 0
    দ্রুত বিদেশি শ্রম বাজার খুলে দেওয়া হোক।
    Total Reply(0) Reply
  • সৈকত ফকির ৩ আগস্ট, ২০২১, ১:১৯ এএম says : 0
    বিদেশগামীদের পাশে দাড়ানোর অনুরোধ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সউদী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ