Inqilab Logo

বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮, ২২ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

উল্কাপাতের বিস্ফোরণে সবুজ হয়ে গেল তুরস্কের আকাশ

সরানো হয়েছে মানুষ ও গবাদি পশু, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে দাবানল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০২ এএম

হঠাৎ আকাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। আকাশ ছেয়ে গেল সবুজ আলোকচ্ছটায়। ভীষণ অবাক হয়ে সে ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন তুরস্কের ইজমিরের বাসিন্দারা। টুইটারে ওই সময়কার ভিডিও শেয়ার করেছেন এহসান এলাহি নামে এক ব্যক্তি। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, তুরস্কের ইজমিরে একটা সবুজ উল্কা দেখা গেছে। তবে এটা উল্কা নয়। ছোটো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা বোমা, যা স্যাটেলাইট থেকে ছোঁড়া হয়েছে। কারণ উল্কাপাত হলে বিস্ফোরণের জের ভ‚পৃষ্ঠেও চলে আসত। এদিকে স্থানীয় অনেকেই আবার বিস্ফোরণের কারণে রকেট কিংবা স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার গুজব ছড়িয়ে দেন।

কেউ কেউ আবার আরেকটু এগিয়ে ভিনগ্রহের প্রাণীদের ফ্লাইং সসারের তত্ত¡ দাঁড় করান। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব। তবে সব গুজবে পানি ঢেলে তুরস্কের অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক ড. হাসান আলী দাল জানান, উল্কাপাতের কারণেই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে। উল্কা সাধারণত বায়ুমÐলে এসে বিস্ফোরিত হয়। সাধারণত মানুষ একে উড়ন্ত তারা বলে থাকে। তবে উল্কাবৃষ্টির সময় এমন বিস্ফোরণ হতে পারে। ‘পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি’ হিসেবে পরিচিত এই উল্কাপাত প্রতিবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে হয়ে থাকে। আকাশে ৫০টির মতো উল্কা ঘণ্টায় এক লাখ মিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিতে ধেঁয়ে এসে বিস্ফোরিত হয়। যদিও বিস্ফোরণের কারণে উল্কার অবশিষ্টাংশ অধিকাংশ সময়ই পৃথিবীতে পৌঁছায় না। অপরদিকে, তুরস্কের দাবানল বিস্তৃতির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ উপক‚লীয় এলাকার কৃষকরা গবাদি পশুগুলোকে রক্ষার জন্য সমুদ্র উপক‚লে নিয়ে গেছেন। সাধারণত এই সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা ভিড় করেন। উপক‚লীয় মার্মারিস শহরে দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লড়াই করছেন।

খবরে বলা হয়, ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে তুরস্কের দাবানল। বোদরুম সমুদ্র সৈকত রিসোর্টের কাছে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা সেলচুক শানলি তার দুটি গরুকে ছেড়ে দেন। তারপর পরিবারের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র একটি গাড়িতে রেখে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়। শানলি হলেন দাবানল থেকে পালানো হাজার হাজার মানুষের একজন। এই দাবানলের ফলে ঘন হলুদ আভায় ঢেকে যায় সেখানকার আকাশ। সোমবার টানা ষষ্ঠ দিনের জন্য দমকলকর্মীরা তুরস্কের সমুদ্র সৈকতের কাছে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই করছে। প্রবল বাতাস এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে অন্তত আটজন লোক মারা গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা ছোট ছোট নৌকা, গাড়ি এবং ট্রাকের বহর যোগে রিসোর্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অনেক গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর এবং গবাদি পশু হারিয়েছে, প্রচÐ ধোঁয়ার মধ্যে তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়েছে। মারমারিসের মেয়র মোহাম্মদ ওকতায় বলেন, দুটি স্থানে এখনো আগুন জ্বলছে এবং অনুমান করা হচ্ছে যে ১১ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। সোমবার, একটি আগুন হিসারোনু গ্রামে পৌঁছে যায়। এ সময় সেখানে বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ি পুড়ে যায় এবং পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আগুন রাস্তার দিকে নেমে এলে পুলিশ অ্যাম্বুলেন্স ক্রু এবং সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। ওকতায় হবার্র্টক টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘আমাদের ফুসফুস গত পাঁচ দিন ধরে জ্বলছে’। আনাদোলু, ভয়েস অব আমেরিকা।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তুরস্ক


আরও
আরও পড়ুন