Inqilab Logo

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরী

২০ হাজার টাকায় নবজাতক বিক্রি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০৩ এএম

নীলফামারী সৈয়দপুরে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকায় নবজাতক ছেলে সন্তান বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দুই ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলার সৈয়দপুর শহরের নিচু কলোনি এলাকার মো. নাদিমের স্ত্রী জোসনা বেগম (৩২) প্রসব বেদনা নিয়ে সকাল সোয়া ৭টার দিকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর ওই নবজাতককে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন একই মহল্লার জনৈক জামিলা খাতুনের কাছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরের কুন্দল এলাকার রফিক মিয়া বলেন, হাসপাতালে মূল গেটে নবজাতকের বাবার সঙ্গে এক মহিলার ক্রেতার চুক্তিপত্র সম্পাদন হতে দেখি। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর শেষে মহিলাটি নবজাতকের বাবার হাতে এক বান্ডিল টাকা তুলে দেন। পরে এ ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে সৈয়দপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আব্দুর রহিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রেতা লিমা আকতারের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। লিমা আকতার সৈয়দপুর শহরের নিচু কলোনি মহল্লার খায়রুল ইসলামের স্ত্রী। নবজাতকের মা জোসনা বেগম জানান, জামিলা খাতুন আমার দূর সম্পর্কীয় ফুফাতো বোন। তার কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় তাকে স্বেচ্ছায় দিয়েছি। তবে আমার চিকিৎসার খরচ বাবদ তিনি আমাদের ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্ববাবধায়ক ডা. নবিউর রহমান জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি জানতে পেরে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওমেদুল হাসান সম্রাট ও গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুদা আফরোজসহ ওই ওয়ার্ডে পরিদর্শনে যাই। সেখানে নবজাতকের মা জোসনা বেগমকে দেখতে পাই। কিন্তু ওই সময় নবজাতককে বেডে পাওয়া যায়নি। সৈয়দপুর থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ নবজাতককে উদ্ধার করে। নবজাতক বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন